মিন্টুর অবৈধ বালু বাণিজ্য: মেঘনা নদীর বুকজুড়ে ভয়ংকর সাম্রাজ্য - দিগন্ত জার্নাল

মিন্টুর অবৈধ বালু বাণিজ্য: মেঘনা নদীর বুকজুড়ে ভয়ংকর সাম্রাজ্য

দিগন্ত জার্নাল ডেস্ক :

কিশোরগঞ্জের ভৈরবের মেঘনা নদীতে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের কাজে ব্যবহৃত ৫টি বাল্কহেড, যার বর্তমান বাজার মূল্য প্রায় সাড়ে ৩ কোটি টাকা, সেগুলোর মালিক মোশাররফ হোসেন মিন্টু। সবচেয়ে চাঞ্চল্যকর বিষয় হচ্ছে, গত বছরের ২২ মার্চ মেঘনা নদীতে বাল্কহেডের ধাক্কায় যে যাত্রীবাহী ট্রলারডুবিতে ৮ জনের মৃত্যু হয়েছিল, সেই বাল্কহেডের মালিকও ছিলেন এই মিন্টু। তবে, পুলিশ সেই বাল্কহেডটি আটক করলেও পরে ছেড়ে দিতে বাধ্য হয়।

শুক্রবার দৈনিক যুগান্তরের একটি প্রতিবেদনে ‘ভূমিদস্যুতা থেকে শত শত কোটি টাকার মালিক আওয়ামী লীগ নেতা মিন্টু’ শিরোনামে প্রতিবেদন প্রকাশের পর কিশোরগঞ্জ, ব্রাহ্মণবাড়িয়া ও নরসিংদী জেলার মানুষের মুখে মুখে ঘুরছে তার অপকর্মের তালিকা। এসব অপরাধের মধ্যে রয়েছে মেঘনা নদীর কিশোরগঞ্জ, ব্রাহ্মণবাড়িয়া ও নরসিংদী অঞ্চলে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন। ১৪ বছর ধরে মিন্টু ইজারা ছাড়াই বালু উত্তোলন বাণিজ্য চালিয়ে গেছেন। তার বাণিজ্যিক সাম্রাজ্য এতটাই বিস্তৃত ছিল যে, মেঘনার বুকজুড়ে ভৈরব থেকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া পর্যন্ত এই অবৈধ বালু উত্তোলন প্রক্রিয়া চলেছে।

এছাড়া, এই অবাধ বালু বাণিজ্যকে কেন্দ্র করে হুমকির মুখে পড়েছে মেঘনা সেতু, বন্দর বাজার ও আশপাশের জনপদ। স্থানীয়রা অভিযোগ করেছেন, মিন্টুর সন্ত্রাসী বাহিনীর হাতে গুম-খুন হওয়ার ভয় দেখিয়ে কেউ তার বিরুদ্ধে অভিযোগ করতে সাহস পেত না। এমনকি, প্রশাসনও তার প্রভাবিত হয়ে কাজ করেছে।

অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের কারণে নদীতে মাছ ধরার কাজে বাধা সৃষ্টি হয়েছে এবং নদী তীরবর্তী ফসলি জমিও আগেই তলিয়ে গেছে। এদিকে, সরাইল, ভৈরব ও রায়পুরা উপজেলার ১০-১২টি গ্রাম ভাঙনের হুমকিতে রয়েছে। দীর্ঘ ১৪ বছর ধরে, প্রতিদিন ১২ থেকে ১৫ লাখ টাকার অবৈধ বালু উত্তোলন বাণিজ্য চললেও প্রশাসন কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নেয়নি।

an adbox will go here