আবরার হত্যা: হাইকোর্টে ২০ আসামির মৃত্যুদণ্ড বহাল, ৫ জনের যাবজ্জীবন
দিগন্ত জার্নাল ডেস্ক :
বহুল আলোচিত বুয়েট শিক্ষার্থী আবরার ফাহাদ হত্যা মামলায় বিচারিক আদালতের দেওয়া ২০ আসামির মৃত্যুদণ্ড বহাল রেখেছেন হাইকোর্ট। এছাড়া ৫ আসামির যাবজ্জীবন কারাদণ্ডও বহাল রাখা হয়েছে।
রোববার (১৬ মার্চ) বিচারপতি এ কে এম আসাদুজ্জামান ও বিচারপতি সৈয়দ এনায়েত হোসেনের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এ রায় ঘোষণা করেন। এ সময় আদালতে রাষ্ট্রপক্ষে উপস্থিত ছিলেন অ্যাটর্নি জেনারেল মো. আসাদুজ্জামান, ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল কে বি রুমি, জহিরুল ইসলাম সুমন, নূর মোহাম্মদ আজমী এবং সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার সুমাইয়া আজিজ।
রায় ঘোষণার প্রক্রিয়া
রোববার সকাল ১১টায় বিচারপতি এ কে এম আসাদুজ্জামান ও বিচারপতি সৈয়দ এনায়েত হোসেনের বেঞ্চে রায় পড়া শুরু হয়। দীর্ঘ শুনানি শেষে আদালত আগের রায় বহাল রাখেন। এর ফলে ২০২১ সালে ঢাকার দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল-১ যে রায় দিয়েছিল, তা বহাল থাকল।
ঘটনার পটভূমি
২০১৯ সালের ৬ অক্টোবর রাতে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) শেরেবাংলা হল থেকে তড়িৎ ও ইলেকট্রনিকস প্রকৌশল বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র আবরার ফাহাদের লাশ উদ্ধার করা হয়। পরবর্তীতে জানা যায়, বুয়েটের কিছু শিক্ষার্থী ছাত্রশিবিরের কর্মী সন্দেহে তাকে হলের কক্ষে ডেকে নিয়ে নির্মমভাবে পিটিয়ে হত্যা করে।
এ ঘটনায় আবরারের বাবা চকবাজার থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। তদন্ত শেষে ২০১৯ সালের ১৩ নভেম্বর পুলিশ আদালতে ২৫ শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করে। অভিযোগপত্রে বলা হয়, আসামিরা পরস্পর যোগসাজশ করে পরিকল্পিতভাবে আবরারকে হত্যা করেছে।
২০২০ সালের ১৫ সেপ্টেম্বর আদালত আসামিদের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠন করেন। এরপর দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে মামলার বিচার শুরু হয়।
বিচারিক আদালতের রায়
দুই বছরের বিচার প্রক্রিয়া শেষে ২০২১ সালের ৮ ডিসেম্বর ঢাকার দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল-১ এই মামলার রায় ঘোষণা করেন। এতে ২০ জনকে মৃত্যুদণ্ড এবং ৫ জনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়।
পরে বিচারিক আদালতের দেওয়া মৃত্যুদণ্ডের অনুমোদনের (ডেথ রেফারেন্স) জন্য মামলার নথিপত্র ২০২২ সালের ৬ জানুয়ারি হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় জমা দেওয়া হয়। এরপর হাইকোর্টে ডেথ রেফারেন্স এবং আসামিদের আপিলের শুনানি শুরু হয়।
হাইকোর্টের চূড়ান্ত রায়
আজকের রায়ে বিচারিক আদালতের দেওয়া দণ্ড বহাল রাখেন হাইকোর্ট। ফলে ২০ আসামির মৃত্যুদণ্ড এবং ৫ জনের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড কার্যকর হওয়ার পথ সুগম হলো। তবে আসামিপক্ষ চাইলে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগে এই রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করতে পারবেন।
হত্যাকাণ্ডের প্রায় সাড়ে চার বছর পর হাইকোর্টের এই রায়ের মাধ্যমে বিচারিক প্রক্রিয়ার আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ সম্পন্ন হলো বলে মনে করছেন আইনজ্ঞরা।