সঠিক নিয়মে মিলাদ, কিয়াম এবং রসুল (সা.) এর অলৌকিক ক্ষমতা ওপর আমল
দিগন্ত জার্নাল:
“মিলাদ শরীফ” শব্দের অর্থ হলো “পবিত্র জন্ম”। অথচ এটি নিয়ে আলোচনা না করে অনেক সময় “আল্লাহুম্মা সাল্লি আলা” (দরুদ শরীফ) পাঠকেই “মিলাদ শরীফ” নামে অভিহিত করা হয়। এটি প্রকৃতপক্ষে একটি ভুল প্রয়োগ। যখন এ ভুল থেকে বের হয়ে আসা সম্ভব হবে, তখনই তাদের পক্ষে (যাদের ও’হা’বী বলে তুচ্ছতাচ্ছিল্য করা হয়) তাদের সুন্নি বলে গ্রহণ করা সম্ভব হবে।
কিয়াম:
কিয়ামে নবীর প্রতি দরুদ ও সালাম পাঠ করা হয়ে থাকে।
যদি কিয়ামকে নির্দিষ্ট বা নির্ধারিত না করা হতো এবং নবীজিকে “ইয়া নবী” বলে সম্বোধন না করে সম্মানজনক ভাষায় যেমন: ইয়া আইয়ুহান্নাবী, ইয়া নাবিয়্যাল্লাহ, ইয়া হাবিবাল্লাহ, ইয়া রাসূলাল্লাহ ব্যবহার করা হতো, তবে এটি আরও শোভন ও গ্রহণযোগ্য হতো। সেক্ষেত্রে তাদের (যাদের ও’হা’বী বলা হয়) সুন্নি বলে বুকে টেনে নেওয়া সম্ভব হতো।
নবী সা: নূর:
যদি নবীজিকে “নূরের সৃষ্টি” না ভেবে, নবীর হেদায়াত, দাওয়াত ও বাণীকেই “নূর” বলে বিশ্বাস করা হতো, তবে এ নিয়ে ভুল বোঝাবুঝি থাকতো না।
নবী সা: গায়েব জানেন:
যদি এমন ধারণা রাখা হতো যে নবীজির জ্ঞান আল্লাহ প্রদত্ত, তিনি নিজে থেকে গায়েব জানেন না, তাহলে এই ভুল বিশ্বাস দূর করা যেত।
নবী সা: হাজির নাজির:
যদি এমন ধারণা করা হতো যে নবীজির রওজা মোবারকের সামনে দাঁড়িয়ে দরুদ-সালাম পাঠ করলে নবীজির কাছে তা পৌঁছায় এবং দূর থেকে পাঠ করলে ফেরেশতাদের মাধ্যমে পৌঁছায়, তবে এটি সঠিকভাবে বোঝা যেত।
নবী সা: এর নাম শুনে চুম্বন করা:
নবীজির নাম শুনে চোখে-মুখে চুম্বন দেওয়া যদি সুন্নাত না ভেবে, বরং ব্যক্তিগত অনুভূতির প্রকাশ হিসেবে গণ্য করা হতো, তবে এ নিয়েও বিভ্রান্তি থাকতো না।
সমাপ্তি:
যদি আমার (স্বঘোষিত) সুন্নি ভাইয়েরা উপরোক্ত ভুল প্রয়োগ থেকে বের হয়ে আসতে পারেন, তবে যাদের তারা ও’হা’বী বলে উপেক্ষা করেন, তাদের সুন্নি বলে বুকে টেনে নেওয়া সহজ হবে।
যাদের ও’হা’বী বলে তুচ্ছতাচ্ছিল্য করা হয়, তারা কিন্তু সহীহ পদ্ধতিতে নবীর মিলাদ, কিয়াম এবং নবীর অলৌকিক ক্ষমতা ইত্যাদির ওপর আমল করেন।
মুফতি ওমর ফারুক বেলালী
লেখক, আলোচক ও গবেষক।