নতুন বাংলাদেশ গঠনে ন্যাশনাল মুভমেন্টের জন্য এক লক্ষ তরুণের খোঁজে মুহিব খান
দিগন্ত জার্নাল প্রতিবেদন
ঢাকা, ২৩ মার্চ ২০২৫: স্বাধীনতা, সুশাসন, উন্নয়ন, ন্যায়বিচার ও গণ-অধিকার—এই পাঁচটি রাজনৈতিক মূলমন্ত্র ধারণ করে এবং ‘নতুন চিন্তা, নতুন শক্তি, নতুন বাংলাদেশ’ স্লোগান সামনে রেখে ২০১৬ সালের ১৬ ডিসেম্বর ঢাকার ফটো জার্নালিস্ট মিলনায়তনে এক প্রচারবিহীন সাধারণ আয়োজনের মাধ্যমে চিন্তক, গবেষক,রাষ্ট্রচিন্তাবিদ এবং রাজনৈতিক প্রজ্ঞাবান জাগ্রত কবি মুহিব খান ‘ন্যাশনাল মুভমেন্ট’ নামে জাতীয় আন্দোলনের রাজনৈতিক চিন্তা ও পরিকল্পনা ঘোষণা করেন। তবে রাজনৈতিক বাস্তবতায় অনেকেই সে সময় এই আন্দোলনের তাৎপর্য বুঝতে ব্যর্থ হন এবং কবি ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব হিসেবে তাঁর উদ্যোগকে অবমূল্যায়নের চেষ্টা চলে।
ন্যাশনাল মুভমেন্ট এর ব্যাপারে জাগ্রত মুহিব খান বলেন “বাংলাদেশের হাজার বছরের ইতিহাস, রাজনৈতিক ও ভৌগোলিক বাস্তবতা, জাতীয় চরিত্র ও প্রবণতা গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করেই আমি এই পদক্ষেপ নিয়েছিলাম। যদিও অনেকে তখন আমার মূলমন্ত্রের তাৎপর্য অনুধাবন করতে পারেননি, তবে এখন দেখা যাচ্ছে, আমার ‘গণ-অধিকার’ মূলমন্ত্র থেকেই পরবর্তী সময়ে ‘গণ-অধিকার পরিষদ’ নামের একটি রাজনৈতিক দল গঠিত হয়েছে। আমার ‘নতুন বাংলাদেশ’ স্লোগানও দীর্ঘ আট বছর পর ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থানে প্রতিফলিত হয়েছে,” বলেন মুহিব খান।
তিনি আরও বলেন, “আমার ঘোষিত ‘১৬ কোটির ১৬ দফা’য় উত্থাপিত সংবিধান ও রাষ্ট্র সংস্কারের কিছু প্রস্তাব অভ্যুত্থানের পর নতুন সংবিধান সংস্কারের দাবি তুলা বিভিন্ন সংগঠন অনুসরণ করেছে। যা মিলিয়ে দেখলে সচেতন মহল সহজেই বুঝতে পারবেন।”
তিনি উল্লেখ করেন, “২০১৬ সালে ‘ন্যাশনাল মুভমেন্ট’ গঠনের পর কিছু সমালোচক ‘ন্যাশনাল’ শব্দটিকে ‘জাতীয়তাবাদী’ বলে অপপ্রচার চালায়, যদিও শব্দটি ‘ন্যাশনালিস্ট’ ছিল না। জাতীয় কেরাত সম্মেলন, জাতীয় কনভেনশন, জাতীয় নির্বাচন, জাতীয় পত্রিকা, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়, জাতীয় কবি, জাতীয় অধ্যাপক, জাতীয় ফল, ফুল, পশু, পাখি কিংবা জাতীয় ওলামা মাশায়েখ সম্মেলন নিয়ে তাদের কোনো আপত্তি ছিল না, অথচ ‘জাতীয় আন্দোলন’ মানতে তাদের আপত্তি ছিল। এ কারণে তখন ন্যাশনাল মুভমেন্টের আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম শুরু না করে আমি গবেষণা, নীরব গণসংযোগ এবং পর্যবেক্ষণের পথে হাঁটি।”
তিনি আরও বলেন, “আমি বুঝতে চেয়েছিলাম, সাধারণ রাজনৈতিক দলের কর্মীরা ও ইসলামী ছাত্র-তরুণ সমাজের সদস্যরা তাদের দলের প্রকৃত চরিত্র ও ভবিষ্যৎ সম্পর্কে ধারণা অর্জন করতে পারছে কি না। একসময় তারা নিজেরাই সিদ্ধান্ত নেবে, তারা জীবন ও সময় কোথায় ব্যয় করছে। বিরতির এই সময়টায় আমি আমার রাজনৈতিক চিন্তা কবিতা, সংগীত ও বক্তব্যের মাধ্যমে তুলে ধরেছি।”
তিনি জানান, “২০০৩ সাল থেকে আমার ‘ইঞ্চি ইঞ্চি মাটি’, ‘কেন-১-২-৩’, ‘আবার যুদ্ধ হবে’, ‘ইসলাম থাকবেই’, ‘এক হও’, ‘বাঁচাও বাংলাদেশ’, ‘তৈরি হও’, ‘বিজয়ের ৫০ পেরোলেও মুক্তি মেলেনি আজও’ এবং ২০২৪ সালের গণ-অভ্যুত্থানের প্রাক্কালে ৩ মার্চ রাতে প্রকাশিত ‘মুক্তি মিছিল’ গানটি পর্যন্ত প্রতিটি কবিতা ও গানের বাণী জাতীয় রাজনীতির স্পষ্ট দিকনির্দেশনা বহন করেছে এবং ধাপে ধাপে বাস্তবায়িত হয়েছে।”
জুলাই বিপ্লব ও আগস্টের গণ-অভ্যুত্থানের পর দেশের রাজনীতিতে যে অস্থিরতা তৈরি হয়েছিল, সেটি যে পুরোপুরি বাস্তব নয়, বরং রাজনৈতিক দলগুলোর প্রকৃত উদ্দেশ্য স্পষ্ট হতে আরও সময় লাগবে—তা তিনি শুরুতেই বুঝতে পেরেছিলেন। তিনি বলেন, “আমি যখন বিভিন্ন বিষয়ে সতর্ক করেছিলাম, তখন অনেকেই আমার মন্তব্যকে ভুল বলেছিল, কিন্তু এখন পরিস্থিতি প্রমাণ করছে যে আমার বিশ্লেষণ ধাপে ধাপে সত্য হয়েছে।”
তিনি বলেন, “দেশ ও জাতির এই ক্রান্তিকালে আমি আমার রাজনৈতিক চিন্তা, পরিকল্পনা ও কর্মপদ্ধতি নিয়ে সামনে এগোতে চাই। এর অংশ হিসেবে আমি আপাতত এক লক্ষ সৎ, সচেতন ও নির্ভরযোগ্য তরুণ বাছাই করতে চাই, যারা দেশ, ধর্ম ও সমাজবিরোধী ষড়যন্ত্র প্রতিরোধে চিন্তা, বুদ্ধি, শ্রম, সময় ও জীবন উৎসর্গ করতে প্রস্তুত।”
তিনি জানান, নির্বাচিত তরুণদের যথাযথ রাজনৈতিক প্রশিক্ষণের মাধ্যমে যোগ্য নেতৃত্ব হিসেবে গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে। তিনি বলেন, “আমি শুধু তাদেরই খুঁজছি, যারা ন্যায়তান্ত্রিক, সুন্দর, নিরাপদ রাষ্ট্র গঠনে আত্মবিশ্বাসী এবং দেশ ও জাতির উন্নয়নে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। খুব বেশি নয়, আপাতত মাত্র এক লক্ষ এমন তরুণই আমার প্রয়োজন।”