যক্ষ্মা রোগের চিকিৎসা কর্মসূচিতে গ্লোবাল ফান্ডের অর্থায়ন কমায় চ্যালেঞ্জ বাড়ছে
দিগন্ত জার্নাল ডেস্ক:
যক্ষ্মা রোগের চিকিৎসা কর্মসূচিতে গ্লোবাল ফান্ডের অর্থায়ন কমানোর কারণে রোগটি নিয়ন্ত্রণে চ্যালেঞ্জ বৃদ্ধি পাচ্ছে। এর ফলে যক্ষ্মায় আক্রান্ত রোগীরা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা করছে সংশ্লিষ্টরা। তবে জাতীয় যক্ষ্মা নিয়ন্ত্রণ কর্মসূচির (এনটিপি) কর্মকর্তারা দাবি করছেন, চ্যালেঞ্জ বৃদ্ধি পেলেও নিয়ন্ত্রণ কর্মকাণ্ডে তেমন প্রভাব পড়বে না।
এনটিপির একজন সাবেক লাইন ডিরেক্টর গণমাধ্যমকে জানান, প্রতি তিন বছর পর পর বাংলাদেশ গ্লোবাল ফান্ড থেকে ১২৫ মিলিয়ন ডলার সহায়তা পেত। এই ফান্ডের মাধ্যমে বছরে প্রায় ৬০ মিলিয়ন ডলার পাওয়া যেত, যা সরকারি স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠানগুলোর যক্ষ্মা শনাক্তকরণ যন্ত্র, ল্যাব ও রিএজেন্টে ব্যয় করা হতো। তবে গ্লোবাল ফান্ড বন্ধ হওয়ায় সরকারকে একাই এই কাজ করতে হবে, যা সরকারের জন্য কঠিন পরিস্থিতি সৃষ্টি করবে।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) অনুযায়ী, যক্ষ্মা একটি বায়ুবাহিত সংক্রামক রোগ যা মূলত ফুসফুসে আক্রমণ করে এবং কাশি, হাঁচি বা থুথুর মাধ্যমে ছড়ায়। এটি বিশ্বের ১৩ নম্বর মরণঘাতী রোগ হিসেবে পরিচিত। বাংলাদেশের মতো যক্ষ্মার উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোর মধ্যে অন্যতম। চিকিৎসকরা জানাচ্ছেন, অনিয়মিত আহার, পুষ্টির অভাব এবং অস্বাস্থ্যকর পরিবেশেও যক্ষ্মা হতে পারে। এই রোগের প্রধান উপসর্গগুলোর মধ্যে তিন সপ্তাহের বেশি কাশি, জ্বর, কফ এবং রক্ত যাওয়া, ওজন কমে যাওয়া, বুকে ব্যথা, দুর্বলতা ও ক্ষুধামন্দা রয়েছে।
এছাড়া, প্রতি বছর ২৪ মার্চ বিশ্ব যক্ষ্মা দিবস পালিত হয়, এবং এবারের প্রতিপাদ্য ছিল ‘প্রতিশ্রুতি, বিনিয়োগ ও সেবাদান দ্বারা সম্ভব হবে যক্ষ্মাযুক্ত বাংলাদেশ গড়া’। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা জানিয়েছে, বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতির কারণে আন্তর্জাতিক তহবিল হ্রাস পাওয়ায় ২০৩০ সালের মধ্যে যক্ষ্মা নির্মূলের লক্ষ্য অর্জনে হুমকি সৃষ্টি হতে পারে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বৈশ্বিক প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী ২০৩৫ সালের মধ্যে যক্ষ্মায় মৃত্যুহার ৯৫ শতাংশ কমানোর লক্ষ্য বাংলাদেশের রয়েছে। তবে গ্লোবাল ফান্ড ও ইউএসএআইডির অর্থায়ন বন্ধ হওয়ার কারণে দেশের যক্ষ্মা নিয়ন্ত্রণ কর্মসূচি চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন হচ্ছে।
এদিকে, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের জাতীয় যক্ষ্মা নিয়ন্ত্রণ কর্মসূচির লাইন ডিরেক্টর ডা. জুবাইদা নাসরীন গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, ইউএসএআইডি সহায়তা বন্ধ হলেও এটি নিয়ন্ত্রণে তেমন প্রভাব ফেলবে না।
আজ (সোমবার) বিশ্ব যক্ষ্মা দিবস উপলক্ষে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের প্রাঙ্গণে সচেতনতামূলক র্যালি ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হবে। সারা দেশে সরকারি-বেসরকারিভাবে যক্ষ্মা নির্মূলে নিয়োজিত সংস্থাগুলো বিভিন্ন অনুষ্ঠানের মাধ্যমে দিবসটি পালন করবে।