রাজশাহীতে আলুর দাম কমে ৮-থেকে ৯ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে - দিগন্ত জার্নাল

রাজশাহীতে আলুর দাম কমে ৮-থেকে ৯ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে

দিগন্ত জার্নাল ডেস্ক:

রাজশাহীতে আবারও আলুর দাম উল্লেখযোগ্য ভাবে কমেছে। গত তিনদিনে মাঠ পর্যায়ে ৮ থেকে ৯ টাকা কেজি দরে আলু বিক্রি হচ্ছে, যা গত ৩০ বছরে সবচেয়ে বড় দরপতন বলে দাবি করেছেন কৃষকরা। অনেকে বিক্রি না করে খোলা মাঠে শুকিয়ে বিভিন্ন ভাবে চেষ্টা করছেন প্রাথমিক ভাড়া করেও আলো তুলতে গিয়ে সাড়ে তিনটা আড়াই ঘন্টা সময়সংরক্ষণের চেষ্টা করছেন।

কৃষকদের অভিযোগ, শ্রমিক ভাড়া করেও আলু তুলতে গিয়ে তাদের লোকসান গুনতে হচ্ছে। হিমাগার মালিক ও মজুতদারদের কারসাজির কারণেই এই অস্বাভাবিক দরপতন ঘটেছে। তানোর উপজেলার কৃষ্ণপুর গ্রামের চাষি রফিকুল ইসলাম জানান, ফেব্রুয়ারির শেষ থেকে আলু তোলা শুরু হয়, তখন প্রতি কেজির দাম ছিল ১২-১৩ টাকা, যা এখন ৮-৯ টাকায় নেমে এসেছে। তার বিঘাপ্রতি জমিতে ৬৯ মণ আলু উৎপাদন হয়েছে, কিন্তু বাজারে বিক্রি করে ইজারার খরচও উঠছে না।

মোহনপুর উপজেলার চাষি মাজহারুল ইসলামের অভিযোগ, হিমাগারে অগ্রিম বুকিং দিয়েও আলু রাখা যাচ্ছে না। দলীয় প্রভাব খাটিয়ে কিছু ব্যক্তি জোরপূর্বক হিমাগারে আলু সংরক্ষণের সুযোগ পাচ্ছেন, আর সাধারণ কৃষকরা জায়গা না পেয়ে মাঠেই আলু শুকিয়ে ফেলছেন।

রাজশাহী কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, চলতি মৌসুমে লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেশি, প্রায় ৪০ হাজার হেক্টর জমিতে আলু আবাদ হয়েছে। এতে প্রায় ১১ লাখ টন আলু উৎপাদনের সম্ভাবনা থাকলেও, জেলায় ৩৬টি হিমাগারের ধারণক্ষমতা মাত্র ৪ লাখ টন, ফলে প্রায় ৭ লাখ টন আলু সংরক্ষণের বাইরে থেকে যাচ্ছে।

এ বিষয়ে রহমান কোল্ড স্টোরেজের ম্যানেজার আব্দুল মুনিম বলেন, “দলীয় লোকেরা কিছু আলু সংরক্ষণে বাধ্য করছেন, তবে সেটার পরিমাণ বেশি নয়। এ বছর চাহিদার তুলনায় আলুর উৎপাদন বেশি হওয়ায় হিমাগারগুলোতে জায়গা হচ্ছে না।”

অন্যদিকে, কৃষকরা দাবি করছেন, কোল্ড স্টোরেজে জায়গা না পাওয়ার পাশাপাশি সংরক্ষণ ব্যয়ও দ্বিগুণ হয়েছে। গত বছর প্রতি কেজি সংরক্ষণের খরচ ছিল ৪ টাকা, যা এ বছর বেড়ে ৮ টাকা হয়েছে।

এ প্রসঙ্গে কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগের অতিরিক্ত পরিচালক ড. মোতালেব হোসেন বলেন, “আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় এবার আলুর উৎপাদন ভালো হয়েছে। তবে সংরক্ষণের ব্যবস্থা পর্যাপ্ত না থাকায় বাজারে সরবরাহ বেড়ে গেছে, ফলে আলুর দাম অস্বাভাবিকভাবে কমে গেছে।”

an adbox will go here