হায়দ্রাবাদের মাঠেই লখনউয়ের প্রতিশোধ, শার্দূল-পুরানের দুর্দান্ত নৈপুণ্য
দিগন্ত জার্নাল ডেস্ক:
গত আইপিএলে হায়দ্রাবাদের মাঠে ১০ উইকেটে পরাজিত হওয়া লখনউ সুপার জায়ান্টস এবার একই মাঠে সানরাইজার্স হায়দ্রাবাদকে পাঁচ উইকেটে হারিয়ে ‘প্রতিশোধ’ নিল। দলের জয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন শার্দূল ঠাকুর ও নিকোলাস পুরান। শার্দূল বল হাতে ৪ উইকেট নিয়ে দুর্দান্ত বোলিং করেন, আর পুরান মাত্র ২৬ বলে ৭০ রানের বিধ্বংসী ইনিংস খেলে দলকে জয়ের পথে নিয়ে যান। আগে ব্যাট করে হায়দ্রাবাদ ১৯০/৯ রান তুললেও লখনউ ২৩ বল বাকি থাকতেই লক্ষ্যে পৌঁছে যায়।
টসে জিতে লখনউ অধিনায়ক ঋষভ পন্থ বোলিং নেওয়ার পর অনেকে ভাবছিলেন, হায়দ্রাবাদ বিশাল স্কোর গড়বে। বিশেষ করে আগের ম্যাচে ২৮৬ রান করা দলটির ব্যাটিং লাইনআপে ট্রেভিস হেড, অভিষেক শর্মা, ঈশান কিশনের মতো বিধ্বংসী ব্যাটার থাকায় প্রত্যাশা ছিল আরও বড় সংগ্রহের। কিন্তু শার্দূলের দুর্দান্ত স্পেলে হায়দ্রাবাদ ২০০ রানও করতে পারেনি।
প্রথম ওভারে শার্দূল মাত্র ৬ রান দেন, আর দ্বিতীয় ওভারে আবেশ খান দেন ৯ রান। হায়দ্রাবাদের সমর্থকরা ছক্কার অপেক্ষায় থাকলেও শার্দূল দ্রুত অভিষেক (০) ও ঈশান (০)-কে ফিরিয়ে চাপে ফেলে দেন। হ্যাটট্রিক বাঁচাতে নীতীশ রানা কোনো মতে এক রান নেন। তবে হেড একাই প্রতিরোধ গড়ার চেষ্টা করেন। কিন্তু অষ্টম ওভারে প্রিন্স যাদবের বলে বোল্ড হয়ে যান তিনি। একই ওভারে হাইনরিখ ক্লাসেনও (২৬) রান আউট হন। এরপর নীতীশ রানা (৩২) কিছুটা লড়াই করলেও শেষ দিকে অনিকেত বর্মা (১৩ বলে ৩৬) ও প্যাট কামিন্স (১৮) কিছুটা রানের গতি বাড়ান। তবে শেষ পর্যন্ত ১৯০ রানেই থামে হায়দ্রাবাদ।
বল করতে নেমে শুরুতেই চমক দেয় হায়দ্রাবাদ। অভিষেক শর্মার হাতে নতুন বল তুলে দেন কামিন্স। প্রথম ওভারে মাত্র ৩ রান দিয়ে আস্থার প্রতিদান দেন অভিষেক। তবে দ্বিতীয় ওভারের প্রথম বলেই এডেন মার্করাম (১) আউট হন মহম্মদ শামির বলে। তখন মনে হচ্ছিল, কম রানেও ম্যাচ জিততে পারে হায়দ্রাবাদ।
কিন্তু মিচেল মার্শ ও নিকোলাস পুরান সেই সম্ভাবনা গুঁড়িয়ে দেন। প্রথম ওভারে ৩ রান দেওয়া অভিষেক নিজের দ্বিতীয় ওভারে ১৮ রান খরচ করেন, আর সিমরজিৎ সিংহের ওভার থেকে আসে ১৭ রান। পাওয়ার প্লেতেই ৭৭/১ তুলে নেয় লখনউ। পুরান মাত্র ১৮ বলে অর্ধশতক করেন, শেষ পর্যন্ত ২৬ বলে ৭০ রান করে এলবিডব্লিউ হন।
পুরানের পর মার্শ (৩১ বলে ৫২) কিছুটা সময় আগ্রাসী খেলার চেষ্টা করেন, কিন্তু কামিন্সের বলে ক্যাচ তুলে দিয়ে ফেরেন। তবে ঋষভ পন্থের স্লো ব্যাটিং (১৫ বলে ১৫) দলের রান তোলার গতি কিছুটা কমিয়ে দেয়। যদিও শেষ দিকে আব্দুল সামাদ (৮ বলে ২২) ও ডেভিড মিলার (৭ বলে ১৩) ঝড় তুলে সহজেই জয় নিশ্চিত করেন লখনউ।