সরকার উৎখাতে ষড়যন্ত্র: ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগের পলাতক নেতাদের নতুন ষড়যন্ত্র
দিগন্ত জার্নাল ডেস্ক:
ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগের পলাতক নেতারা ধীরে ধীরে তাদের ষড়যন্ত্রের জাল ছড়িয়ে দিতে শুরু করেছেন। বিশেষ করে ভারতসহ বেশ কিছু দেশে আশ্রিত সাবেক মন্ত্রী, সংসদ সদস্য এবং আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতারা একত্রিত হয়ে নয়া ষড়যন্ত্রের প্ল্যান বাস্তবায়নে তৎপর হয়েছেন। মূলত বাংলাদেশের ভেতরে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরি করে ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সরকারকে উৎখাত করাই তাদের প্রধান লক্ষ্য। এসব নেতারা নিজেদের বৈদেশিক আশ্রয়ে বসে সরকার বিরোধী কার্যক্রমে পুরোদমে জড়িত হচ্ছেন। কলকাতা, আগরতলা, মেঘালয়, দিল্লির মতো ভারতীয় অঞ্চলগুলোতে এই পলাতক নেতারা নির্বিঘ্নে তাদের ষড়যন্ত্র কার্যকর করতে সক্ষম হচ্ছেন।
গত কয়েক মাসে অন্তত পাঁচবার কলকাতা ও অন্যান্য স্থানে বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে, যেখানে তাদের ষড়যন্ত্র পরিকল্পনা চূড়ান্ত করা হয়েছে। এই বৈঠকগুলোতে একত্রিত হয়ে তারা মূলত একে অপরকে তৎপরতার নির্দেশনা দিচ্ছেন। বিশেষত, গত রমজান মাসে কলকাতার রাজারহাট এলাকায় অবস্থিত নিউটাউন প্লাজায় একটি ইফতার পার্টির আয়োজন করা হয়, যেখানে পলাতক আওয়ামী লীগ নেতারা অংশ নেন। এতে সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল, আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য জাহাঙ্গীর কবির নানক, যুবলীগ নেতা ইসমাইল হোসেন চৌধুরী সম্রাট এবং গাজীপুর সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র জাহাঙ্গীর আলমসহ বিভিন্ন নেতা উপস্থিত ছিলেন।
এ ছাড়াও, পরবর্তী দিন একই স্থানে ছাত্রলীগের পলাতক নেতারা বৈঠকে মিলিত হন। বৈঠকের মূল উদ্দেশ্য ছিল ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সরকারকে উৎখাত করতে পরিকল্পনা করা। সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী কামাল এই বৈঠকে বলেন, ‘‘অস্ত্র এবং অর্থ-এসবের কোনো অভাব হবে না। যেভাবে পরিকল্পনা করা হচ্ছে, সেভাবে কাজটা ঠিকঠাক করুন’’। তিনি আরও জানান, ‘‘যত দ্রুত সম্ভব ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সরকারকে উৎখাত করা যাবে, আওয়ামী লীগের ফিরে আসাটাও তত সহজ হবে’’।
আন্তর্জাতিক ষড়যন্ত্রের প্রসঙ্গে, পলাতক নেতাদের মধ্যে অন্যতম আলাউদ্দিন আহমেদ চৌধুরী নাসিম কলকাতার নিউ টাউন এলাকায় একটি বৈঠক আয়োজন করেন, যেখানে শতাধিক নেতারা উপস্থিত ছিলেন। ওই বৈঠকে তিনি শেখ হাসিনার নির্দেশনা বাস্তবায়ন করার জন্য সবাইকে সক্রিয় হওয়ার আহ্বান জানান। আলাউদ্দিন আহমেদ চৌধুরী নাসিম একসময় শেখ হাসিনার প্রটোকল অফিসার ছিলেন এবং বর্তমান সময়েও তিনি ভারতের আশ্রয়ে রয়েছেন।
এছাড়া, পশ্চিমবঙ্গের কলকাতার বাইরে যুক্তরাজ্যের সেন্ট্রাল লন্ডনে একটি মিলনায়তনে আওয়ামী লীগের উদ্যোগে ইফতার পার্টি এবং বিজয় দিবসের আলোচনাসভার আয়োজন করা হয়। এতে আওয়ামী লীগের সাবেক মন্ত্রী আবদুর রহমান, সাংগঠনিক সম্পাদক খালিদ মাহমুদ চৌধুরী, সাবেক মন্ত্রী শফিকুর রহমান চৌধুরীসহ ১৫০ জনেরও বেশি নেতা অংশ নেন। এখানে তারা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সরকারকে উৎখাত করতে সর্বশক্তি নিয়োগের সিদ্ধান্ত নেন।
এছাড়া, অস্ট্রিয়া, বেলজিয়াম, কানাডা, যুক্তরাষ্ট্রসহ বিভিন্ন দেশে পালিয়ে থাকা আওয়ামী লীগের নেতারা বিভিন্ন আলোচনা সভা ও ইফতার পার্টি আয়োজন করে। বিশেষ করে বেলজিয়ামে সাবেক মন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ প্রধান অতিথি হিসেবে অংশ নেন।
আন্তর্জাতিক ষড়যন্ত্রের পাশাপাশি, পলাতক আওয়ামী লীগ নেতারা তাদের দেশে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরি করতে পুরোদমে জড়িত রয়েছেন। তাদের এসব ষড়যন্ত্রের লক্ষ্য দেশে নাশকতা সৃষ্টি করা এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গুজব ছড়িয়ে জনগণের মধ্যে আতঙ্ক তৈরি করা। ঈদ বা বৈশাখের পরবর্তী সময়কে কেন্দ্র করে বড় ধরনের নাশকতার পরিকল্পনাও রয়েছে।
এদিকে, গোয়েন্দা সূত্র অনুযায়ী, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এসব ষড়যন্ত্রের ওপর নজর রাখছে এবং প্রতিরোধের জন্য প্রস্তুত রয়েছে। এসব ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে প্রয়োজনে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সবশেষে, বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমেদ এক সংবাদ সম্মেলনে বলেছেন, ‘‘পতিত স্বৈরাচার শেখ হাসিনা এবং তার দলের লোকজন বিদেশে বসে দেশকে অস্থিতিশীল করার জন্য ষড়যন্ত্র শুরু করেছে। তারা ফ্যাসিবাদী কায়দায় ফিরে আসতে নানারকম ষড়যন্ত্র করবে, এটাই স্বাভাবিক’’। তিনি আরও বলেন, ‘‘তবে, দেশপ্রেমিক সবাইকে ইস্পাত কঠিন ঐক্য গড়ে তুলতে হবে’’।
এভাবে, পলাতক নেতাদের ষড়যন্ত্র এবং সরকারের বিরুদ্ধে তাদের চলমান অপপ্রচার ক্রমেই আরো তীব্র হয়ে উঠছে, যা দেশের ভেতরে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টি করতে পারে।