হেফাজতে ইসলামের মহাসমাবেশ ৩ মে, জাতীয় কনভেনশনেরও ঘোষণা
দিগন্ত জার্নাল ডেস্ক:
বাংলাদেশের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছে হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের আসন্ন মহাসমাবেশ। সংগঠনটির যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা আজিজুল হক জানিয়েছেন, আগামী ৩ মে (শনিবার) ঢাকায় বিশাল মহাসমাবেশ অনুষ্ঠিত হবে। এই সমাবেশের মূল উদ্দেশ্য ২০১৩ সালের ৫ মে শাপলা চত্বরে সংঘটিত গণহত্যা, পিলখানা হত্যাকাণ্ড, গুম, খুন, ২০২১ সালের মোদিবিরোধী আন্দোলন এবং ২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনের সময় সংঘটিত গণহত্যার বিচার দাবি করা। একইসঙ্গে, হেফাজতে ইসলামের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে দায়ের করা সব মিথ্যা মামলা প্রত্যাহারের দাবিও জানানো হবে।
হেফাজতে ইসলামের কেন্দ্রীয় খাস কমিটির এক জরুরি সভায় এই মহাসমাবেশের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। সংগঠনটির মহাসচিব মাওলানা সাজিদুর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই বৈঠকে আরও সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে যে, আগামী জুন মাসে দেশের সব জেলা ও মহানগরের প্রতিনিধিদের নিয়ে জাতীয় কনভেনশন আয়োজন করা হবে। সংগঠনটি মনে করছে, এই কনভেনশন তাদের পরবর্তী কর্মপন্থা নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
শুক্রবার (২৮ মার্চ) বিকাল ৩টায় ঢাকার জামিয়া মাদানিয়া বারিধারা মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের কেন্দ্রীয় নায়েবে আমির মাওলানা মাহফুজুল হক, ড. আহমদ আবদুল কাদের, মাওলানা আহমাদ আলী কাসেমী, সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা জুনাইদ আল হাবিব, যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা মুহাম্মদ মামুনুল হক, মাওলানা আজিজুল হক ইসলামাবাদী, অর্থ সম্পাদক মাওলানা মুফতি মনির হোসাইন কাসেমী, প্রচার সম্পাদক মুফতি কেফায়েতুল্লাহ আজহারীসহ সংগঠনের অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ নেতারা।
সভায় আলোচনার ভিত্তিতে জাতিসংঘের ফ্যাক্ট-ফাইন্ডিং মিশনের প্রতিবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আওয়ামী লীগকে রাষ্ট্রীয়ভাবে নিষিদ্ধ করার দাবি জানানো হয়। নেতারা অভিযোগ করেন, আওয়ামী লীগ গত ১৬ বছর ধরে মানবতাবিরোধী অপরাধে লিপ্ত রয়েছে এবং অবৈধ ক্ষমতা টিকিয়ে রাখতে গিয়ে দলটি সন্ত্রাস ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের মতো অপরাধ করেছে। হেফাজতের নেতাদের মতে, দলটির কর্মকাণ্ড দেশ ও জাতির জন্য ভয়াবহ পরিণতি ডেকে আনছে।
নেতারা আরও দাবি করেন, ২০০৯ সালের সন্ত্রাস দমন আইনে প্রশাসনিক আদেশের মাধ্যমে এবং ১৯৭৮ সালের ‘দ্য পলিটিক্যাল পার্টিস অর্ডিন্যান্স’ অনুযায়ী সরকার চাইলে আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধ করতে পারে। হেফাজতের মতে, সরকার যদি এ বিষয়ে কার্যকর পদক্ষেপ নেয়, তাহলে দেশে সুশাসন প্রতিষ্ঠার পথ প্রশস্ত হবে।
সভায় বক্তারা আরও বলেন, আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় থাকার জন্য রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের ওপর দমন-পীড়ন চালিয়েছে, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে ব্যবহার করে গুম, খুন ও হামলা চালিয়েছে এবং দেশের গণতান্ত্রিক ব্যবস্থাকে ধ্বংস করে দিয়েছে। তারা মনে করেন, এই পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের জন্য জাতীয় ঐক্য গড়ে তোলা জরুরি।
হেফাজতে ইসলামের নেতারা দাবি করেন, এই সমাবেশ এবং জাতীয় কনভেনশনের মাধ্যমে তারা দেশের জনগণের মধ্যে সচেতনতা তৈরি করতে চান। তাদের মতে, বর্তমান শাসনব্যবস্থার বিরুদ্ধে সকল মতাদর্শের মানুষের একতাবদ্ধ হওয়া প্রয়োজন।
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, হেফাজতে ইসলামের এই মহাসমাবেশ রাজনৈতিকভাবে বেশ গুরুত্বপূর্ণ হতে যাচ্ছে। বিশেষ করে, ২০১৩ সালের শাপলা চত্বরের ঘটনা থেকে শুরু করে সাম্প্রতিক ছাত্র আন্দোলন পর্যন্ত নানা রাজনৈতিক ঘটনার প্রেক্ষাপটে হেফাজতে ইসলাম নতুনভাবে সক্রিয় হয়ে উঠেছে। এ ছাড়া সংগঠনটির জাতীয় কনভেনশনের ঘোষণাও রাজনৈতিক মহলে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
এই মহাসমাবেশ রাজনৈতিক অঙ্গনে কী ধরনের প্রভাব ফেলবে এবং সরকার ও প্রশাসনের প্রতিক্রিয়া কী হবে, তা নিয়ে এখনো আলোচনা চলছে। হেফাজতের নেতারা আশা করছেন, এই সমাবেশ ও কনভেনশনের মধ্য দিয়ে তাদের দাবি আদায়ের পথে বড় ধরনের অগ্রগতি হবে।