ঈদের নামাজ শেষে ফিলিস্তিনবাসীর জন্য মোনাজাত ও দোয়া - দিগন্ত জার্নাল

ঈদের নামাজ শেষে ফিলিস্তিনবাসীর জন্য মোনাজাত ও দোয়া

দিগন্ত জার্নাল ডেস্ক:

জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমসহ বাংলাদেশের ঈদগাহে ঈদের নামাজের পর বিশেষ দোয়ায় দেশ ও জাতির কল্যাণ কামনার পাশাপাশি ফিলিস্তিনের নির্যাতিত মুসলিমদের জন্য আল্লাহর রহমত প্রার্থনা ও ফিলিস্তিনসহ সকল যুদ্ধবিধ্বস্ত রাষ্ট্রের স্বাধীনতা চাওযার হয়েছে রব্বে কারিমের কাছে। সোমবার সকাল ৭টায় প্রথম জামাত অনুষ্ঠিত হয় এবং সাড়ে ৭টায় মোনাজাতের মাধ্যমে নামাজ শেষ হয়। নামাজের ইমামতি করেন বায়তুল মোকাররমের পেশ ইমাম হাফেজ মুফতি মাওলানা মুহিববুল্লাহিল বাকী। তিনি মোনাজাতে গাজাসহ বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে নির্যাতিত মুসলমানদের মুক্তি, দেশের শান্তি, সমৃদ্ধি ও মুসলিম উম্মাহর ঐক্যের জন্য দোয়া করেন। মুসল্লিদের ঈদুল ফিতরের আনন্দ আরও অর্থবহ করতে একে অপরের প্রতি সহানুভূতিশীল হওয়ার আহ্বান জানানো হয়।

এবারও বায়তুল মোকাররমে পর্যায়ক্রমে ঈদের পাঁচটি জামাত অনুষ্ঠিত হবে। প্রথম জামাত শেষে সকাল ৮টা, ৯টা, ১০টা এবং সর্বশেষ জামাত সকাল ১০টা ৪৫ মিনিটে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা। প্রতিটি জামাতের পর মোনাজাত করা হবে। অন্যদিকে, ঈদ উপলক্ষে বায়তুল মোকাররম এলাকায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা সার্বক্ষণিক দায়িত্ব পালন করছেন।

এক মাস সিয়াম সাধনার পর পবিত্র ঈদুল ফিতর উদযাপিত হচ্ছে সম্পূর্ণ ভিন্ন পরিবেশে। সারা দেশে ঈদ পালিত হচ্ছে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে। বিগত বছরগুলোতে ঈদ আনন্দ থাকলেও ছিল নানা বিধি-নিষেধ, ভয়, শঙ্কা ও গ্রেফতার আতঙ্ক। বিশেষ করে বিরোধী দলের নেতাকর্মীদের জন্য দিনটি ছিল চাপা কষ্টের, কারণ তারা স্বাধীনভাবে পরিবার-পরিজনের সঙ্গে ঈদ উদযাপন করতে পারতেন না। অনেকে ছিলেন কারাগারে, কেউ কেউ গুম বা হত্যার শিকার হয়েছেন, ফলে এসব পরিবারের জন্য ঈদ হয়ে উঠত বেদনার।

তবে গত ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার তীব্র গণআন্দোলনের মুখে ফ্যাসিস্ট সরকারের পতনের পর দেশে অবারিত স্বাধীনতা বিরাজ করছে। আর এই পরিবর্তনের মধ্যেই এসেছে এবারের ঈদ। চাঁদ রাত থেকেই রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন শহর-গ্রামজুড়ে ছিল আনন্দমুখর পরিবেশ। আতশবাজি, মিছিল আর সামাজিক উৎসবে মুখরিত ছিল চারপাশ। আজ ঈদের দিনেও বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও সংগঠন নানা কর্মসূচি হাতে নিয়েছে।

সোমবার সকালে ঈদের নামাজ আদায়ের মধ্য দিয়ে শুরু হয়েছে ঈদের আনুষ্ঠানিকতা। কোলাকুলি, স্বজনদের কবর জিয়ারত, আত্মীয়-স্বজনের বাড়িতে যাওয়া, শুভেচ্ছা বিনিময়ের মাধ্যমে সময় কাটাচ্ছেন ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা। শাওয়াল মাসের চাঁদ দেখা যাওয়ায় গতকালই ঈদ উদযাপনের ঘোষণা আসে, এরপর থেকেই শুরু হয় সামাজিক মাধ্যমে শুভেচ্ছা বিনিময়। জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের কালজয়ী গান ‘ও মন রমজানের ওই রোজার শেষে এলো খুশির ঈদ’ বেজে চলেছে টেলিভিশন ও রেডিওতে।

রমজান মাস আল্লাহর রহমত, বরকত ও মাগফিরাতের বার্তা নিয়ে আসে। সিয়াম সাধনার মাধ্যমে আত্মশুদ্ধির পর মাহে রমজান শেষে ঈদের আনন্দ এক অনন্য অনুভূতি সৃষ্টি করে। এই উৎসব ধনী-গরিবের মধ্যে সৌহার্দ্য তৈরি করে এবং ফিতরার মাধ্যমে অসহায়দের পাশে দাঁড়ানোর শিক্ষা দেয়।

রাজধানীতে জাতীয় ঈদগাহে ঈদের প্রধান জামাত অনুষ্ঠিত হয়েছে সকাল সাড়ে আটটায়। ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি) জানিয়েছে, এবার ঈদগাহে ৩৫ হাজার মুসল্লি একসঙ্গে নামাজ আদায় করতে পেরেছেন। নারীদের জন্য আলাদা নামাজের ব্যবস্থা, ওজুখানা, শৌচাগার ও সুপেয় পানির সুবিধা রাখা হয়েছে। মুসল্লিদের আরামদায়ক অভিজ্ঞতার জন্য বিছানো হয়েছে উন্নতমানের কার্পেট। প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সহায়তার জন্য দুটি মেডিকেল টিমও ছিল।

ঢাকা উত্তর সিটির উদ্যোগে পুরাতন বাণিজ্য মেলা মাঠে ঈদ জামাত অনুষ্ঠিত হয়েছে। সেখান থেকে ঈদ আনন্দ মিছিল বের করা হয় এবং একটি ঈদ মেলার আয়োজন করা হয়। সংসদ ভবন এলাকায় হয়েছে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান।

এছাড়া রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন ঈদগাহ, পাড়া-মহল্লার মসজিদগুলোতে ঈদুল ফিতরের জামাত অনুষ্ঠিত হয়েছে। সব মিলিয়ে দীর্ঘ প্রায় দেড় দশক পর দেশের মানুষ প্রথমবারের মতো স্বাধীনভাবে, নিজেদের ইচ্ছামতো ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের মেলবন্ধনে ঈদ উদযাপন করছে।

an adbox will go here