সুন্দরবনে ঈদ কাটছে বন কর্মীদের, পরিবার ছাড়া ঈদের আনন্দ
দিগন্ত জার্নাল ডেস্ক:
৩১মার্চ ২০২৫, ঈদ মানে আনন্দ, ঈদ মানে খুশি। এই উৎসবকে ঘিরে কর্মজীবীরা বাড়ি ফিরে থাকেন পরিবার-পরিজনের কাছে। তবে কিছু মানুষের ভাগ্যে সেই সৌভাগ্য ঘটেনি, তাদের মধ্যে রয়েছেন সুন্দরবনের বন কর্মীরা। পরিবার ছাড়া গহীন বনে ঈদ কাটছে তাদের, যদিও কর্তব্য পালনে তারা খুশি।
সুন্দরবন খুলনা রেঞ্জের হায়াতখালী বন টহল ফাঁড়ির বন রক্ষী মো. আব্দুল গফফার এবারের ঈদে ছুটি পাননি। তিনি বলেন, “সরকারের অর্পিত দায়িত্ব পালন করাটা আমাদের কর্তব্য। দেশের সম্পদ রক্ষায় পরিবারের সঙ্গে ঈদ কাটাতে না হলেও, সুন্দরবন রক্ষায় টহল দিয়ে আমরা খুশি।”
এমনি অবস্থায়, সুন্দরবন পশ্চিম বিভাগের প্রায় তিন শতাধিক বন কর্মকর্তা-কর্মচারী ঈদের দিনেও দায়িত্ব পালন করছেন। তারা আধুনিক সুবিধা না পেলেও, তাদের কাজের প্রতি আত্মনিভরতা এবং দায়িত্ববোধ রয়েছে।
বন বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, ঈদের সময় সুন্দরবনে বাড়তি সতর্কতা জারি করা হয়েছে এবং বন কর্মীদের ছুটি বাতিল করা হয়েছে। সুন্দরবনে দায়িত্বরত কর্মকর্তাদের বিশেষ নজরদারি বাড়ানোর পাশাপাশি শিকারিদের অপতৎপরতা ও অগ্নিকাণ্ড প্রতিরোধে জোর দেওয়া হয়েছে।
সুন্দরবন খুলনা রেঞ্জের সহকারী বন সংরক্ষক মো. শরিফুল ইসলাম বলেন, “সুন্দরবনে রেড অ্যালার্ট জারি করা হয়েছে। ঈদের সময় শিকারিদের দৌরাত্ম্য এবং অগ্নিকাণ্ডের মতো নাশকতামূলক কর্মকাণ্ড প্রতিরোধে আমরা বন কর্মীদের বিশেষ নির্দেশনা দিয়েছি।”
এদিকে, কাশিয়াবাদ ফরেস্ট স্টেশনে গিয়ে দেখা যায়, বন কর্মীরা পরিবার ছেড়ে ঈদ কাটাতে কাজ করছেন। বন কর্মী নজরুল ইসলাম বলেন, “প্রায় প্রতি ঈদেই ছুটি মেলে না। রোজার ঈদে তো আমরা বাড়িতে যেতে পারি না। তবে এখন আর কষ্ট হয় না, মানিয়ে নিয়েছি।”
বন কর্মীদের আক্ষেপ, “সরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা নানা সুযোগ-সুবিধা পান, কিন্তু আমরা দুর্গম বনাঞ্চলে জীবন বাজি রেখে কাজ করছি, অথচ আমাদের জন্য কোনো বিশেষ সুবিধা নেই।”
এছাড়া, গেওয়াখালী বন টহল ফাঁড়ির ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জামাল হোসেন বলেন, “আমি এক যুগ ধরে এখানে আছি, এর মধ্যে একবার পরিবারের সঙ্গে ঈদ করতে পেরেছি। ঈদের দিন আমরা মুরগি আর সেমাই রান্না করে নিজেদের আনন্দ উদযাপন করেছি।”
বন কর্মীদের দাবি, “সুন্দরবন রক্ষায় তাদের জন্য উপযুক্ত সুযোগ-সুবিধা প্রদান করা উচিত।”