গণতন্ত্রই সর্বোত্তম ব্যবস্থা, ভারতীয় গণমাধ্যম মিথ্যাবাদী: মির্জা ফখরুল
দিগন্ত জার্নাল ডেস্ক:
বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, রাজনৈতিক দলগুলো স্বৈরাচারী হয়ে উঠলে তাদের অবস্থাও আওয়ামী লীগের মতো হবে। স্বৈরাচার হলে জনগণই তাদের ক্ষমতা থেকে সরিয়ে দেয়। বুধবার (১লা এপ্রিল ২০২৫) দুপুরে ঠাকুরগাঁও শহরের তাতিপাড়া মহল্লায় নিজ বাসভবনে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।
তিনি বলেন, গণতন্ত্রের সৌন্দর্যই হলো ভিন্নমত থাকবে। প্রতিটি রাজনৈতিক দলের নিজস্ব মত থাকবে, আর জনগণ বেছে নেবে কোনটি তাদের জন্য উপযোগী। এ কারণেই নির্বাচন হয়। দলগুলো তাদের নীতি ও কর্মপরিকল্পনা জনগণের সামনে উপস্থাপন করবে, আর জনগণ যাদের ভোট দেবে, তারাই সরকার ও সংসদ গঠন করবে।
তিনি আরও বলেন, “একটি সুষ্ঠু, অবাধ নির্বাচনের জন্য ন্যূনতম সংস্কার প্রয়োজন। এর মধ্যে নির্বাচন কমিশন, আইনশৃঙ্খলা ব্যবস্থা ও বিচার বিভাগীয় সংস্কার মাস্ট। সরকার ছয়টি সংস্কার কমিশন গঠন করলেও, মূল গুরুত্বপূর্ণ তিনটি বিষয় উপেক্ষিত রয়েছে। বিএনপির ৩১ দফার একটি হলো নির্বাচনি ব্যবস্থার সংস্কার, যা ২০১৬ সালে খালেদা জিয়ার ভিশন ২০৩০-এ উল্লেখ করা হয়েছিল। এখন যে দ্বিকক্ষ বিশিষ্ট পার্লামেন্টের আলোচনা হচ্ছে, তা বিএনপির আগের প্রস্তাবেরই প্রতিফলন।”
পুলিশ প্রশাসনের সমালোচনা করে তিনি বলেন, “পুলিশ প্রশাসন আওয়ামী লীগের অনুগত ছিল, যার ফলে তাদের আত্মবিশ্বাস কমে গেছে এবং তারা সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে পারছে না।” বিএনপির অভ্যন্তরীণ শৃঙ্খলা প্রসঙ্গে তিনি জানান, “আমরা দলে শৃঙ্খলা নিশ্চিত করতে কঠোর পদক্ষেপ নিয়েছি। অনৈতিক কর্মকাণ্ডে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে, কেউ কেউ বহিষ্কারও হয়েছে।”
ভারতীয় গণমাধ্যমের খবরের বিষয়ে তিনি বলেন, “ওদের মিডিয়া সাইটগুলো মিথ্যা তথ্য প্রচার করছে, যা পড়লেই বোঝা যায়।”
তিনি আরও বলেন, “গণতন্ত্রই সর্বোত্তম ব্যবস্থা। জাতিসংঘের মহাসচিবও স্বীকার করেছেন যে, বিশ্বব্যাপী কর্তৃত্ববাদের উত্থান গণতন্ত্রের জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। কিন্তু তারপরও রাষ্ট্র পরিচালনার জন্য গণতন্ত্রই শ্রেষ্ঠ ব্যবস্থা।”
এ সময় উপস্থিত ছিলেন জেলা বিএনপি সহ-সভাপতি সুলতানুল ফেরদৌস নম্র চৌধুরী, সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান পয়গাম আলী, বিএনপি নেতা আনসারুল হক, দপ্তর সম্পাদক মামুন ঊর রশিদ, উপজেলা বিএনপির সভাপতি আব্দুল হামিদসহ দলটির বিভিন্ন স্তরের নেতাকর্মীরা।