জাতীয় নির্বাচন ২০২৬ সালের ৩০ জুনের মধ্যে: প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব
দিগন্ত জার্নাল ডেস্ক:
ঢাকা, ৩ এপ্রিল ২০২৫: দেশের পরিস্থিতি উন্নতির পথে, ২০২৬ সালের ৩০ জুনের মধ্যে জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে বলে জানিয়েছেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের প্রেস সচিব শফিকুল আলম। তিনি বলেন, সরকার এখন অনেক গোছানো অবস্থায় রয়েছে। আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি হচ্ছে, রমজানে দ্রব্যমূল্য স্থিতিশীল ছিল, অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক দিক দিয়েও সরকার শক্ত অবস্থানে রয়েছে।
এক বেসরকারি টেলিভিশনের ঈদুল ফিতর উপলক্ষ্যে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রেস সচিব এসব কথা বলেন। এ সময় তার স্ত্রী, শিক্ষক সাবিনা জাহান লুনাও উপস্থিত ছিলেন।
প্রধান উপদেষ্টার বরাত দিয়ে তিনি বলেন, “যদিও স্যার (প্রধান উপদেষ্টা) বলেন, আমরা এখনো যুদ্ধ অবস্থায় আছি, তবে আগস্ট থেকে আমরা অনেকটা উত্তরণ করেছি।”
প্রেস সচিব হিসেবে দায়িত্ব ও অভিজ্ঞতা
শফিকুল আলম বলেন, আগের সরকারের প্রেস সচিবরা খুব বেশি কাজ করতেন না, তবে আন্তর্জাতিকভাবে প্রেস সচিবের কাজ অনেক বেশি। তিনি প্রতিসপ্তাহে তিনটি প্রেস ব্রিফিং করেন এবং সবসময় গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সংগ্রহে ব্যস্ত থাকেন।
তিনি জানান, অধ্যাপক ইউনূসের সঙ্গে তার ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক না থাকলেও সাংবাদিকতা করতে গিয়ে তার প্রতি হওয়া অন্যায় কাভার করেছিলেন, যা তাকে ইউনূসের কাছে পরিচিত করে। পরে তাকে এই দায়িত্বের প্রস্তাব দেওয়া হয়।
অন্তর্বর্তী সরকারের সাফল্য ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা
শফিকুল আলম বলেন, “অন্তর্বর্তী সরকারের বড় অর্জন হচ্ছে, দেশ বিপ্লব বা বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি ছাড়াই স্থিতিশীল অবস্থায় রয়েছে। অর্থনীতি ঘুরে দাঁড়িয়েছে, আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি হয়েছে এবং আন্তর্জাতিকভাবে বাংলাদেশ নতুনভাবে পরিচিত হচ্ছে।”
তবে তিনি স্বীকার করেন যে, পুলিশ বাহিনীর মধ্যে আত্মবিশ্বাস ফিরিয়ে আনতে কিছুটা সময় লেগেছে। তবে আগামী এক মাসের মধ্যে এ সমস্যার সমাধান হবে বলে আশা করেন তিনি।
প্রধান উপদেষ্টার আন্তর্জাতিক ভূমিকা
প্রেস সচিব জানান, অধ্যাপক ইউনূস বিদেশ সফরে বাংলাদেশকে ‘রেডি ফর বিজনেস’ হিসেবে উপস্থাপন করছেন এবং বিদেশি নেতাদের পাশাপাশি বিনিয়োগকারীদের সঙ্গে বৈঠক করছেন। তার আহ্বানে ইতোমধ্যে বিদেশি বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ দেখা যাচ্ছে।
ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা
সাংবাদিকতায় ফেরার ইচ্ছার কথা জানিয়ে শফিকুল আলম বলেন, “আমি চাইলে রাজনীতিতে যেতে পারি, তবে স্ত্রী অনুমতি দেয়নি। তাই হয়তো নিজস্ব পত্রিকা চালু করার চিন্তা করছি।”
তিনি বিশ্বাস করেন, আগামী ২০-৪০ বছরের মধ্যে বাংলাদেশ বিশ্বের অন্যতম সমৃদ্ধ দেশ হয়ে উঠবে।