চীনের বিনিয়োগে বাংলাদেশে হবে আন্তর্জাতিকমানের হাসপাতাল
দিগন্ত জার্নাল ডেস্ক:
৪ এপ্রিল ২০২৫, বাংলাদেশি রোগীদের আকৃষ্ট করতে চীন বিশেষ ছাড় দিচ্ছে। দেশটির ইউনান প্রদেশের চারটি শীর্ষস্থানীয় হাসপাতালকে বিশেষভাবে বাংলাদেশি রোগীদের জন্য মনোনীত করা হয়েছে। সরকারও রাষ্ট্রীয়ভাবে এই সুবিধা নেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছে। তবে চিকিৎসকরা বলছেন, দেশে পাঁচটি মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়, একটি সুপার স্পেশালাইজড হাসপাতাল এবং ২০টি বিশেষায়িত হাসপাতাল থাকা সত্ত্বেও প্রতিবছর প্রায় ৩০ লাখ মানুষ চিকিৎসার জন্য বিদেশে যাচ্ছেন, ফলে তিন থেকে চার বিলিয়ন ডলার বিদেশে চলে যাচ্ছে। তাই দেশের স্বাস্থ্যখাত উন্নত করার প্রয়োজনীয়তা দেখা দিয়েছে।
স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, উন্নত চিকিৎসার জন্য রোগীরা এতদিন ভারতকে প্রধান গন্তব্য হিসেবে বেছে নিতেন। তবে সম্প্রতি ভারতের ভিসা জটিলতার কারণে রোগীদের নতুন বিকল্প খুঁজতে হচ্ছে। চীন বাংলাদেশি রোগীদের চিকিৎসা সেবার সুযোগ কাজে লাগাতে চাইছে এবং কুনমিং মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীন ফার্স্ট অ্যাফিলিয়েটেড হাসপাতাল, ইউনান ফার্স্ট পিপলস হাসপাতাল, ফু-ওয়াই কার্ডিওভাসকুলার হাসপাতাল ও ইউনান ক্যানসার হাসপাতাল বাংলাদেশি রোগীদের জন্য বিশেষায়িত সেবা দিতে প্রস্তুত করেছে। রোগীরা স্থানীয়দের মতোই একই ফি পরিশোধ করে চিকিৎসা নিতে পারবেন।
চায়না ইস্টার্ন এয়ারলাইন্স চট্টগ্রাম-কুনমিং রুটে ফ্লাইট চালুর পরিকল্পনা করেছে, এবং ঢাকা-কুনমিং রুটের টিকিটের ভাড়া কমানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সাংবাদিকদের একটি প্রতিনিধি দল চিকিৎসা ব্যবস্থা পরিদর্শনে কুনমিং সফরে যাবে।
সম্প্রতি চীন সফর শেষে প্রধান উপদেষ্টার প্রতিনিধি ড. খলিলুর রহমান জানিয়েছেন, বাংলাদেশে আন্তর্জাতিকমানের একটি বিশেষায়িত হাসপাতাল নির্মাণে চীন সম্মতি জানিয়েছে এবং শিগগিরই নির্মাণ কার্যক্রম শুরু হবে। রাজধানীর শাহবাগে বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে রিহ্যাবিলিটেশন ও রোবটিক ফিজিওথেরাপি সেন্টার স্থাপনে চীন সহায়তা দেবে, যা ইতোমধ্যে তাদের বিশেষজ্ঞরা পরিদর্শন করেছেন। এছাড়া চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ২৮৫ কোটি টাকা ব্যয়ে বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইউনিট নির্মাণে চীন ১৮০ কোটি টাকা অনুদান দেবে, যা ডিসেম্বরের মধ্যে শেষ হবে।
ভারতের পর বাংলাদেশি রোগীদের দ্বিতীয় প্রধান গন্তব্য থাইল্যান্ড। এছাড়া ইরান, মালয়েশিয়াসহ আরও কয়েকটি দেশ বাংলাদেশি রোগীদের আকৃষ্ট করতে মেডিকেল ট্যুরিজম শক্তিশালী করার উদ্যোগ নিয়েছে।
বিশ্বে মেডিকেল ট্যুরিজমের পরিমাণ ২০ থেকে ৩০ বিলিয়ন ডলার, যার ৪০ শতাংশই এশিয়ার দেশগুলোর দখলে। ভারতের মেডিকেল ট্যুরিজমের ২০-৩০ শতাংশ নির্ভরশীল বাংলাদেশি রোগীদের ওপর। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, চিকিৎসা খাতের উন্নয়ন ছাড়া বিদেশমুখিতা ঠেকানো সম্ভব নয়। আধুনিক ডায়াগনস্টিক সুবিধা, বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক নিয়োগ ও সাশ্রয়ী মূল্যে সেবা নিশ্চিত করলে রোগীদের বিদেশমুখিতা কমবে এবং দেশীয় চিকিৎসা ব্যবস্থায় আস্থা ফিরবে।