বিমসটেকে অধ্যাপক ইউনূসের আহ্বান: পারস্পরিক স্বার্থ ও যৌথ কল্যাণে একযোগে কাজ করুন - দিগন্ত জার্নাল

বিমসটেকে অধ্যাপক ইউনূসের আহ্বান: পারস্পরিক স্বার্থ ও যৌথ কল্যাণে একযোগে কাজ করুন

দিগন্ত জার্নাল ডেস্ক:

শুক্রবার, ৪ এপ্রিল ২০২৫: থাইল্যান্ডের রাজধানী ব্যাংককে অনুষ্ঠিত বিমসটেকের (বঙ্গোপসাগরীয় দেশগুলোর আঞ্চলিক সহযোগিতা জোট) ষষ্ঠ শীর্ষ সম্মেলনে বাংলাদেশ সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস সদস্য দেশগুলোর প্রতি পারস্পরিক স্বার্থ, ন্যায্যতা ও যৌথ কল্যাণে একযোগে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন।

ব্যাংককে আয়োজিত সম্মেলনে দেওয়া বক্তব্যে অধ্যাপক ইউনূস বলেন, “বাংলাদেশ দীর্ঘদিন ধরে উন্মুক্ত আঞ্চলিকতাবাদের স্বপ্ন লালন করে আসছে। আমরা এমন একটি অঞ্চল কল্পনা করি, যেখানে সব দেশ ও জনগণ পরস্পরের প্রতি সম্মান দেখিয়ে যৌথভাবে উন্নয়ন নিশ্চিত করতে পারে।”

তিনি জানান, বিমসটেক অঞ্চলে বিশ্ব জনসংখ্যার এক-পঞ্চমাংশের বাস, ফলে এখানকার চ্যালেঞ্জগুলোকে সম্ভাবনায় রূপ দিতে পারলে এটি বিশাল সুফল বয়ে আনবে।

ইসরাইল-গাজা যুদ্ধ পরিস্থিতি ও আঞ্চলিক সংকটের প্রেক্ষাপট ছাড়াও ইউনূস তার বক্তব্যে জ্বালানি নিরাপত্তা, নবায়নযোগ্য জ্বালানি ব্যবহার, সীমান্ত পেরিয়ে বিদ্যুৎ বাণিজ্য, এবং জ্বালানি দক্ষতা বৃদ্ধির বিষয়গুলোর ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

তিনি বলেন, “২০১৮ সালে স্বাক্ষরিত বিমসটেক গ্রিড ইন্টারকানেকশন চুক্তি জ্বালানি খাতে সহযোগিতার সূচনা হতে পারে।”

বাণিজ্য প্রসঙ্গে ইউনূস বলেন, “বর্তমানে বিমসটেকে আন্তঃআঞ্চলিক বাণিজ্য মাত্র ৫.৯ শতাংশ। ২০০৪ সালের ‘বিমসটেক এফটিএ চুক্তি’ বাস্তবায়ন করতে পারলে এই প্রবাহ বহুগুণে বাড়বে।”

তিনি আরও বলেন, তরুণ প্রজন্মের আন্তঃসীমান্ত যোগাযোগ সহজ করা এবং বেসরকারি খাত ও নাগরিক সমাজকে অন্তর্ভুক্ত করা বিমসটেককে আরও কার্যকর ও ফলপ্রসূ করে তুলবে।

গতকাল স্বাক্ষরিত ‘বিমসটেক সামুদ্রিক পরিবহন সহযোগিতা চুক্তি’ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এটি বিশেষ করে ভারতের সাত রাজ্য এবং ভূমিবেষ্টিত দেশগুলোর সঙ্গে কানেক্টিভিটি বাড়াবে।

ড. ইউনূস স্বীকার করেন, ২৮ বছর বয়সী এই সংস্থার প্রভাব এখনো সব সদস্য দেশে পুরোপুরি দৃশ্যমান নয়। তবে তিনি দৃঢ়তার সঙ্গে বলেন, বাংলাদেশ পরবর্তী চেয়ারম্যানশিপ গ্রহণ করে এই সংস্থাকে পুনরুজ্জীবিত করতে সক্রিয় ভূমিকা রাখবে।

তিনি বলেন, “বর্তমান বিশ্ব দ্রুত পরিবর্তিত হচ্ছে। পুরনো নিয়মনীতি কার্যকর থাকছে না। তাই আমাদের প্রয়োজন নতুন কৌশল, নতুন দৃষ্টিভঙ্গি এবং সামাজিক ব্যবসাভিত্তিক উদ্যোগ, যা মানুষের মর্যাদা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে।”

জলবায়ু পরিবর্তনের ক্ষতিকর প্রভাব মোকাবিলায় আঞ্চলিক সম্পদ ও সক্ষমতা একত্র করার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, “আমরা আমাদের নিজ নিজ জাতীয় স্বার্থে কাজ করলেও, আমাদের উচিত অন্যদের স্বার্থকেও সম্মান জানানো এবং সহযোগিতার মনোভাব নিয়ে এগিয়ে চলা।”

an adbox will go here