থাই প্রধানমন্ত্রীকে ভিসা প্রক্রিয়া সহজ করার অনুরোধ প্রধান উপদেষ্টা ইউনূসের
দিগন্ত জার্নাল ডেস্ক:
শুক্রবার, ৪ এপ্রিল ২০২৫: বিমসটেক শীর্ষ সম্মেলনের ফাঁকে থাইল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী প্যেতংতর্ন শিনাওত্রার সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে বাংলাদেশের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস থাইল্যান্ড ভ্রমণে বাংলাদেশি নাগরিকদের জন্য ভিসা প্রক্রিয়া সহজ করার আহ্বান জানান।
প্রধান উপদেষ্টা বলেন, ঢাকায় অবস্থিত থাই দূতাবাসের সীমিত সক্ষমতার কারণে ভিসা প্রক্রিয়ায় দীর্ঘ সময় লাগছে এবং বড় ধরনের সারি তৈরি হচ্ছে। বিশেষ করে চিকিৎসার উদ্দেশ্যে থাইল্যান্ডগামী বাংলাদেশিরা ব্যাপক ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন। এ বিষয়ে দ্রুত সহযোগিতার জন্য তিনি থাই প্রধানমন্ত্রীকে অনুরোধ করেন।
থাই প্রধানমন্ত্রী প্যেতংতর্ন আশ্বস্ত করে বলেন, তিনি বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখবেন।
বৈঠকে অধ্যাপক ইউনূস দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য, শিপিং, সামুদ্রিক সম্পর্ক এবং আকাশপথে সংযোগ বৃদ্ধির প্রস্তাব দেন। তিনি বলেন, চট্টগ্রাম থেকে সরাসরি ফ্লাইট চালু হলে ভ্রমণ সময় অনেক কমবে। তিনি এক দশক আগে এয়ার এশিয়ার চট্টগ্রাম-চিয়াংমাই রুট চালুর কথা স্মরণ করে বলেন, এতে ব্যবসা ও পর্যটন খাতে ইতিবাচক প্রভাব পড়েছিল।
থাই প্রধানমন্ত্রী তাকে বিমসটেক চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার জন্য অভিনন্দন জানান এবং আশাবাদ ব্যক্ত করেন, তার নেতৃত্বে আঞ্চলিক সহযোগিতায় নতুন গতি আসবে।
বৈঠকে অধ্যাপক ইউনূস বাংলাদেশ-থাইল্যান্ডের দীর্ঘস্থায়ী সম্পর্কের প্রসঙ্গ তুলে ধরেন এবং প্রয়াত রাজা ভূমিবোলকে শ্রদ্ধা জানান, যিনি ১৯৭২ সালে বাংলাদেশের স্বাধীনতা স্বীকৃতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিলেন।
বিনিয়োগ নিয়েও আলোচনা হয় বৈঠকে। অধ্যাপক ইউনূস থাই কোম্পানিগুলোকে ঢাকায় অনুষ্ঠিতব্য আসন্ন বিনিয়োগ সম্মেলনে অংশ নেওয়ার আমন্ত্রণ জানান এবং বলেন, রেল, সড়ক, সামুদ্রিক ও আকাশপথে সংযোগ উন্নত হলে বাণিজ্য বাড়বে।
তিনি জানান, বাংলাদেশ থাইল্যান্ড-ভারত-মিয়ানমার মহাসড়ক প্রকল্পে অংশ নিতে আগ্রহী, তবে তা নির্ভর করবে উপযুক্ত শর্তের ওপর।
সবশেষে, তিনি দুই দেশের মধ্যে একটি যৌথ সম্ভাব্যতা স্টাডি শুরুর প্রস্তাব দেন, যাতে দ্বিপাক্ষিক মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (এফটিএ) নিয়ে আনুষ্ঠানিক আলোচনা শুরু করা সম্ভব হয়।