হাসিনা প্রত্যর্পণে ভারত অনীহা, বাড়ছে দুদেশের কূটনৈতিক টানাপোড়েন - দিগন্ত জার্নাল

হাসিনা প্রত্যর্পণে ভারত অনীহা, বাড়ছে দুদেশের কূটনৈতিক টানাপোড়েন

দিগন্ত জার্নাল ডেস্ক:

রোববার, ৬ এপ্রিল ২০২৫: বাংলাদেশ-ভারত অতি নিকট প্রতিবেশী হওয়া সত্ত্বেও সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে বাংলাদেশে ফেরত না দেওয়ায় উভয় দেশের মধ্যে সম্পর্ক জটিল দিকে মোড় নিচ্ছে। ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত হাসিনার বিরুদ্ধে ইতোমধ্যে গণহত্যার বিচার শুরু হয়েছে। এমন একজন অভিযুক্ত ব্যক্তিকে ভারত আশ্রয় দেওয়ায় বাংলাদেশের মানুষের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ বিরাজ করছে। বিশ্লেষকদের মতে, এই অবস্থায় আন্তরিক সম্পর্ক গড়ে তোলা কার্যত অসম্ভব।

যদিও ব্যাংককে বিমসটেক সম্মেলনের সাইডলাইনে প্রধানমন্ত্রী মোদির সঙ্গে প্রফেসর ড. ইউনূসের বৈঠক সম্পর্ক উন্নয়নের ইঙ্গিত দিলেও বাস্তবে টানাপোড়েন থেকেই যাচ্ছে। এর আগে বাংলাদেশ আনুষ্ঠানিকভাবে শেখ হাসিনাকে ফেরত চেয়ে ভারতের কাছে চিঠি দিলেও কোনো সাড়া মেলেনি। উল্টো ভারত তাকে প্রশ্রয় দিয়ে জনগণের দাবিকে অগ্রাহ্য করছে বলে অভিযোগ উঠছে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের সাবেক অধ্যাপক এম শহিদুজ্জামান বলেন, “ভারত তাদের প্রত্যর্পণ আইন অনুসারে সিদ্ধান্ত নেবে, যা দীর্ঘ প্রক্রিয়া। শেখ হাসিনাকে তারা আগামী নির্বাচনে ব্যবহার করতে পারে, এমন সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।” তিনি আরও বলেন, “বাংলাদেশ আর হাসিনার সই করা চুক্তি মানবে না। একতরফাভাবে ভারতকেও সুবিধা দেওয়া হবে না।”

এদিকে সাবেক রাষ্ট্রদূত মাশফি বিনতে শামস বলেন, “ভারতের সঙ্গে বহু কমন ইস্যু থাকায় সম্পর্ক ধরে রাখা জরুরি। হাসিনার বিষয়টি রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত হলেও, অর্থনীতি, জনগণের সংযোগ, ভিসা জটিলতা, সার্ক পুনরুজ্জীবনের মতো ইস্যুগুলো আলাদাভাবে এগিয়ে নেওয়া যেতে পারে।”

নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটির আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশ্লেষক ড. এম জসিম উদ্দিন বলেন, “প্রফেসর ইউনূস ও মোদির বৈঠক ভারত সরকারের পক্ষ থেকে বাংলাদেশের অন্তর্বর্তীকালীন সরকারকে একপ্রকার স্বীকৃতি বলেই বিবেচিত হচ্ছে।” তিনি আরও বলেন, “প্রফেসর ইউনূস দ্বিপক্ষীয় গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো যেমন সীমান্ত হত্যা, পানিচুক্তি, শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণ ইত্যাদি স্পষ্টভাবে তুলে ধরেছেন, যা নতুন বাংলাদেশের স্বাধীন পররাষ্ট্রনীতির প্রতিফলন।”

বিশ্লেষকরা মনে করেন, শেখ হাসিনাকে ফিরিয়ে না দেওয়া বাংলাদেশের জন্য বৈধ একটি দাবি, বিশেষ করে যখন জাতিসংঘ মানবাধিকার সংস্থার প্রতিবেদনে তার বিরুদ্ধে গণহত্যার প্রমাণ পাওয়া গেছে। এ দাবিকে উপেক্ষা করলে সেটা দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্কে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করবে বলেও তারা মত দেন।

এ ছাড়া ভারতীয় মিডিয়া, সরকার ও বিরোধী দলগুলো বাংলাদেশ নিয়ে যেভাবে সংখ্যালঘু নির্যাতন ইস্যুতে মিথ্যা প্রচারণা চালাচ্ছে, সেটি বন্ধ করাও জরুরি বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। তারা বলছেন, আন্তঃরাষ্ট্র সম্পর্ক উন্নয়নে সত্যিকারের আন্তরিকতা ও আস্থাই হতে পারে মূল চাবিকাঠি।

an adbox will go here