ড্যাপ সংশোধন নিয়ে নগর পরিকল্পনাবিদ ও আবাসন ব্যবসায়ীদের মুখোমুখি অবস্থান - দিগন্ত জার্নাল

ড্যাপ সংশোধন নিয়ে নগর পরিকল্পনাবিদ ও আবাসন ব্যবসায়ীদের মুখোমুখি অবস্থান


দিগন্ত জার্নাল ডেস্ক:

মঙ্গলবার , ৮ এপ্রিল ২০২৫ || ঢাকার মহাপরিকল্পনা ‘ড্যাপ’ সংশোধনকে কেন্দ্র করে নগর পরিকল্পনাবিদ এবং আবাসন ব্যবসায়ীদের মধ্যে সৃষ্ট মতপার্থক্যে ড্যাপ বাস্তবায়ন কার্যত থমকে গেছে। গেজেটভুক্তির আড়াই বছর পরও বাস্তব অগ্রগতি না থাকায় পরিকল্পিত, বাসযোগ্য শহর গড়ার লক্ষ্য ব্যাহত হচ্ছে। নগর পরিকল্পনাবিদদের দাবি, ড্যাপকে বৈষম্যহীন রাখার পরিবর্তে একতরফাভাবে আবাসন ব্যবসায়ীদের দাবির পক্ষে অবস্থান নিচ্ছে রাজউক। অন্যদিকে আবাসন ব্যবসায়ীরা বলছেন, এক এলাকার পাশে আরেক এলাকায় ভবনের উচ্চতা নিয়ে বৈষম্য মেনে নেওয়া যায় না।

২০২২ সালে গেজেটভুক্ত হওয়ার এক বছরের মাথায় প্রথম দফা ড্যাপ সংশোধন করে রাজউক। ২০২৩ সালে শেখ হাসিনা সরকারের আমলে আবাসন ব্যবসায়ীদের চাপে এই সংশোধন হয়। তবে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ক্ষমতা পরিবর্তনের পর পুনরায় সংশোধনের দাবি ওঠে এবং রাজউক সেই প্রক্রিয়া চূড়ান্ত করতে উদ্যোগ নেয়। নগর পরিকল্পনাবিদদের সংগঠন বিআইপি (বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব প্লানার্স) এ প্রক্রিয়াকে অস্বচ্ছ দাবি করে সরকারের বিভিন্ন দপ্তরে চিঠি ও সংবাদ সম্মেলন করে আপত্তি জানায়। একই সময়ে রিহ্যাব ও ঢাকা সিটি ভূমি মালিক সমিতি ড্যাপ সংশোধনের পক্ষে মানববন্ধন ও স্মারকলিপি প্রদানসহ নানা কর্মসূচি পালন করে।

ড্যাপে ভবনের উচ্চতা, আয়তন ও ইউনিট বাড়ানোর যে পরিবর্তন আসছে, তা একদিকে ভূমি মালিক ও আবাসন ব্যবসায়ীদের জন্য ইতিবাচক হলেও শহরের বাসযোগ্যতা ও পরিবেশের জন্য নেতিবাচক বলে মনে করছেন নগর পরিকল্পনাবিদরা। ৩৫০টির বেশি ডেনসিটি জোন কমিয়ে ৬৫-তে নামিয়ে আনার ফলে অধিকাংশ এলাকায় ফ্লোর এরিয়া রেশিও (এফএআর) ২-৩ গুণ পর্যন্ত বেড়ে যাবে, বাড়বে ভবনের উচ্চতা। ফলে ইতোমধ্যেই জনঘনত্বে হিমশিম খাওয়া ঢাকায় এ হার আরও কয়েকগুণ বাড়বে।

বিআইপি সভাপতি অধ্যাপক ড. আদিল মুহাম্মদ খান অভিযোগ করেছেন, শহরের বাসযোগ্যতা উপেক্ষা করে শুধুই আবাসন ব্যবসায়ীদের স্বার্থে ড্যাপ সংশোধন হচ্ছে। রিহ্যাবের সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট লিয়াকত আলী ভূঞা এ সংশোধনের পক্ষে যুক্তি তুলে ধরে বলেন, পাশাপাশি জমিতে ভিন্ন উচ্চতার অনুমোদন বৈষম্য তৈরি করছে। ঢাকা সিটি ভূমি মালিক সমিতির প্রধান সমন্বয়ক অধ্যাপক ড. দেওয়ান এম এ সাজ্জাত বলেন, বিশ্বজুড়ে যেখানে বহুতল ভবন উৎসাহিত করা হচ্ছে, সেখানে ঢাকায় তা নিরুৎসাহিত করা ঠিক নয়।

রাজউক চেয়ারম্যান প্রকৌশলী মো. রিয়াজুল ইসলাম জানান, বিতর্কিত বিষয়গুলো যৌক্তিকভাবে বিবেচনায় নিয়ে সংশোধন করা হবে। ইতোমধ্যে সব অংশীজনের সঙ্গে একটি সভা হয়েছে, চলতি মাসে আরেকটি সভা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। ফ্লাডফ্লো জোন, এফএআরসহ গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো নিয়ে সবার মতামতের ভিত্তিতে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হবে বলে তিনি জানান।

নগরবাসীর ভবিষ্যৎ নির্ভর করছে এই পরিকল্পনার বাস্তবায়নের ওপর। তাই সংশ্লিষ্টরা বলছেন, আবাসন ব্যবসায়ীদের স্বার্থ আর শহরের বাসযোগ্যতা—এই দুইয়ের মধ্যে ভারসাম্য রেখে গ্রহণযোগ্য ও টেকসই সমাধানে পৌঁছাতে হবে রাজউককে।

an adbox will go here