সাবেক চালক মালেকের স্ত্রী রায় শুনে আদালতে অজ্ঞান
দিগন্ত জার্নাল ডেস্ক :
বুধবার,১৬ এপ্রিল ২০২৫ ||জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) মামলায় পাঁচ বছরের কারাদণ্ড পাওয়া স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সাবেক গাড়িচালক আবদুল মালেকের স্ত্রী নার্গিস বেগম আদালতে অজ্ঞান হয়ে পড়েছেন। বুধবার (১০ এপ্রিল) ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৬-এর বিচারক জাকারিয়া হোসেন এ রায় ঘোষণা করেন।
রায়ের সময় স্বামী আবদুল মালেকের পাশে দাঁড়ানো নার্গিস বেগম আদালতের সিদ্ধান্ত শুনেই কান্নায় ভেঙে পড়েন এবং একপর্যায়ে ‘জ্ঞান হারিয়ে ফেলেন’। তাকে দ্রুত কাঠগড়া থেকে নামিয়ে বেঞ্চে বসানোর চেষ্টা করা হলেও তার আগেই মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। পরে দুই নারী পুলিশ সদস্য ও তার মেয়ে তাকে সহায়তা করে বেঞ্চে বসান।
বিচারক রায়ে আবদুল মালেককে পাঁচ বছর ও নার্গিস বেগমকে তিন বছরের কারাদণ্ড দেন। পাশাপাশি উভয়কে ২০ হাজার টাকা করে অর্থদণ্ড এবং অনাদায়ে আরও তিন মাস করে বিনাশ্রম কারাদণ্ডের নির্দেশ দেন। একইসঙ্গে জ্ঞাত আয়বহির্ভূত এক কোটি ১০ লাখ ৯৩ হাজার ৫০ টাকার সম্পদ রাষ্ট্রের অনুকূলে বাজেয়াপ্ত করার আদেশ দেন।
আসামিপক্ষের আইনজীবীরা আদালতকে জানান, নার্গিস বেগম হৃদরোগে ভুগছেন এবং তার পেসমেকার রয়েছে। তিনি মাঝে মাঝেই অজ্ঞান হয়ে পড়েন। রায় ঘোষণার সময় আবদুল মালেক বিচারকের উদ্দেশ্যে বলেন, “স্যার, আমার স্ত্রীর পেসমেকারের সমস্যা। মাঝেমধ্যে এমন হয়। সাজাটা কমিয়ে দিন।” তবে বিচারক এ বক্তব্যে কোনো মন্তব্য করেননি।
রায় ঘোষণার কিছুক্ষণ পর নার্গিস বেগমের জ্ঞান ফিরে এলে নারী পুলিশ সদস্যরা তাকে আদালত থেকে কারাগারে নিয়ে যান।
উল্লেখ্য, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সাবেক গাড়িচালক আবদুল মালেক দুর্নীতির মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ সম্পদ গড়েন বলে অভিযোগ ওঠে। তার বিরুদ্ধে অবৈধ সম্পদের মামলা করে দুদক। মামলার দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়ার পর আজ এই রায় ঘোষণা করা হলো।