কাফনের কাপড় মাথায় বেঁধে গণমিছিলের ঘোষণা পলিটেকনিক শিক্ষার্থীদের
দিগন্ত জার্নাল ডেস্ক:
শুক্রবার, ১৮ এপ্রিল ২০২৫ ||
ছয় দফা দাবিতে আন্দোলনরত পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের শিক্ষার্থীরা নতুন কর্মসূচি ঘোষণা করেছেন। শুক্রবার (১৮ এপ্রিল) বাদ জুমা সারা দেশে একযোগে কাফনের কাপড় মাথায় বেঁধে গণমিছিল করবেন তারা। ‘কারিগরি ছাত্র আন্দোলন, বাংলাদেশ’ নামক একটি ফেসবুক পেজ থেকে এ কর্মসূচির কথা জানানো হয়। পোস্ট ও ভিডিও বার্তায় বলা হয়, ৮৭ সালের ঐতিহাসিক ‘কাফন আন্দোলন’-এর মতো এবারে শিক্ষার্থীরা প্রতীকী প্রতিবাদে অংশ নিয়ে গণমিছিল করবেন।
এর আগে, বৃহস্পতিবার দুপুর ১২টায় শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কারিগরি ও মাদরাসা শিক্ষা বিভাগের অতিরিক্ত সচিব (কারিগরি শাখা) রেহানা ইয়াসমিনের সঙ্গে আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের ১৮ সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল বৈঠকে বসেন। কিন্তু আলোচনায় সন্তোষ প্রকাশ না করে শিক্ষার্থীরা জানান, মন্ত্রণালয় কোনো আনুষ্ঠানিক কাগজপত্র বা সুস্পষ্ট আশ্বাস দেয়নি। বৈঠক শেষে প্রতিনিধি মাশফিক ইসলাম সাংবাদিকদের বলেন, “আজকের আলোচনা ফলপ্রসূ হয়নি। আমরা কোনো সুস্পষ্ট প্রতিশ্রুতি পাইনি, বরং প্রতিটি বিষয়েই অগ্রগতি আটকে রাখা হয়েছে। তাই আমরা ছয় দফা দাবি আদায়ে শিগগিরই কঠোর কর্মসূচিতে যাব।”
আন্দোলনকারীদের ছয় দফা দাবিগুলো হলো—
১. জুনিয়র ইনস্ট্রাক্টর পদের প্রমোশন কোটায় অনিয়ম বন্ধ: জুনিয়র ইনস্ট্রাক্টর পদে ক্র্যাফট ইনস্ট্রাক্টরদের ৩০% প্রমোশন কোটা বাতিল করতে হবে, হাইকোর্টে বাতিল হওয়া অবৈধ পদোন্নতি কার্যকর করতে হবে এবং সংশ্লিষ্টদের চাকরিচ্যুত করতে হবে। ২০২১ সালের বিতর্কিত নিয়োগ বাতিল এবং নিয়োগবিধি সংশোধনের দাবি জানানো হয়েছে।
২. ভর্তির বয়সসীমা ও মানসম্পন্ন কারিকুলাম চালু: যেকোনো বয়সে ভর্তির সুযোগ বাতিল, উন্নত বিশ্বের আদলে চার বছর মেয়াদি মানসম্পন্ন কারিকুলাম চালু এবং পর্যায়ক্রমে ইংরেজি মাধ্যমে একাডেমিক কার্যক্রম চালুর দাবি।
৩. সরকারি নিয়োগে অনিয়মের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা: উপসহকারী প্রকৌশলী (১০ম গ্রেড) হিসেবে সংরক্ষিত পদের বাইরে ডিপ্লোমা প্রকৌশলীদের নিম্ন পদে নিয়োগ দিলে, সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি।
৪. কারিগরি শিক্ষাব্যবস্থা পরিচালনায় শিক্ষিত জনবল নিশ্চিত: বোর্ড চেয়ারম্যান, পরিচালক, উপসচিবসহ সংশ্লিষ্ট সকল পদে কারিগরি শিক্ষাবহির্ভূত নিয়োগ বন্ধ করে দক্ষ শিক্ষক ও ল্যাব সহকারী নিয়োগের দাবি জানানো হয়েছে।
৫. স্বতন্ত্র মন্ত্রণালয় ও সংস্কার কমিশন: ‘কারিগরি ও উচ্চশিক্ষা’ নামে স্বতন্ত্র মন্ত্রণালয় প্রতিষ্ঠা এবং কারিগরি শিক্ষা সংস্কার কমিশন গঠন করতে হবে।
৬. টেকনিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা ও উচ্চশিক্ষার সুযোগ: পলিটেকনিক ও মনোটেকনিক শিক্ষার্থীদের উচ্চশিক্ষার সুযোগের লক্ষ্যে একটি উন্নত মানের টেকনিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা ও নির্মাণাধীন চারটি ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজে তাদের জন্য শতভাগ ভর্তির ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে।
আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা জানিয়েছেন, দাবি মানা না হলে তারা ভবিষ্যতে আরও কঠোর কর্মসূচি গ্রহণ করবেন। দিগন্ত জার্নাল তাদের আন্দোলনের ধারাবাহিক আপডেট জানিয়ে যাবে।