তদবির বাণিজ্যে জড়িত থাকার অভিযোগে অব্যাহতি প্রদান - দিগন্ত জার্নাল

তদবির বাণিজ্যে জড়িত থাকার অভিযোগে অব্যাহতি প্রদান

দিগন্ত জার্নাল ডেস্ক:

বৃহস্পতিবার, ২৪ এপ্রিল ২০২৫ | স্থানীয় সরকার উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়ার সাবেক এপিএস মো. মোয়াজ্জেম হোসেন এবং স্বাস্থ্য উপদেষ্টার ছাত্র প্রতিনিধি তুহিন ফারাবির বিরুদ্ধে তদবির ধরনের বাণিজ্যে জড়িত থাকার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগে বলা হয়, তারা চিকিৎসক, প্রকৌশলীসহ বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তাদের বদলি, নিয়োগ ও পুনর্বাসনের নামে অর্থের বিনিময়ে তদবির করতেন। এছাড়া ডা. মাহমুদুল হাসান নামের আরও এক কর্মকর্তা একই কৌশলে বিভিন্ন দপ্তরে কাজ করতেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।

জানা গেছে, মোয়াজ্জেম হোসেন স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলী থেকে উপজেলা প্রকৌশলী পর্যন্ত প্রায় সব স্তরের কর্মকর্তার বদলি ও পদায়নের ক্ষেত্রে তদবির করে বিপুল অঙ্কের টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন। তিনি টেন্ডার বাণিজ্যেও সক্রিয় ছিলেন। এছাড়া স্বরাষ্ট্র, স্বাস্থ্য, পানিসম্পদ, গণপূর্ত, সড়ক ও মহাসড়ক বিভাগের বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ঘুরে ঘুরে তদবির করতেন।

একজন সচিব নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, “তাদের তদবিরের বিষয়টি অনেক কর্মকর্তার জানা। বিশেষ করে প্রকৌশলী নিয়োগ ও পুনর্বাসনের ক্ষেত্রে তাদের প্রভাব ছিল চোখে পড়ার মতো।”

স্বাস্থ্য উপদেষ্টার ব্যক্তিগত কর্মকর্তা হিসেবে পরিচিত তুহিন ফারাবি এবং চিকিৎসক মাহমুদুল হাসানও বিভিন্ন দপ্তরে একই ধরনের তৎপরতা চালাতেন বলে অভিযোগ রয়েছে। এই দুজনও সরকারি কর্মকাণ্ডে প্রভাব বিস্তার করে আর্থিক সুবিধা নিয়েছেন বলে জানা যায়। তবে বর্তমানে ডা. মাহমুদুল হাসান রাশিয়ায় অবস্থান করছেন এবং তিনি আদৌ দেশে ফিরবেন কি না—তা নিয়ে সংশ্লিষ্টদের মধ্যে সন্দেহ রয়েছে।

এদিকে এসব অভিযোগ ছড়িয়ে পড়ার পর প্রশাসনে ব্যাপক চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়। ফলস্বরূপ, ২১ এপ্রিল ২০২৫ তারিখে মো. মোয়াজ্জেম হোসেন এবং তুহিন ফারাবিকে অব্যাহতি দিয়ে সরকারের পক্ষ থেকে প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে। তবে ডা. মাহমুদুল হাসানকে এখনও কোনো আনুষ্ঠানিক পদক্ষেপের আওতায় আনা হয়নি।

এই ঘটনায় প্রশাসনের একাধিক দপ্তরে তদন্তের দাবি উঠেছে। সংশ্লিষ্ট মহল মনে করছে, সরকার এ বিষয়ে আরও কঠোর অবস্থান নেবে এবং দৃষ্টান্তমূলক পদক্ষেপ গ্রহণ করবে।

an adbox will go here