যুবলীগ নেতা রানার অবৈধ ভাবে তোলা রানা প্লাজা ধসের ১২ বছরেও শেষ হয়নি বিচার
দিগন্ত জার্নাল ডেস্ক:
বৃহস্পতিবার, ২৪ এপ্রিল ২০২৫ | ২০১৩ সালের সেই সময়কার আওয়ামী লীগের অঙ্গ সংগঠন যুবলীগের প্রভাবশালী নেতা সোহেল রানা, যে কিনা ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগের বিগ মাস্তান হিসেবে হাসিনা সরকারের হাতিয়ার ছিল সাভার আশুলিয়া অঞ্চলে। বিএনপি জামাত এবং হেফাজত দমনে রানার ভূমিকা ছিল উল্লেখযোগ্য। এই রানা প্লাজার কর্মরত গার্মেন্টস শ্রমিকদের কে বাধ্য করানো হতো হেফাজত, বিএনপি, জামায়েত বিরোধী আন্দোলনের জন্য, ডর ভয় দেখিয়ে আওয়ামী যুবলীগের মিছিলে যেতে বাধ্য করতেন রানা প্লাজার সোহেল রানা।
আজ ২৪ এপ্রিল, বাংলাদেশের ইতিহাসে এক বিভীষিকাময় দিন। ২০১৩ সালের এই দিনে সাভারে ধসে পড়ে নয়তলা ভবন রানা প্লাজা। অবৈধভাবে গড়ে ওঠা এই ভবনটি ধসে প্রাণ হারান ১ হাজার ১৩৪ জন পোশাক শ্রমিক, আহত হন আরও ২ হাজারের বেশি। ঘটনার ১২ বছর পরও বিচার কার্যক্রম এখনও শেষ হয়নি, এখনো থামেনি স্বজনদের কান্না, আতঙ্ক কাটেনি আহতদের মনে।
এই ঘটনায় দায়ের করা হত্যা ও ইমারত নির্মাণ আইনের দুই মামলার কোনোটিরই এখনও কার্যকর নিষ্পত্তি হয়নি। হত্যার মামলায় সাক্ষ্যগ্রহণ চললেও ইমারত আইনের মামলাটি উচ্চ আদালতের স্থগিতাদেশে আটকে আছে।
বিচার বিলম্ব: ১২ বছরে ৮৩ সাক্ষী
হত্যা মামলায় অভিযোগ গঠন হয় প্রায় আট বছর আগে। এর প্রায় সাড়ে পাঁচ বছর পর ২০২২ সালের ৩১ জানুয়ারি সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হয়। এ পর্যন্ত ৫৯৪ জন সাক্ষীর মধ্যে ৮৩ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ হয়েছে, ৮৪তম সাক্ষী প্রক্রিয়াধীন। সর্বশেষ ২১ এপ্রিল চারজন সাক্ষ্য দেন।
অন্যদিকে, ইমারত নির্মাণ আইনের মামলায় সাক্ষ্যগ্রহণ এখনও শুরুই হয়নি। সাভার পৌরসভার সাবেক কমিশনার হাজি মোহাম্মদ আলীর আবেদনের প্রেক্ষিতে উচ্চ আদালত মামলার কার্যক্রম স্থগিত রেখেছে।
আসামিদের আইনি লড়াই ও কারাবন্দি যুবলীগ নেতা সোহেল রানা
২০১৫ সালে দায়ের করা হত্যা মামলায় অভিযুক্ত ৪১ জনের মধ্যে তিনজন মারা গেছেন, বর্তমানে আসামির সংখ্যা ৩৮ জন। মূল আসামি ভবন মালিক তখনকার প্রভাবশালী যুবলীগ নেতা সোহেল রানা ১২ বছর ধরে কারাগারে বন্দি।
আসামিপক্ষ বলছে, সোহেল রানা বিচারহীনভাবে বন্দি, অথচ তিনি ভবনের মালিক ছিলেন না, মালিক ছিলেন তার বাবা। অন্যদিকে, রাষ্ট্রপক্ষ বলছে, মামলার প্রক্রিয়া দ্রুত শেষ করার চেষ্টা চলছে।
বিচার বিলম্বের দায় নিয়ে পাল্টাপাল্টি বক্তব্য
রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী ইশতিয়াক হোসেন জিপু বলেন, মামলার স্থগিতাদেশের সুযোগে অনেক সময় নষ্ট হয়েছে, তবে এখন দ্রুত সাক্ষ্যগ্রহণের চেষ্টা চলছে।
আসামিপক্ষের আইনজীবী মাসুদ খান খোকন বলেন, “১২ বছর কারাগারে থাকা কোনো আসামি যদি খালাস পান, তাহলে তার হারানো সময় কে ফিরিয়ে দেবে?”
বিচারের গতি নিয়ে সংশয়
এই মামলার বিচারিক কার্যক্রমে দীর্ঘসূত্রতা, উচ্চ আদালতের স্থগিতাদেশ ও রাষ্ট্রপক্ষের ধীর পদক্ষেপ নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন সাধারণ মানুষ ও মানবাধিকারকর্মীরা।
দীর্ঘ এক যুগ পরও রানা প্লাজার ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে উঠে আসা আর্তনাদের প্রতিধ্বনি এখনো স্তব্ধ হয়নি। স্বজন হারানো পরিবারগুলো এখনও বিচারের অপেক্ষায়, চোখে শুধু একটাই প্রশ্ন—“এই বিচার কী আদৌ শেষ হবে?”