শচীন টেন্ডুলকারের জন্মদিনে কিংবদন্তির গল্প
দিগন্ত জার্নাল ডেস্ক:
বৃহস্পতিবার, ২৪ এপ্রিল ২০২৫ | আজ ৫৩ বছরে পা রাখলেন শচীন রমেশ টেন্ডুলকার। ১৯৭৩ সালের এই দিনে মুম্বাইয়ের (তৎকালীন বোম্বে) এক সাধারণ পরিবারে জন্ম নিয়ে হয়ে ওঠেন ক্রিকেটের সবচেয়ে উজ্জ্বল নক্ষত্র। ক্রিকেট ঈশ্বর হিসেবে পরিচিত এই ব্যাটিং কিংবদন্তি ১০০ আন্তর্জাতিক সেঞ্চুরির একমাত্র মালিক।
ছেলেবেলায় শচীনের ব্যাটিং দেখে স্ত্রীকে ডেকে বলেছিলেন ডন ব্র্যাডম্যান— ‘দেখো, ছেলেটি ঠিক আমার মতো খেলছে।’ পরে ১৯৯৮ সালে নিজের ৯০তম জন্মদিনে সিডনির বাড়িতে আমন্ত্রণও জানান তাকে। ব্র্যাডম্যান শচীনের ব্যাটিং টেকনিক, স্ট্রোক প্লে এবং ব্যাটের নিয়ন্ত্রণে নিজেকে খুঁজে পেয়েছিলেন।
বাবা রমেশ টেন্ডুলকার ছিলেন কবি ও অধ্যাপক, মা বিমা সংস্থার কর্মী। শচীনের ক্রিকেটজীবন শুরু হয় ১১ বছর বয়সে শিবাজি পার্কে রমাকান্ত আচরেকারের অধীনে। আচরেকার স্যারের ট্রেনিং ছিল কঠোর—৭০ জন ফিল্ডার দিয়ে রান আটকে রাখা, এক টাকায় বাজি রেখে অপরাজিত ব্যাটিং, এবং ঘুমের মধ্যেও ‘ক্রিকেট-ক্রিকেট’ বলে ওঠা।
মাত্র ১৬ বছর বয়সে পাকিস্তানের বিপক্ষে টেস্টে অভিষেক। আর ২০১২ সালের ১৬ মার্চ মিরপুরে বাংলাদেশেই গড়েন ইতিহাস—বিশ্বের প্রথম ব্যাটার হিসেবে শততম আন্তর্জাতিক সেঞ্চুরি। সেই ম্যাচেই জয় পেয়েছিল বাংলাদেশ, পাঁচ উইকেটে।
শচীন একসময় হতে চেয়েছিলেন ফাস্ট বোলার। চেন্নাইয়ে এমআরএফ পেস ফাউন্ডেশনে ট্রায়াল দিয়েও ফিরে আসতে হয়—উচ্চতা ছিল না উপযুক্ত। কিউই কিংবদন্তি রিচার্ড হ্যাডলির সেই প্রত্যাখ্যানই শচীনের ব্যাটিং ক্যারিয়ারকে দেয় নতুন পথ।
ব্যাট করেন ডান হাতে, লেখেন বাঁ হাতে। শুনতেন কিশোর কুমার, পছন্দ করতেন শচীন দেব বর্মণ। বাবার পছন্দের গানই তার জীবনের ছায়া হয়ে থেকেছে—‘জিন্দেগি কে সাফার মে গুজার জাতে হ্যায় জো মকাম…’
শচীনের জীবনের ৫২ বছর আজ কেবল ইতিহাস নয়, ক্রিকেটবিশ্বের গর্ব। তার ব্যাটে লেখা আছে এক অমর মহাকাব্য। জন্মদিনে এই কিংবদন্তিকে শ্রদ্ধা ও শুভেচ্ছা।
– দিগন্ত জার্নাল | সাম্যের আহ্বানে