সংমার্চে উঠে এলো বাবরি পুননির্মাণ ও ধর্মীয় অধিকারের দাবিতে প্রতিবাদী সুর
নিজস্ব প্রতিবেদক |
ঐতিহাসিক ‘সংমার্চ’-এ প্রতিবাদের বজ্রনিনাদ: বাবরি পুননির্মাণ ও ধর্মীয় অধিকারের দাবিতে ভারতীয় হাই কমিশন অভিমুখে সাংস্কৃতিক সংগীতযাত্রা
জাসাকের আয়োজনে ঢাকার রাজপথে প্রতিধ্বনিত হলো প্রতিবাদী স্লোগান ও মানবিক আহ্বান
ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ২৪ এপ্রিল ২০২৫:
রাষ্ট্রীয় মদতপুষ্ট হয়ে, ভারতের ক্ষমতাসীন সরকার ও উগ্র হিন্দুত্ববাদী গোষ্ঠীর নির্যাতনের শিকার ভারতীয় মুসলিমদের পাশে দাঁড়াতে আজ ঢাকায় অনুষ্ঠিত হলো এক ঐতিহাসিক সাংস্কৃতিক প্রতিবাদী সংগীতযাত্রা—‘সংমার্চ’। জাতীয় সাংস্কৃতিক কেন্দ্র (জাসাক)-এর ব্যানারে আয়োজিত এই সংগীতময় পদযাত্রা শুরু হয় দুপুর ২টায়, পল্টনের মুক্তাঙ্গন থেকে। গন্তব্য ছিল ঢাকাস্থ ভারতীয় হাই কমিশন।

জাগ্রত কবি মুহিব খানের নেতৃত্বে আয়োজিত এই ‘সংমার্চ’-এ গর্জে উঠে প্রতিবাদী সংগীত ও স্লোগান—
‘না ভারত, না বাংলাদেশ, মুসলমানের একই দেশ’,
‘না ঢাকা, না দিল্লি ভাই, মুসলমানের এক লড়াই’,
‘দেশ পরিচয়ে আমরা বাংলাদেশি, কিন্তু মুসলিম বলে সীমান্তে নেই কোনো প্রাচীর’,
‘উত্তর হতে দক্ষিণ মেরু—সীমান্ত খুলে দাও, সারা দুনিয়ার মুসলমানের বন্ধন ছিঁড়ে দাও।’

রাজপথে প্রতিধ্বনিত এসব স্লোগানে ঢাকার বাতাস ভারী হয়ে ওঠে। অংশগ্রহণকারীদের চোখে মুখে ছিল সংকল্প আর সুরে ছিল সংবেদনশীল প্রতিবাদের ছোঁয়া।
পদযাত্রা শেষে ভারতীয় হাই কমিশনের কাছে হস্তান্তরের জন্য প্রস্তুত একটি স্মারকলিপি সাংবাদিকদের উদ্দেশে পাঠ করে শোনান জাতীয় সাংস্কৃতিক কেন্দ্রের সভাপতি, সময়ের আলোকিত চিন্তক, জাগ্রত কবি মুহিব খান। স্মারকলিপিতে দাবি জানানো হয়—

- অযোধ্যার ঐতিহাসিক বাবরি মসজিদের পুনর্নির্মাণ,
- ভারতীয় ওয়াকফ বোর্ড সংশোধনী আইন বাতিল,
- ভারতীয় মুসলিমদের সাংবিধানিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও ধর্মীয় অধিকার রক্ষা,
- এবং উগ্র ধর্মান্ধ ও সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ।
এছাড়াও, বাংলাদেশ সরকারকে আহ্বান জানানো হয়—মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক পর্যায়ে সম্ভাব্য সব ধরনের কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের।

অনুষ্ঠানস্থলে নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা বজায় রাখার জন্য বাংলাদেশ পুলিশ প্রশাসনের ভূমিকায় সন্তুষ্টি প্রকাশ করেন কবি মুহিব খান। পাশাপাশি, প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকদের সাহসিক ভূমিকার প্রশংসা করে সত্য ও ন্যায়ের পক্ষে সোচ্চার ভূমিকা অব্যাহত রাখার অনুরোধ জানান তিনি।

এই সংমার্চে আরও উপস্থিত ছিলেন—
সিনিয়র সহ-সভাপতি রশিদ আহমদ ফেরদৌস, সহ-সভাপতি ওসমান গনি, সাধারণ সম্পাদক কাউসার আহমদ সুহাইল, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক রিয়াদ হায়দার, সহ-সাধারণ সম্পাদক মাইনুদ্দিন ওয়াদুদ, ইব্রাহিম কোব্বাদী, ইয়াসিন হায়দার, আহমদ আবু জাফর, গবেষণা সম্পাদক আফজাল হুসাইন, সাংস্কৃতিক সম্পাদক ইলিয়াস হাসান, সাহিত্য সম্পাদক ইখতিয়ার হুসাইন, মিডিয়া সম্পাদক বোরহান উদ্দিন, শরিয়া বিষয়ক সম্পাদক ইমরানুল বারী সিরাজী কেন্দ্রীয় সদস্য কবি ইউনুস খান-সহ অসংখ্য নেতাকর্মী ও সাংস্কৃতিক সংগঠক ও বিভিন্ন শ্রেণী পেশার মানুষ।
সাংস্কৃতিক প্রতিবাদের শক্তি যে কতটা গভীর, মানবতা ও ঐক্যের সুরে গাঁথা হয়ে তা আন্তর্জাতিক মহলের দৃষ্টি আকর্ষণ করতে পারে—‘সংমার্চ’-এর মাধ্যমে সেটাই আরেকবার প্রমাণ করল জাতীয় সাংস্কৃতিক কেন্দ্র।