জাসাকের 'সংমার্চে' মুহিব খানের আন্তর্জাতিক মনোযোগের আহ্বান - দিগন্ত জার্নাল

জাসাকের ‘সংমার্চে’ মুহিব খানের আন্তর্জাতিক মনোযোগের আহ্বান

নিজস্ব প্রতিবেদক:

ভারতীয় মুসলিম নির্যাতনের প্রতিবাদে ঢাকায় জাসাকের অনন্য সাংস্কৃতিক পদক্ষেপ ‘সংমার্চ’।

২৪ এপ্রিল বৃহস্পতিবার, গতকালের এই দিনটি বাংলাদেশের রাজপথে ইতিহাসের পাতায় এক নতুন মাত্রা যোগ করলো—ধর্মীয় অধিকার, মানবতা ও আন্তর্জাতিক ন্যায়বিচারের দাবিতে অনুষ্ঠিত হলো এক ব্যতিক্রমী সাংস্কৃতিক প্রতিবাদ—‘সংমার্চ’। জাতীয় সাংস্কৃতিক কেন্দ্র (জাসাক)-এর ব্যানারে ঢাকার পল্টনের মুক্তাঙ্গন থেকে ভারতীয় হাই কমিশন অভিমুখে এই সংগীতময় পদযাত্রা ছিলো শুধু একটি প্রতিবাদী কর্মসূচি নয়, বরং এক শিল্পসম্মত, মননশীল ও মানবিক আন্দোলনের অনন্য রূপ।

এই ‘সংমার্চ’ ছিল রাজপথে কণ্ঠ মিলিয়ে প্রতিবাদের এক সুরেলা উদ্ভাসন—যেখানে সংগীত, স্লোগান ও মানবিক বার্তার মিশ্রণে তৈরি হয় এক সাংস্কৃতিক-রাজনৈতিক চেতনার ঢেউ। ‘না ভারত না বাংলাদেশ, মুসলমানের একই দেশ’ কিংবা ‘সারা দুনিয়ার মুসলমানের বন্ধন ছিঁড়ে দাও’—এই ধরণের স্লোগানগুলো কেবল ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ নয়, বরং একটি বৃহত্তর ইসলামী ভ্রাতৃত্বের প্রত্যাশা ও অধিকারের সংগ্রামের গভীর আবেদন।

সময়ের আলোকিত জ্ঞানী, জাগ্রত কবি মুহিব খানের নেতৃত্বে অনুষ্ঠিত এই আয়োজন গোটা অনুষ্ঠানকে দিয়েছে এক কবিতাময়, তাত্ত্বিক ও বুদ্ধিবৃত্তিক আবরণ। তিনি শুধু একজন সাংগঠনিক নেতা নন—তিনি একজন সাংস্কৃতিক বিপ্লবী, যিনি কবিতাকে করেছেন প্রতিবাদের অস্ত্র, কণ্ঠস্বরকে করেছেন সাম্য-সুন্দরবোধের দূত। স্মারকলিপির মধ্য দিয়ে বাবরি মসজিদের পুননির্মাণ, ওয়াকফ সংশোধনী আইন বাতিল, ভারতীয় মুসলিমদের সাংবিধানিক ও ধর্মীয় অধিকার সুরক্ষা, এবং ধর্মান্ধ শক্তির বিরুদ্ধে রাষ্ট্রীয় অবস্থান গ্রহণের যে দাবি তোলা হয়েছে—তা ভারতের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে একটি মানবিক প্রশ্নচিহ্ন তৈরি করে।

এই সংমার্চের মাধ্যমে বাংলাদেশের সাংস্কৃতিক কর্মীরা দেখালেন—রাজপথে শুধু স্লোগান নয়, গান, কবিতা, প্রতিবাদী সুর আর ভাবনার গভীরতা দিয়েও আন্তর্জাতিক ইস্যুতে অবস্থান নেয়া যায়। এটি শুধু ভারতের মুসলিমদের জন্য সমর্থন ছিল না; এটি ছিল মানবিকতা, সহাবস্থান ও আধ্যাত্মিক অধিকার রক্ষার পক্ষে একটি কৌশলী ও সংবেদনশীল অবস্থান।

জাসাকের এই আয়োজন আমাদের শেখায়—নির্যাতনের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ কেবল রাজনৈতিক ভাষায় নয়, শিল্পের ভাষাতেও সম্ভব। এই সংমার্চ আমাদের মনে করিয়ে দেয়—যেখানে শোষণ, সেখানেই প্রতিরোধ, আর সেই প্রতিরোধ যদি হয় সংস্কৃতির মাধ্যমে, তবে তার প্রভাব হয় সুদূরপ্রসারী।

আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে কিংবা কূটনৈতিক চ্যানেলে এই আয়োজনের আলোড়ন কতটুকু তুলবে, তা ভবিষ্যতই বলবে। তবে আজকের এই সংমার্চ নিশ্চিতভাবেই বাংলাদেশের সাংস্কৃতিক প্রতিবাদের ইতিহাসে এক নতুন বাঁক, এক জাগরণ—যা হয়তো আজ সূচনা করলো আগামী দিনের বৈশ্বিক ন্যায়বোধের এক জোরালো অধ্যায়ের।

an adbox will go here