জুলাই বিপ্লবে শহীদের মেয়ে আত্মহত্যায় ক্ষোভ প্রকাশ গণঅধিকার পরিষদের শহিদুলের
দিগন্ত জার্নাল ডেস্ক:
রবিবার, ২৭ এপ্রিল ২০২৫ |পটুয়াখালীর দুমকি উপজেলার জুলাই আন্দোলনের শহিদ জসীম উদ্দিনের ১৭ বছর বয়সি কন্যা লামিয়া আক্তারের আত্মহত্যার ঘটনায় গভীর ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন গণ অধিকার পরিষদের কেন্দ্রীয় কমিটির উচ্চতর পরিষদের সদস্য কৃষিবিদ শহিদুল ইসলাম ফাহিম।
ঘটনা জানার পরপরই তিনি ঢাকার সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ছুটে যান এবং সেখান থেকে শনিবার রাত দেড়টায় যুগান্তরের প্রতিবেদকের সঙ্গে কথা বলেন। শহিদুল ফাহিম বলেন, এ ঘটনায় লামিয়ার মা ও শহিদ জসীম উদ্দীনের স্ত্রী রুমা বেগমও অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “লামিয়া আমাদের এলাকার মেয়ে। তার সঙ্গে অনেকবার কথা হয়েছে। মেয়েটি মানসিকভাবে অনেক দৃঢ় ছিল। ধর্ষণের ঘটনার পর নিজেই থানায় গিয়ে অভিযোগ করেছিল। হঠাৎ এমন কী ঘটল যে আজ তাকে আত্মহত্যা করতে হলো? এ বিষয়টি অবশ্যই তদন্ত করে বের করতে হবে।”
তিনি আরও বলেন, “এ ধরনের ঘটনায় রাষ্ট্র কোনোভাবেই দায় এড়াতে পারে না। ৯০ দিনের মধ্যে ধর্ষণের বিচার হওয়ার কথা থাকলেও তা আজও দৃশ্যমান নয়। লামিয়া-আছিয়া-সহ সকল ধর্ষণের ঘটনার বিচার নিশ্চিত করতে আমাদের আবার জেগে উঠতে হবে। ধর্ষকদের এমন শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে, যা সারাদেশে দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।”
উল্লেখ্য, শনিবার রাত নয়টায় ঢাকার শেখেরটেকের ৬ নম্বর রোডের বি/৭০ নম্বর বাড়িতে আত্মহত্যা করেন লামিয়া আক্তার। এর আগে, গত ১৮ মার্চ সন্ধ্যায় পটুয়াখালীর দুমকি উপজেলার পাঙ্গাসিয়া ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডে শহিদ জসীম উদ্দিনের কবর জিয়ারত শেষে নানাবাড়ি যাওয়ার পথে নলদোয়ানী এলাকায় লামিয়ার ওপর হামলা চালায় সাকিব ও সিফাত নামের দুজন যুবক। তারা পিছু নিয়ে মুখ চেপে ধরে পার্শ্ববর্তী জলিল মুন্সির বাগানে নিয়ে গিয়ে লামিয়াকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ করে এবং নগ্ন ছবি তুলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দেয়। ঘটনার পর লামিয়া সাহসিকতার সঙ্গে থানায় অভিযোগ দায়ের করেছিলেন। তবে শেষ পর্যন্ত বিচার না পেয়ে এবং নানা সামাজিক চাপের মুখে তিনি আত্মহত্যার পথ বেছে নেন।