নেত্রকোনায় ইটভাটা নির্মাণে বাঁধার ঘটনায় ৮ বছর পর আ’লীগ নেতাদের বিরুদ্ধে মামলা
দিগন্ত জার্নাল ডেস্ক:
রবিবার, ২৭ এপ্রিল ২০২৫ | নেত্রকোনার পূর্বধলায় ইটভাটা নির্মাণে বাঁধা, মোটা অংকের চাঁদা দাবি এবং ইট লুটের অভিযোগে প্রায় ৮ বছর পর ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ নেতাদের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা হয়েছে। মঙ্গলবার (২২ এপ্রিল) নেত্রকোনার দ্রুত বিচার আদালতে মামলাটি করেন পূর্বধলা উপজেলার জারিয়া ইউনিয়নের সাবেক প্রয়াত চেয়ারম্যান আব্দুল গণি তালুকদারের ছেলে মানুষউড়া গ্রামের মো. নজরুল ইসলাম তালুকদার।
মামলায় ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের সাবেক এমপি ও পূর্বধলা উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ওয়ারেসাত হোসেন বেলাল বীর প্রতীক, সাবেক উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ও উপজেলা যুবলীগের সভাপতি মো. জাহিদুল ইসলাম সুজন, সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান, সাংবাদিক, শিক্ষক ও পুলিশসহ আওয়ামী লীগ ও অঙ্গ সহযোগী সংগঠনের ৪৮ নেতাকর্মীর নাম উল্লেখ করা হয়েছে। পাশাপাশি মামলায় আরও ৪০-৫০ জন অজ্ঞাত ব্যক্তির সংশ্লিষ্টতার কথাও বলা হয়েছে।
মামলার বিবরণে বলা হয়, ২০১৭ সালে নজরুল ইসলাম প্রায় কোটি টাকা খরচ করে মানুষউড়া গ্রামের ফজলুল হক তালুকদারের বাড়ির পাশে একটি ইটভাটা তৈরির প্রস্তুতি নেন এবং ৫ লাখ ইট রাস্তার পাশে রাখেন। এ খবর পেয়ে সাবেক এমপি বেলাল ও অন্য আসামিরা ইটভাটা নির্মাণে বাধা দেন এবং ৫০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন। নজরুল ইসলাম চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে ২০১৭ সালের ২৪ অক্টোবর সকালে পূর্বধলা থানার পুলিশ ও বেলালের নিজস্ব বাহিনী ইটভাটায় অভিযান চালায়। এ সময় নজরুল ইসলাম ও তার পরিবারকে ভয়ভীতি প্রদর্শন করে আনুমানিক ৫০ লাখ টাকার ৫ লাখ ইট লুট করে ট্রাক ও ট্রলিতে করে নিয়ে যাওয়া হয়।
বাদী নজরুল ইসলাম জানান, ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগের বিনাভোটের এমপি ওয়ারেসাত হোসেন বেলাল, সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান জাহিদুল ইসলাম সুজন, পূর্বধলা থানার সাবেক ওসি অভিরঞ্জন দেব, সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান মাজেদা খাতুন, যুবলীগ নেতা মাসুদ আলম টিপু, ঠিকাদার ওয়াসিম সিং, আওয়ামী লীগ নেতা নূরুল আমিন, সাংবাদিক ওয়াদুদসহ অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা এ ঘটনায় জড়িত ছিলেন। দীর্ঘদিন চেষ্টা করেও তিনি আইনি প্রতিকার পাননি, ফলে অবশেষে আদালতের দ্বারস্থ হন।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে সাবেক এমপি ওয়ারেসাত হোসেন বেলালসহ অভিযুক্তদের মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া যায় এবং ৫ আগস্টের পর থেকে তাদের এলাকাতেও দেখা যায়নি। বাদীর আইনজীবী রফিকুল ইসলাম খান জুয়েল জানান, মামলাটি দায়েরের পর বিচারক আশরাফুন্নাহার পূর্বধলা থানার ওসিকে তদন্ত করে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দিয়েছেন। পূর্বধলা থানার ওসি মোহাম্মদ নূরুল আলম জানান, মামলার বিষয়ে শুনেছেন তবে থানায় এখনো কোনো কাগজপত্র পৌঁছেনি।