বাংলাদেশের সামরিক শক্তি: গ্লোবাল ফায়ার পাওয়ার ইনডেক্স ২০২৪
দিগন্ত জার্নাল ডেস্ক:
গ্লোবাল ফায়ার পাওয়ার ইনডেক্সের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালে সামরিক শক্তির দিক থেকে বাংলাদেশ ৩৭তম অবস্থানে। ২০২৩ সালে এ অবস্থান ছিল ৪০তম। সামরিক খাত নিয়ে তথ্য সংগ্রহ এবং গবেষণার মাধ্যমে এই তালিকা প্রকাশিত হয়। ১৪৫টি দেশের মধ্যে বাংলাদেশের এই অগ্রগতি দেশের সামরিক শক্তির বৃদ্ধির দিকটি তুলে ধরেছে।
সামরিক শক্তি উন্নয়নে অগ্রগতি
বাংলাদেশ সশস্ত্র বাহিনীর সক্ষমতা বৃদ্ধির জন্য বিভিন্ন দেশ থেকে সমরাস্ত্র সংগ্রহ করেছে। এর মধ্যে রাশিয়া, চীন, তুরস্ক, ভারত এবং পশ্চিমা দেশের সমরাস্ত্র উল্লেখযোগ্য।
বিমান ও হেলিকপ্টার: বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর বহরে রয়েছে ২১২টি বিমান, যার মধ্যে যুদ্ধ বিমান ৪৪টি। এগুলোর মধ্যে রয়েছে:
এফ-৭ (চীন): ৩৬টি
মিগ-২৯ (সোভিয়েত ইউনিয়ন): ৮টি
ইয়াক-১৩০ (রাশিয়া): ১৪টি (প্রশিক্ষণ ও হালকা আক্রমণ উপযোগী)
হেলিকপ্টার বহরে রয়েছে ৭৩টি। এর মধ্যে রাশিয়ার এমআই সিরিজের হেলিকপ্টার ৩৬টি এবং যুক্তরাষ্ট্রের সেসনা ও বেলের মডেলের হেলিকপ্টার উল্লেখযোগ্য।
ড্রোন: বাংলাদেশের কাছে ৪৪টি ড্রোন রয়েছে, যার মধ্যে তুরস্কের তৈরি বায়রাক্টার টিবি-টু এবং স্লোভেনিয়ার ব্রামর সি ফোর আই উল্লেখযোগ্য।
সাবমেরিন ও যুদ্ধজাহাজ: বাংলাদেশ নৌবাহিনীর কাছে রয়েছে:
সাবমেরিন: ২টি (চীনের তৈরি)
ফ্রিগেট ও কর্ভেট যুদ্ধজাহাজ: ১৩টি
ট্যাংক ও কামান:
ট্যাংক: ৩২০টি (চীনের টাইপ-৫৯ অন্যতম)
কামান: ৪৬৪টি, এর মধ্যে ২৭টি স্বয়ংক্রিয়।
মাল্টিপল রকেট লঞ্চার সিস্টেম (এমএলআরএস): ৭৭টি (চীন ও তুরস্ক থেকে সংগ্রহিত)
সমরাস্ত্র কারখানা: গাজীপুরের সমরাস্ত্র কারখানায় স্মল আর্মস এবং গোলাবারুদ তৈরি হয়। চীনের সহযোগিতায় শুরু হওয়া এ প্রকল্প এখন সম্পূর্ণ কার্যকর।
সামরিক ক্রয়ের বিবেচ্য বিষয়
বাংলাদেশ সামরিক ক্রয়ের ক্ষেত্রে গুরুত্ব দেয়:
রক্ষণাবেক্ষণের সহজলভ্যতা
সম্ভাব্য প্রতিপক্ষের রণকৌশল
প্রতিপক্ষের অস্ত্র মোকাবেলায় প্রয়োজনীয় সক্ষমতা
২০২৪-২৫ অর্থবছরে প্রতিরক্ষা বাজেট ধরা হয়েছে ৪২ হাজার কোটি টাকা, যা পূর্ববর্তী বছরের তুলনায় প্রায় ৪ হাজার কোটি টাকা বেশি।