দ্বিতীয় দিনে ঢাকা ছাড়লেন ৫২০০ হজযাত্রী - দিগন্ত জার্নাল

দ্বিতীয় দিনে ঢাকা ছাড়লেন ৫২০০ হজযাত্রী

দিগন্ত জার্নাল ডেস্ক:

বুধবার,(৩০ এপ্রিল ২০২৫) যাত্রীদের পদচারণায় মুখর হয়ে উঠেছে রাজধানীর এয়ারপোর্ট এলাকার আশকোনা হজ ক্যাম্প প্রাঙ্গণ। ২০২৫ সালের হজ কার্যক্রম উদ্বোধনের পর আজ দ্বিতীয় দিনে সর্বোচ্চ ৫২০০ জন হজযাত্রী পবিত্র মক্কার উদ্দেশ্যে ঢাকা ত্যাগ করেছেন।

হজ ক্যাম্প পরিচালক মো. লোকমান হোসেন জানিয়েছেন, আজ ১৩টি ফ্লাইটে এই বিপুল সংখ্যক যাত্রী সৌদি আরব গেছেন। আগের দিন ১০টি ফ্লাইটে ৪১১৮ জন যাত্রী হজে যান।

ক্যাম্পে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর উপস্থিতির পাশাপাশি দায়িত্ব পালন করছে স্বেচ্ছাসেবক দল। যদিও কারিগরি ত্রুটির কারণে কিছু যাত্রীর ভিসা হাতে পেতে বিলম্ব হচ্ছে বলে জানা গেছে।

দুপুর ১২টায় আশকোনা হজ ক্যাম্পে গিয়ে দেখা যায়, একের পর এক যাত্রীবোঝাই যানবাহন এসে থামছে প্রবেশ ফটকে। পরনে এহরামের শুভ্র পোশাকে নেমে আসছেন হজযাত্রীরা। স্কাউট সদস্য ও নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা যাত্রীদের রাস্তা দেখিয়ে দিচ্ছেন।

ক্যাম্পের ভেতরে আঞ্জুমান ই খাদেমুল হজ বাংলাদেশ টিম যাত্রীদের তথ্যকেন্দ্র থেকে রিপোর্টিং, ব্যাগেজ ও ইমিগ্রেশন সংক্রান্ত সহায়তা দিচ্ছেন। বয়স্ক যাত্রীদের জন্য আলাদা সহায়তাও রয়েছে।

ইমিগ্রেশন লাইনে দাঁড়ানো পঞ্চগড়ের যাত্রী রিয়াজুল মাহমুদ আবিদ জানান, ট্রেনে কিছু সমস্যা হলেও হজ ক্যাম্পে এসে ভাল লেগেছে। তার ফ্লাইট বিকেল ৫টা ৩৫ মিনিটে।

রাজশাহীর সত্তরোর্ধ্ব আহমদ হোসেন ও তার স্ত্রী বলেন, “২৮ তারিখে এসে উঠেছি, কোনো সমস্যা হয়নি। কাল আমাদের ফ্লাইট।”

সিলেটের ছাতক থেকে আসা পঞ্চাশোর্ধ্ব মজিবর রহমান জানান, এবার সরকারি খরচে হজে যেতে পেরে খুশি। তার ভাষায়, “চার লক্ষ আশি হাজার টাকায় হজে যাচ্ছি, সব মিলিয়ে ছয় লক্ষ টাকার মধ্যে শেষ হবে বলে মনে হচ্ছে। এর আগেরবার আট লাখ টাকা লেগেছিল।”

ইমিগ্রেশন কেন্দ্র ঘুরে দেখা গেছে, যাত্রীরা সারিবদ্ধভাবে ব্যাগ স্ক্যানিংয়ের পর ইমিগ্রেশন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করছেন। বাংলাদেশ বিমানের এক কর্মকর্তা জানান, এখানে বাংলাদেশের ইমিগ্রেশন শেষ হলে শাহজালালে সৌদি ইমিগ্রেশন হবে। এতে করে মক্কায় গিয়ে যাত্রীদের নতুন করে কোনো প্রক্রিয়ায় যেতে হবে না।

হজ ক্যাম্প পরিচালক জানান, “৭০ শতাংশ ভিসা ইতোমধ্যে অনলাইনে সম্পন্ন হয়েছে। কিছু কারিগরি সমস্যার কারণে কিছু যাত্রী এখনো ভিসা পাননি, তবে ইনশাআল্লাহ সবাই পাবেন।”

তিনি আরও বলেন, “মানুষের প্রত্যাশা বাড়ছে, আমরাও সেবার মান বাড়াতে চেষ্টা করছি, যেন যাত্রীরা নিশ্চিন্তে আল্লাহর ঘরে যেতে পারেন।”

an adbox will go here