হেফাজতের মহাসমাবেশস্থ ধীরে ধীরে জনসমুদ্রে পরিণিত হতে চলেছে - দিগন্ত জার্নাল

হেফাজতের মহাসমাবেশস্থ ধীরে ধীরে জনসমুদ্রে পরিণিত হতে চলেছে

নিজস্ব প্রতিবেদক:

শনিবার, (৩ মে ২০২৫) নারীবিষয়ক সংস্কার কমিশনের কুরআনবিরোধী প্রতিবেদন ও কমিশন বাতিলের দাবিতে আজ শনিবার রাজধানীর ঐতিহাসিক সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশ আয়োজিত মহাসমাবেশে যোগ দিতে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে দলে দলে লোকজন আসতে শুরু করেছেন।

সকালের দিকে রাজধানীর প্রবেশমুখগুলোতে হেফাজতের সমর্থকদের ভিড় লক্ষ করা গেছে। দলীয় পতাকা, ব্যানার ও স্লোগানে মুখরিত হয়ে উঠেছে সমাবেশস্থল ও আশপাশের এলাকা।

এর আগে শুক্রবার সংগঠনটির আমির আল্লামা মুহিব্বুল্লাহ বাবুনগরী ও মহাসচিব মাওলানা সাজেদুর রহমান এক যৌথ বিবৃতিতে দেশবাসীকে এ সমাবেশে যোগ দেওয়ার আহ্বান জানান।

বিবৃতিতে তারা বলেন, কওমি আলেম-ওলামা ও ধর্মপ্রাণ নারী সমাজের পরামর্শ ছাড়া গঠিত বর্তমান কমিশন একতরফাভাবে ইসলামবিরোধী ও পশ্চিমা মূল্যবোধে প্রভাবিত প্রতিবেদন তৈরি করেছে। তারা বলেন, ‘জুলাইয়ের গণঅভ্যুত্থানে জীবন বাজি রেখে যেসব মা-বোন রাজপথে নেমেছিলেন, তাদের ধর্মীয় মূল্যবোধকে উপেক্ষা করে কুরআনবিরোধী ও নারীর মর্যাদাবিরোধী কমিশন আমাদের কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যাবে না।’

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, কথিত প্রতিবেদন নারীকে ইউরোপীয় সমাজের অনুকরণে বাজারি পণ্য ও যৌনদাসীতে পরিণত করার নীলনকশা। পতিতাবৃত্তিকে শ্রমের মর্যাদা দেওয়ার প্রস্তাব নারীর মর্যাদাকে চরমভাবে অবমাননা করেছে বলেও দাবি করেন নেতারা।

তারা আরও বলেন, ‘বিয়ে, তালাক ও উত্তরাধিকার সংক্রান্ত কুরআনের বিধান উপেক্ষা করে কোনো সংস্কার চাপিয়ে দেওয়া যাবে না। “বৈবাহিক ধর্ষণ” শব্দ এনে দেশের পারিবারিক কাঠামো ধ্বংসের যে ষড়যন্ত্র চলছে, তা হেফাজতে ইসলাম রুখে দেবে ইনশাআল্লাহ।’

হেফাজতের নেতারা অভিন্ন পারিবারিক আইন প্রস্তাবকে সব ধর্মের ওপর রাষ্ট্রীয় হস্তক্ষেপ হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, এটি ধর্মীয় স্বাধীনতায় আঘাতের শামিল। একইসঙ্গে তারা নতুনভাবে নারীবিষয়ক কমিশন গঠনের দাবি জানান, যেখানে আলেম-ওলামা ও ধর্মভিত্তিক নারী প্রতিনিধিরা অন্তর্ভুক্ত থাকবেন।

বিবৃতির শেষ অংশে তারা বলেন, ‘রাষ্ট্র সংস্কার পেইড এনজিওদের কাজ নয়। পশ্চিমা সংস্কৃতির অনুকরণে নয়, বরং আমাদের নিজস্ব ঐতিহ্য ও ধর্মীয় মূল্যবোধ অনুযায়ী নারী উন্নয়ন ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে।’

an adbox will go here