নারী কমিশন বাতিলের দাবিতে হেফাজতের মহাসমাবেশ: ড. ইউনূসকে সরাসরি সতর্কবার্তা - দিগন্ত জার্নাল

নারী কমিশন বাতিলের দাবিতে হেফাজতের মহাসমাবেশ: ড. ইউনূসকে সরাসরি সতর্কবার্তা

দিগন্ত জার্নাল

শনিবার, (৩ মে ২০২৫) নারীবিষয়ক সংস্কার কমিশন বাতিলসহ চার দফা দাবিতে রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে শনিবার অনুষ্ঠিত হয়েছে হেফাজতে ইসলামের বিশাল মহাসমাবেশ। সকাল ৯টা থেকে সমাবেশ শুরু হয় আমির আল্লামা শাহ্ মুহিব্বুল্লাহ্ বাবুনগরীর সভাপতিত্বে, যেখানে সংগঠনটির শীর্ষ নেতৃবৃন্দসহ দেশের প্রথিতযশা উলামায়ে কেরাম উপস্থিত থেকে বক্তব্য প্রদান করেন।

সমাবেশে বক্তারা অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে উদ্দেশ্য করে বলেন, “শেখ হাসিনার মতো ভুল করবেন না। ৯০ শতাংশ মুসলমানের এই দেশে কুরআন-সুন্নাহবিরোধী কোনো নীতি বাস্তবায়নের সাহস দেখাবেন না। অবিলম্বে নারী সংস্কার কমিশনসহ সংশ্লিষ্ট প্রতিবেদন বাতিল ঘোষণা করুন এবং শাপলা চত্বরে সংঘটিত গণহত্যার বিচার নিশ্চিত করুন।”

বক্তারা আরও বলেন, “আপনারা পিলখানা হত্যাকাণ্ডে তদন্ত কমিশন গঠন করেছেন, জুলাইয়ের আন্দোলনে তদন্ত ও ট্রাইব্যুনাল দিয়েছেন, অথচ মতিঝিলের শাপলা চত্বরে হেফাজতের সমাবেশে সংঘটিত গণহত্যার বিচার নিয়ে কোনো কমিশন আজও হয়নি। এটি গভীর ষড়যন্ত্রের অংশ।”

সমাবেশে অধিকাংশ বক্তার মূল বক্তব্যে নারীবিষয়ক সংস্কার কমিশনের প্রতিবেদনকে ‘কুরআন-সুন্নাহবিরোধী’ বলে উল্লেখ করা হয়। বক্তারা অভিযোগ করেন, “কমিশনের সদস্যরা নারী না পুরুষ, সেটাও স্পষ্ট নয়। কিন্তু তারা যে সংস্কার প্রস্তাব দিয়েছেন, তা ইসলামের শিক্ষা ও সমাজের ধর্মীয় চেতনাবিরুদ্ধ।” এ সময় হেফাজতের পক্ষ থেকে হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়, প্রতিবেদন পাস করা হলে ‘জীবন দিয়ে তা প্রতিহত করা হবে।’ প্রয়োজনে ‘মার্চ টু ঢাকা’ কর্মসূচিও ঘোষণা করা হবে বলে জানানো হয়।

মুফতি ফখরুল ইসলাম তাঁর বক্তব্যে বলেন, “নির্যাতিত হলাম, জেল খাটলাম, কিন্তু আজও আমাদের বিরুদ্ধে দায়ের করা মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার করা হয়নি। এসব মামলা অবিলম্বে বাতিল করতে হবে।” তিনি আরও বলেন, “নারী কমিশনের প্রতিবেদন ১৮ কোটি মুসলমানের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে, তাই সেটি বাতিল না হলে আমাদের কর্মসূচি আরও কঠোর হবে।”

মহাসমাবেশ থেকে ফিলিস্তিন ও ভারতে মুসলিম গণহত্যা ও নিপীড়ন বন্ধে সরকারকে কার্যকর কূটনৈতিক পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়।

সাধারণ মানুষের ব্যাপক অংশগ্রহণ, নিরাপত্তা বাহিনীর সতর্ক উপস্থিতি এবং সরকারের নীতির প্রতি সরাসরি প্রশ্ন রেখে অনুষ্ঠিত এই মহাসমাবেশটি হেফাজতে ইসলামের ধারাবাহিক কর্মসূচির চতুর্থ ধাপ হিসেবে গণ্য হচ্ছে।

an adbox will go here