ফ্যাসিস্ট হাসিনা সরকারের রাষ্ট্রপতি হামিদের দেশত্যাগ, দেশজুড়ে সমালোচনার ঝড় - দিগন্ত জার্নাল

ফ্যাসিস্ট হাসিনা সরকারের রাষ্ট্রপতি হামিদের দেশত্যাগ, দেশজুড়ে সমালোচনার ঝড়

দিগন্ত জার্নাল ডেস্ক:

শুক্রবার, (৯ মে ২০২৫) হত্যা মামলার আসামি হওয়া সত্ত্বেও ফ্যাসিস্ট হাসিনা সরকারের সাবেক রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদের দেশত্যাগ নিয়ে দেশজুড়ে শুরু হয়েছে তুমুল সমালোচনা। বুধবার রাত ৩টা ৫ মিনিটে থাই এয়ারওয়েজের ফ্লাইটে তিনি চিকিৎসার জন্য ব্যাংকক যান। সাথে ছিলেন তার ছোট ছেলে রিয়াদ আহমেদ ও শ্যালক ডা. এএম নওশাদ খান। গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর উপস্থিতিতে ভিআইপি টার্মিনাল ব্যবহার করে চার ঘণ্টার আনুষ্ঠানিকতা শেষে তিনি নির্বিঘ্নে দেশ ত্যাগ করেন।

বিশ্বস্ত সূত্র বলছে, আবদুল হামিদের ইমিগ্রেশন বিষয়ে তিনটি গোয়েন্দা সংস্থা অবহিত ছিল এবং তাদের ঊর্ধ্বতনদের অনুমতি সাপেক্ষেই সব কিছু সম্পন্ন হয়। একটি গোয়েন্দা সংস্থা ইতোমধ্যে বিস্তারিত প্রতিবেদন সরকারের উচ্চপর্যায়ে পাঠিয়েছে, যাতে জড়িত কর্মকর্তাদের নাম, পদবি ও মোবাইল নম্বর পর্যন্ত উল্লেখ আছে। পুলিশ জানায়, তার দেশত্যাগে কোনো নিষেধাজ্ঞা বা আদালতের নির্দেশনা না থাকায় ইমিগ্রেশন তাকে আটকায়নি।

তবে এই ঘটনায় তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে রাজনৈতিক মহলে। জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি), ইনকিলাব মঞ্চ এবং গণঅধিকার পরিষদসহ একাধিক সংগঠন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টার পদত্যাগ দাবি করে ৪৮ ঘণ্টার আলটিমেটাম দিয়েছে। ইতোমধ্যে ইমিগ্রেশন পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার তাহসিনা আরিফ, তদন্ত কর্মকর্তা এসআই আজহারুল ইসলাম, এসবি কর্মকর্তা সোলায়মান এবং কিশোরগঞ্জের পুলিশ সুপারকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। ঘটনার তদন্তে অতিরিক্ত আইজিপির নেতৃত্বে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটিও গঠন করা হয়েছে।

গণঅধিকার পরিষদের যুব সংগঠন বৃহস্পতিবার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ঘেরাও করে স্মারকলিপি দিয়েছে। এতে বলা হয়, দোষীদের বিচারের আওতায় না আনলে এবং হামিদকে ফেরত আনার উদ্যোগ না নিলে দেশের প্রতিটি জেলায় আন্দোলন গড়ে তোলা হবে।

উল্লেখ্য, ২০২৩ সালের ২৪ এপ্রিল পর্যন্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করেন আবদুল হামিদ। এরপর তিনি সাধারণ পাসপোর্ট গ্রহণ করেন। তার বিরুদ্ধে কিশোরগঞ্জ থানায় দায়েরকৃত একটি হত্যা মামলাসহ ১২৪ জনকে আসামি করে একটি মামলা চলমান রয়েছে। আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর অন্তর্বর্তীকালীন সরকার দায়িত্ব নিলেও বিতর্কিতভাবে সাবেক এই রাষ্ট্রপতির বিদেশযাত্রা সরকারের স্বচ্ছতা ও দায়বদ্ধতা নিয়ে বড় প্রশ্ন তুলেছে।

এ বিষয়ে তদন্ত কমিটির প্রধান অতিরিক্ত আইজিপি মতিউর রহমান শেখ জানান, “পাসপোর্ট ও বিদেশযাত্রার অনুমতি কিভাবে পেয়েছেন এবং কারা তাকে সহযোগিতা করেছেন, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত বিস্তারিত বলা যাচ্ছে না।”

an adbox will go here