নেত্রকোণায় হরিজন সম্প্রদায়ের পুনর্বাসনের দাবিতে এনসিপি নেতৃবৃন্দের সংহতি - দিগন্ত জার্নাল

নেত্রকোণায় হরিজন সম্প্রদায়ের পুনর্বাসনের দাবিতে এনসিপি নেতৃবৃন্দের সংহতি

ফারজানা রুবি


দিগন্ত জার্নাল প্রতিবেদক


বুধবার, (১৪ মে ২০২৫) নেত্রকোণা শহরের রেলওয়ে সংলগ্ন এলাকায় বসবাসরত হরিজন সম্প্রদায়ের পুনর্বাসনের দাবিতে আজ দুপুরে পরিদর্শন ও সংহতি জানাতে ছুটে যান জাতীয় গণতান্ত্রিক শক্তি (এনসিপি) দলের কেন্দ্রীয় সংগঠক প্রীতম সোহাগসহ দলটির স্থানীয় নেতৃবৃন্দ ও নাগরিক সমাজের কয়েকজন প্রতিনিধিত্বশীল ব্যক্তি।

ব্রিটিশ আমলে ১৮৩৮ থেকে ১৮৫০ সালের মধ্যে অবহেলিত ও বঞ্চিত দলিত জনগোষ্ঠীকে উপনিবেশিক বৃটিশ সরকার ভারতবর্ষের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে পূর্ববাংলায় নিয়ে আসে। উদ্দেশ্য ছিল—তাদেরকে শহরাঞ্চলে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা, চা-বাগানের কাজ (১৮৫৩-৫৪), জঙ্গল কাটা, পয়োনিষ্কাশন ইত্যাদি খেটে খাওয়া পরিশ্রমসাধ্য কাজে নিয়োজিত রাখা। সেই ধারাবাহিকতায় রেলকেন্দ্রিক শহর নেত্রকোণায়ও গড়ে ওঠে হরিজনদের স্থায়ী বসতি, যা আজও বিদ্যমান। তারা প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে এই এলাকায় কাজ করে আসছেন, শহরের পরিচ্ছন্নতা ও নাগরিক সেবায় রেখেছেন অবদান।

সম্প্রতি বাংলাদেশ রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ সরকারি সম্পত্তি উদ্ধারে উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা শুরু করেছে। এতে করে রেল এলাকায় বসবাসরত বহু হরিজন পরিবারের মাথার উপর থেকে আশ্রয়ের ছাদ হারানোর আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। স্থানীয়ভাবে পুনর্বাসনের কোনো ঘোষণা ছাড়াই এমন উচ্ছেদের উদ্যোগে হরিজন পরিবারগুলো চরম উদ্বিগ্ন ও উৎকণ্ঠিত হয়ে পড়েছে।

আজ হরিজন সম্প্রদায়ের একজন প্রবীণ সদস্য কান্নাভেজা কণ্ঠে বলেন, “আমার দাদাও এইখানে ছিলো, বাবাও এখানেই কাজ করত। এখন আমরা যদি রাস্তায় যাই, আমাদের বাচ্চাগুলার কী হবে? আমাদের অপরাধ কী?”

এই অবস্থায় মানবিক ও সাংবিধানিক অধিকার রক্ষার দাবি তুলে হরিজন সম্প্রদায়ের পক্ষ থেকে পুনর্বাসনের দাবি জানানো হয়। তাদের এই দাবিকে সমর্থন জানিয়ে ছুটে যান এনসিপি কেন্দ্রীয় সংগঠক প্রীতম সোহাগ। তিনি বলেন, “মানুষের মাথার উপর ছাদ ভেঙে দিলে আগে ছায়ার বন্দোবস্ত করতে হয়। রাষ্ট্রের উচিত পুনর্বাসনের নিশ্চয়তা দিয়ে তারপর উচ্ছেদের কার্যক্রম হাতে নেওয়া। হরিজনরা আমাদের সমাজের অবিচ্ছেদ্য অংশ। এই অবহেলিত জনগোষ্ঠীর প্রতি দায়িত্বশীল আচরণ না হলে এটি হবে রাষ্ট্রের এক ধরনের সামাজিক ব্যর্থতা।”

তিনি আরও বলেন, “রেলওয়ের এই অভিযান যদি প্রয়োজনীয় হয়ও, তা যেন হয় মানবিক ভিত্তিতে। এই মানুষদের সঙ্গে ব্রিটিশ আমল থেকে এদেশের রেল ও শহরের পরিচ্ছন্নতার ইতিহাস জড়িয়ে আছে। তাদের ন্যায্য অধিকার থেকে বঞ্চিত করে উচ্ছেদ রাষ্ট্রের নৈতিকতা ও মানবিকতার পরিপন্থী।”

এ সময় স্থানীয় এনসিপি নেতৃবৃন্দ ছাড়াও বিভিন্ন সামাজিক ও মানবাধিকার সংগঠনের কর্মীরাও উপস্থিত ছিলেন। তারা হরিজন পরিবারগুলোর সঙ্গে সংহতি প্রকাশ করেন এবং দ্রুত পূর্ণাঙ্গ পুনর্বাসন পরিকল্পনা ঘোষণার আহ্বান জানান।

মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে রাষ্ট্রের পক্ষ থেকে দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণ না করা হলে পরিস্থিতির আরও অবনতি হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্ট নাগরিক সমাজ।


an adbox will go here