ছাত্রদল নেতা সাম্যকে রাজনৈতিক কারণে হত্যা করা হয়েছে: রিজভী
দিগন্ত জার্নাল ডেস্ক:
বৃহস্পতিবার, (১৫ মে ২০২৫) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রদল নেতা শাহরিয়ার আলম সাম্যকে স্বাধীনতার পতাকা ও জাতীয় সংগীতের পক্ষে কথা বলার কারণে হত্যা করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী। বৃহস্পতিবার (১৫ মে) জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে উত্তরাঞ্চল ছাত্র ফোরামের আয়োজিত এক মানববন্ধনে অংশ নিয়ে তিনি বলেন, এটি একটি সুস্পষ্ট রাজনৈতিক হত্যাকাণ্ড। তিনি দাবি করেন, “গত পরশু রাত ১২টার দিকে সাম্যকে ছুরিকাঘাত করে হত্যা করা হয়। কী অপরাধ ছিল তার? কয়েকদিন আগে সে শাহবাগে জাতীয় সংগীত বন্ধের বিরুদ্ধে ফেসবুকে পোস্ট দিয়েছিল। এটাই কি তার হত্যার কারণ?”
রিজভী বলেন, “৫ আগস্টের পর একটি পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে আমরা সবাই স্বস্তির নিঃশ্বাস নিতে চেয়েছিলাম। বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস হোক জ্ঞানচর্চার স্থান, এখানে রক্ত ঝরবে কেন? এখন তো আর আওয়ামী দোসররা নেই, যারা এখন ক্ষমতায় আছেন তারা বিরোধীদলীয় হয়ে গণতন্ত্রের জন্য লড়েছেন, তাহলে বিশ্ববিদ্যালয়ে তরুণ ছাত্রের লাশ পড়বে কেন?” তিনি আরও বলেন, “তিনজন ভবঘুরে কেন একজন সচেতন ছাত্রকে খুন করবে? এসব প্রশ্ন মানুষের মনে সন্দেহ তৈরি করছে।”
আবরার হত্যার প্রসঙ্গ টেনে রিজভী বলেন, “আমরা দেখেছি, ফ্যাসিবাদী আমলে পার্শ্ববর্তী দেশের আগ্রাসনের বিরুদ্ধে কথা বলায় আবরারকে হত্যা করা হয়। আজও যদি কেউ জাতীয় সংগীত, জাতীয় পতাকা বা ৭১-এর চেতনার পক্ষে কথা বলে, তাহলে তার জীবন কেন ঝরে যাবে? এটা প্রমাণ করে, এর পেছনে গভীর রাজনৈতিক কারণ আছে।”
পুলিশকে উদ্দেশ্য করে রিজভী বলেন, “আপনারা বলছেন ভবঘুরেরা হত্যা করেছে, কিন্তু মানুষ এটা সহজভাবে নিচ্ছে না। আবরারের মতোই, সাম্যর ক্ষেত্রেও সত্য উদঘাটনের চেষ্টা করা হচ্ছে না। আজ হাসিনা নেই, তার দোসররাও নেই, তাহলে এই রক্তপাত কেন? জানুয়ারিতে তফাজ্জল নামে একজনকেও হত্যা করা হয়েছিল। ক্যাম্পাসে শান্তির পতাকা ওড়ার কথা, সেখানে রক্তপাত হওয়ার কথা নয়।”
ছাত্রদলের স্যার এএফ রহমান হল শাখার প্রকাশনা ও প্রচার সম্পাদক ছিলেন নিহত সাম্য। তাঁর মৃত্যুর বিচার ও প্রকৃত কারণ উদঘাটনের দাবিতে ছাত্রদলের পক্ষ থেকে আরও কর্মসূচির ঘোষণা আসতে পারে বলে মানববন্ধন শেষে আয়োজকেরা জানান।