বিএনপির ফজলুর রহমানের বক্তব্যে ক্ষুব্ধ হেফাজত, বক্তব্য প্রত্যাহারের আহ্বান - দিগন্ত জার্নাল

বিএনপির ফজলুর রহমানের বক্তব্যে ক্ষুব্ধ হেফাজত, বক্তব্য প্রত্যাহারের আহ্বান

নিজস্ব প্রতিবেদক:

বৃহস্পতিবার, (১৫ মে ২০২৫) বিএনপি নেতা ও চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ফজলুর রহমানের সাম্প্রতিক টেলিভিশন আলোচনায় আলেম-ওলামা ও তৌহিদি জনতাকে নিয়ে অবমাননাকর ও উস্কানিমূলক মন্তব্যের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছে হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশ। সংগঠনটির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা জুনায়েদ আল হাবিব বৃহস্পতিবার (১৫ মে) এক বিবৃতিতে এ নিন্দা জানান।

তিনি বলেন, ফজলুর রহমান সম্প্রতি একটি টকশোতে দেশের ওলামায়ে কেরাম ও দ্বীনপ্রাণ মুসলমানদের সম্পর্কে চরম অবমাননাকর, মিথ্যাচারপূর্ণ বক্তব্য দিয়েছেন এবং এমনকি আলেমদের গর্ভে ধারণ করা মায়েদের সম্পর্কেও ধৃষ্টতাপূর্ণ শব্দ ব্যবহার করেছেন। এতে ধর্মপ্রাণ মুসলমানদের হৃদয়ে গভীর আঘাত লেগেছে।

মাওলানা জুনায়েদ আল হাবিব বলেন, “২০১৩ সালে শাপলা চত্বরে হেফাজতের গণআন্দোলনের সময় দেশের আলেমদের বিরুদ্ধে যে বর্বরতা চালানো হয়েছিল তা জাতি এখনো ভুলে যায়নি। সেই সময়কার নির্যাতনের ছাপ এখনো হৃদয়ে রয়ে গেছে। সেই পটভূমিতে আজ আবারও একজন রাজনীতিকের পক্ষ থেকে আলেমদের বিরুদ্ধে বিষোদগার আমাদের শঙ্কিত করে।”

তিনি আরও বলেন, “ফজলুর রহমান দাবি করেছেন শাহবাগ ইস্যুতে বিএনপির ক্ষমা পাননি। কিন্তু তিনি যেন ভুলে না যান, শাহবাগে ইসলামবিদ্বেষী শক্তির বিরুদ্ধে তৌহিদি জনতার সঙ্গে নিয়ে হেফাজতে ইসলাম প্রতিরোধ গড়ে তুলেছিল। সেই প্রতিরোধেই আজো বাংলাদেশ ইসলামী চেতনায় চলার পথে রয়েছে। অথচ আজ সেই আলেম সমাজকে অপমান করে কেউ স্বৈরাচারী শাসন কায়েম করতে চাইলে তা জাতির জন্য বিপর্যয় ডেকে আনবে।”

বক্তব্য প্রত্যাহার না করলে কঠোর কর্মসূচির হুঁশিয়ারি দিয়ে তিনি বলেন, “এ ধরনের মন্তব্য দেশে গৃহযুদ্ধের মতো ভয়াবহ পরিস্থিতির জন্ম দিতে পারে। অবিলম্বে মন্তব্য প্রত্যাহার ও দুঃখ প্রকাশ না করলে হেফাজতে ইসলাম কঠোর আন্দোলনের দিকে যেতে বাধ্য হবে।”

জুনায়েদ আল হাবিব আরও বলেন, “দেশের আলেমরা জাতির নৈতিক দিশারী। তাঁদের অবমূল্যায়ন ও সম্মানহানির অপচেষ্টা মানেই জাতিকে ধ্বংসের দিকে ঠেলে দেওয়া। মাদরাসা শিক্ষা, ইসলামি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে পুরোনো নেতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি ও বিভ্রান্তিকর প্রচারণা অবিলম্বে বন্ধ করতে হবে।”

an adbox will go here