ভারতে আশ্রয় নেয়া হাসিনা নিষিদ্ধ আ’লীগকে সঙ্গে নিয়ে দেশবিরোধী ষড়যন্ত্রে লিপ্ত
দিগন্ত জার্নাল ডেস্ক:
শুক্রবার , (১৬ মে ২০২৫) ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের মুখে দেশ থেকে পালিয়ে ভারতে আশ্রয় নিয়েছেন সাবেক ফ্যাসিস্ট-গণহত্যাকারী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সেখান থেকে নিয়মিত দেশ ধ্বংসের ষড়যন্ত্র করে যাচ্ছে । অন্তর্বর্তী সরকার গণহত্যাকারী ফ্যাসিস্ট সংগঠন আওয়ামী লীগের সব ধরনের রাজনৈতিক কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছে। রাজনীতির মাঠে কোনঠাসা হয়ে পড়া নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ এখন নতুন কৌশলে মাঠে সক্রিয় হয়েছে। নিজেরা ভালো নেই বলেই কাউকে ভালো থাকতে দেবে না—এমন এক পরিকল্পিত ‘শপথ’ নিয়ে দেশি-বিদেশি মাস্টারমাইন্ডরা সক্রিয় রয়েছে। এসব চক্রান্তের সুস্পষ্ট আলামত ইতোমধ্যে বিভিন্ন ঘটনায় দৃশ্যমান।
সাম্প্রতিক সার্বিক প্রেক্ষাপট বিশ্লেষণ করে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা গণমাধ্যমকে এসব অভিমত জানিয়েছেন। তারা বলেন, পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করলে বোঝা যাবে—সরকারকে বিপদে ফেলতেই ষড়যন্ত্রকারী মহল প্রতিটি আন্দোলনের পেছনে সক্রিয় ভূমিকা নিচ্ছে। আন্দোলনের যৌক্তিকতা থাকুক বা না থাকুক, তারা নিজেদের লোকজন ঢুকিয়ে দিয়ে তা সরকারবিরোধী বড় ধরনের বিক্ষোভে রূপ দিতে চায়। বিশেষ করে ছাত্রদের মতো স্পর্শকাতর আন্দোলনকে ব্যবহার করছে পলাতক আওয়ামী লীগ। অন্তর্বর্তী সরকারের আট মাসে বিভিন্ন আন্দোলনের বিশ্লেষণে এর প্রমাণ মিলেছে। এজন্য বলা হচ্ছে, যেখানে আন্দোলন, সেখানেই ষড়যন্ত্রের ছায়া।
তাদের মতে, অন্তর্বর্তী সরকারের ভুল থাকতে পারে, কিন্তু এ সরকার ব্যর্থ হলে গণ-অভ্যুত্থান ব্যর্থ হবে। তাই আন্দোলনের নামে যেন কেউ লাশ ফেলার রাজনীতি ও নাশকতা না করতে পারে, সেদিকে সতর্ক থাকতে হবে। একইসঙ্গে কাঙ্ক্ষিত গণতন্ত্রের স্বার্থে প্রয়োজনীয় সংস্কার শেষে দেশকে নির্বাচনের পথে নিতে হবে।
বিশ্লেষকরা আরও বলেন, দেশকে অচল করে রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক পরিস্থিতি ঘোলাটে করতে ‘স্যাবোটাজ লীগ’ বেছে নিচ্ছে নানান কৌশল। আনসার, অটোরিকশাচালক, শিক্ষক, শ্রমিক—সব গ্রুপকে ব্যবহার করছে তারা। বিশেষ করে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে ঢুকে তা অন্য খাতে প্রবাহিত করার চেষ্টা হচ্ছে বারবার।
এ বিষয়ে গণতন্ত্র মঞ্চের শীর্ষ নেতা ও বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক বলেন, আওয়ামী লীগ ও তাদের সংগঠনের সব কার্যক্রম নিষিদ্ধ হওয়ার পর তারা ছদ্মবেশে অন্তর্ঘাতমূলক কর্মকাণ্ড চালাচ্ছে। শেখ হাসিনা দেশ ছেড়ে পালিয়ে গেছেন, কিন্তু বিদেশ থেকে সরকার উৎখাতের ষড়যন্ত্র করছেন। তার নির্দেশে দলের নেতাকর্মীরাও তৎপর।
তিনি আরও বলেন, বিশেষ করে এখন ঢাকার রাজপথে ফের অশান্ত পরিস্থিতি সৃষ্টি হচ্ছে। এর পেছনে রয়েছে নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ মদদ। অর্থ, অস্ত্র ও লোকবল দিয়ে পর্দার আড়াল থেকে সহায়তা করছে তারা। এদের মূল লক্ষ্য হলো অন্তর্বর্তী সরকারকে বেকায়দায় ফেলে ব্যর্থ প্রমাণ করা এবং জনমনে সরকারের বিরুদ্ধে ক্ষোভ তৈরি করা।
সূত্র জানায়, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-শিক্ষকদের আন্দোলন বুধবারও অব্যাহত ছিল। প্রথমদিন পুলিশের লাঠিচার্জে উত্তপ্ত হয় পরিস্থিতি। যদিও সরকারের দাবি, আন্দোলনকারীরা কোনো আলোচনা ছাড়াই প্রধান উপদেষ্টার বাসভবন ঘেরাও করে। রাতে তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা মাহফুজ আলমের ওপর পানির বোতল ছোড়া হয়, যার পেছনেও একটি ছাত্র সংগঠনের সংশ্লিষ্টতা রয়েছে বলে দাবি উঠেছে। অনেকেই মনে করছেন, এ ধরনের ঘটনায় সবচেয়ে বেশি লাভবান হবে আওয়ামী লীগ। তাই আন্দোলনের নেতৃত্বে থাকা ব্যক্তিদের এসব বিষয়ে সচেতন থাকতে হবে।
এছাড়া পুলিশের বিষয়েও সতর্ক হতে হবে, কারণ আগের সরকার আমলে নিয়োগ পাওয়া বেশির ভাগ পুলিশ সদস্য আওয়ামী লীগের অনুসারী।
গণফোরামের প্রেসিডিয়াম সদস্য অ্যাডভোকেট সুব্রত চৌধুরী বলেন, প্রয়োজনীয় সংস্কার শেষে দ্রুত নির্বাচন দিতে রাজনৈতিক দলগুলো একমত। কিন্তু নির্বাচন কবে হবে তা অনিশ্চিত। এই সুযোগে ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ ছদ্মবেশে ঢুকে পড়ছে। বিরোধী দলগুলোর বিভক্তির সুযোগও নিচ্ছে তারা। দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধি, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ও করিডর ইস্যুতে জনমনে অসন্তোষ আছে। এ সুযোগ কাজে লাগিয়ে পরিস্থিতি গুমোট করে তুলছে আওয়ামী লীগ।
সূত্র জানায়, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রদল নেতা সাম্য হত্যার পেছনেও রয়েছে এই চক্র। এর আগে গাজীপুরে এনসিপি নেতার ওপর হামলা, গাইবান্ধায় ছাত্রনেতাদের ছুরিকাঘাতসহ বিভিন্ন ঘটনার সঙ্গে ছাত্রলীগ-যুবলীগের সম্পৃক্ততা পাওয়া গেছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলেন, অন্তর্বর্তী সরকার যখন আগস্ট হত্যাকাণ্ডের বিচার ও আওয়ামী লীগ দমন নীতিতে যায়, তখনই আন্দোলনের নামে একের পর এক দাবিমিছিল নামে। শুরুতে আনসার ও ভিডিপি সদস্যদের মাঠে নামানো হয়, যাদের অনেকে ছাত্রলীগ-যুবলীগের কর্মী। এরপর রিকশাচালক, শ্রমিক, ডাক্তার, শিক্ষকসহ বিভিন্ন পেশাজীবীদের ব্যবহার করে সরকারকে চাপে ফেলার চেষ্টা চলে।
অভিযোগ রয়েছে, নিষিদ্ধ ঘোষণার পরও আওয়ামী লীগের মাস্টারমাইন্ডরা হোয়াটসঅ্যাপ ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার করে আন্দোলনে উসকানি দিচ্ছে। ফেসবুক পেজ থেকে হরতাল, মশাল মিছিলের কর্মসূচিও দেওয়া হচ্ছে। দেশি-বিদেশি ষড়যন্ত্রকারীরা ঘোলাপানিতে মাছ শিকারের এ প্রচেষ্টা অব্যাহত রেখেছে।