ডিবি হেফাজতে ২৬ ঘণ্টা আটকে রেখে মানসিক নির্যাতন চালানো হয়—অভিযোগ ইশতিয়াকের - দিগন্ত জার্নাল

ডিবি হেফাজতে ২৬ ঘণ্টা আটকে রেখে মানসিক নির্যাতন চালানো হয়—অভিযোগ ইশতিয়াকের

দিগন্ত জার্নাল ডেস্ক:

শনিবার, (১৭ মে ২০২৫) তথ্য উপদেষ্টা মাহফুজ আলমের মাথায় বোতল নিক্ষেপের ঘটনায় আলোচিত জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ইশতিয়াক হোসাইন অভিযোগ করেছেন, তাঁকে ২৬ ঘণ্টা ধরে গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) হেফাজতে আটকে রেখে মানসিক নির্যাতন করা হয়েছে। ডিবি কার্যালয় থেকে মুক্তি পাওয়ার পর শুক্রবার রাতে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তিনি এ অভিযোগ করেন।

ইশতিয়াক জানান, বৃহস্পতিবার (১৫ মে) বিকেল সাড়ে ৪টায় নিজ বাসা থেকে তাঁকে আটক করা হয়। তবে তাঁর পরিবারকে বিষয়টি জানানো হয় শুক্রবার দুপুর ২টায়। তিনি বলেন, “আমি পুরো সময়টাই অজ্ঞাতে ছিলাম। আমাকে অনেকক্ষণ ধরে নানা প্রশ্ন করে রাতভর জাগিয়ে রাখা হয়। এমনকি ফাঁসির আসামিদের সঙ্গে জেল হাজতে রাখার হুমকিও দেওয়া হয়েছিল।”

তিনি আরও দাবি করেন, “আমাকে বিভিন্ন নাম্বার থেকে ফোন করে হু’ম’কি দেওয়া হয়েছে। বলা হয়েছে, বাসা থেকে বের হলেই ম’ব আক্রমণের শিকার হবো, আমাকে খু’ন পর্যন্ত করা হতে পারে। আমি আত’ঙ্কে ছিলাম এবং এখনো মানসিকভাবে বিপর্যস্ত।”

ঘটনার সূত্রপাত ঘটে গত বুধবার (১৪ মে) রাতে, যখন তথ্য উপদেষ্টা মাহফুজ আলম জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে বক্তব্য দিচ্ছিলেন। তাঁর বক্তব্য চলাকালে শিক্ষার্থীরা ‘ভুয়া ভুয়া’ স্লোগান দেয় এবং উত্তেজনার একপর্যায়ে ইশতিয়াক হোসাইন একটি বোতল ছুড়ে মারেন, যা উপদেষ্টার মাথায় আঘাত হানে। মুহূর্তেই সেই দৃশ্য সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে এবং ঘটনাটিকে কেন্দ্র করে জাতীয় নাগরিক পার্টির নেতারা তীব্র নিন্দা জানান।

এই ঘটনার পর বৃহস্পতিবার ইশতিয়াক হোসাইনের বিরুদ্ধে গ্রে’ফ’তারি পরোয়ানা জারি করে প্রশাসন। বিকেলে তাঁকে ডিবি কার্যালয়ে নেয়া হয় এবং সেখানে ২৬ ঘণ্টা আটকে রাখা হয় বলে দাবি করেন তিনি। যদিও আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী পক্ষ থেকে এখনো তাঁর অভিযোগের বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।

ঘটনাটি ইতোমধ্যে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নতুন করে বিতর্ক সৃষ্টি করেছে। অনেকে ইশতিয়াকের উপর ‘মা’নসিক নি’র্যা’তনের’ অভিযোগ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করছেন, আবার কেউ কেউ তাঁর আচরণকে অগ্রহণযোগ্য বলেও মন্তব্য করছেন।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে এবং ঘটনার প্রকৃত তথ্য উদঘাটনে একটি নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছে বিভিন্ন মানবাধিকার সংগঠন।

an adbox will go here