নির্বাচনের দাবি গণতন্ত্রের ন্যায্য দাবি: তারেক রহমান - দিগন্ত জার্নাল

নির্বাচনের দাবি গণতন্ত্রের ন্যায্য দাবি: তারেক রহমান

দিগন্ত জার্নাল ডেস্ক:

শনিবার , (১৭ মে ২০২৫) বর্তমান অস্থির রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে বিশ্লেষকরা বলছেন, দ্রুত নির্বাচনের রোডম্যাপ না দিলে দেশে শান্তি-শৃঙ্খলার চরম অবনতির আশঙ্কা রয়েছে। দেশে একদিকে চলমান আন্দোলন, অন্যদিকে প্রশাসনিক অস্থিরতা—সব মিলিয়ে বহু সংকট একত্রে বিস্তার লাভ করছে। বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে শুরু করে প্রশাসন পর্যন্ত এই অস্থিরতায় জর্জরিত।

বিশ্লেষকদের মতে, নির্বাচন-ই এখন একমাত্র সংকট নিরসনের পথ। অথচ রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে এখনো কোনো ঐকমত্য হয়নি। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক কাজী মোহাম্মদ মাহবুবুর রহমান বলেন, “এই সরকার অন্তর্বর্তী, তাদের প্রধান দায়িত্ব নির্বাচনের পথ তৈরি করা। অথচ তারা অপ্রয়োজনীয় কাজ নিয়ে ব্যস্ত। নির্বাচনের তারিখ ঘোষণাই এখন সবচেয়ে জরুরি।”

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও শিক্ষকেরা টানা চার দিন ধরে তিন দফা দাবিতে আন্দোলন করছে। শাহরিয়ার আলম সাম্য হত্যার বিচার দাবিতে উত্তাল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়। আন্দোলনের আগুন ছড়িয়ে পড়েছে কুয়েটসহ অন্যান্য প্রতিষ্ঠানেও। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে ডিপ্লোমা নার্স, চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ, বিতর্কিত পদোন্নতি বাতিলসহ বিভিন্ন সংগঠনের আন্দোলন। দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের সামনেও অবরোধ চলছে। এসব ইস্যুতে ঢাকায় তৈরি হয়েছে চরম ভোগান্তি।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, অন্তর্বর্তী সরকারের এখন প্রধান দায়িত্ব হওয়া উচিত নির্বাচনের উপযুক্ত পরিবেশ তৈরি করে সময়মতো ভোট সম্পন্ন করা। বিভিন্ন রাজনৈতিক দলও বলছে, নির্বাচিত সরকারই পারে এই অচলাবস্থা থেকে দেশকে উদ্ধার করতে। বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, “নির্বাচনের দাবি গণতন্ত্রের ন্যায্য দাবি, অথচ এখন এটিকে অপরাধ হিসেবে চিত্রিত করা হচ্ছে।” বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীও বলেছেন, “নির্বাচন যত দেরি হবে, দেশের ক্ষতি তত বাড়বে।”

জামায়াতের আমির ডা. শফিকুর রহমান নির্বাচনের সময় নির্ধারণে রোজার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে বলেন, “রোজার আগেই বা সর্বোচ্চ এপ্রিলের মধ্যেই নির্বাচন হওয়া উচিত।” গণতন্ত্র মঞ্চের নেতা সাইফুল হক ও সিপিবি নেতা রুহিন হোসেন প্রিন্সও বলেছেন, সরকারের উচিত রুটিন কাজের বাইরে গিয়ে সংকট সৃষ্টি না করে দ্রুত নির্বাচন ঘোষণা করা।

১২ দলীয় জোটের নেতা শাহাদাত হোসেন সেলিম সরাসরি অভিযোগ করেন, “সরকার নির্বাচন দীর্ঘায়িত করে ক্ষমতা চিরস্থায়ী করতে চায়। অথচ অন্তর্বর্তী সরকারের এখতিয়ার রুটিন কার্যক্রম সীমিত।” তিনি আশঙ্কা করেন, এভাবে চলতে থাকলে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠবে।

অধ্যাপক মাহবুবুর রহমান বলেন, “নির্বাচনের একটি তারিখ ঘোষণাই চলমান সব আন্দোলনের উত্তেজনা কমাতে পারত। তারিখ দিলে দলগুলো নির্বাচনী প্রস্তুতিতে ব্যস্ত থাকত।”

সব মিলিয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতি জনগণের প্রত্যাশা স্পষ্ট—ঐকমত্যে পৌঁছে অবিলম্বে একটি নির্দিষ্ট নির্বাচনের রোডম্যাপ ঘোষণা করা হোক। কারণ, নির্বাচনই এখন গণতন্ত্র রক্ষার একমাত্র পথ।

an adbox will go here