আরামকোর বিনিয়োগে বাধা, অভিযোগ সৌদি রাষ্ট্রদূতের
দিগন্ত জার্নাল ডেস্ক:
বিশ্বের বৃহত্তম অপরিশোধিত তেল রপ্তানিকারক দেশ সৌদি আরবের রাষ্ট্রীয় তেল কোম্পানি আরামকো বাংলাদেশে বিনিয়োগে আগ্রহ প্রকাশ করলেও আগের সরকার প্রয়োজনীয় সমর্থন দেয়নি বলে অভিযোগ তুলেছেন ঢাকায় নিযুক্ত সৌদি রাষ্ট্রদূত ঈসা বিন ইউসুফ আল দুহাইলান।
রোববার (৫ জানুয়ারি২০২৫) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সৌদি-বাংলাদেশ অর্থনৈতিক সম্পর্ক নিয়ে আয়োজিত এক সেমিনারে রাষ্ট্রদূত এই মন্তব্য করেন।
তিনি বলেন, “বাংলাদেশে কিছু মানুষ ব্যক্তিস্বার্থে বিদেশি বিনিয়োগকারীদের নিরুৎসাহিত করে। আরামকো কয়েকবার বিনিয়োগের চেষ্টা করলেও তাদের স্বাগত জানানো হয়নি।”
বিশ্বের তেল শিল্পে আরামকো কৌশলগতভাবে একটি বড় নাম। সৌদি আরব প্রতিদিন গড়ে ৯০ লাখ ব্যারেল তেল উৎপাদন করে, যা বৈশ্বিক চাহিদার ১০ শতাংশ পূরণ করে। তাদের উৎপাদন সক্ষমতা রয়েছে দৈনিক ১ কোটি ২০ লাখ ব্যারেলের।
রাষ্ট্রদূত আরও উল্লেখ করেন, “সৌদি আরব ও বাংলাদেশের সম্পর্ক দীর্ঘদিনের। একে অপরের অভ্যন্তরীণ ইস্যু নিয়ে কেউ কখনো কথা বলেনি। তবে আরামকোর মতো একটি প্রতিষ্ঠানের বিনিয়োগ বাংলাদেশে আনা গেলে জ্বালানি সংকট মোকাবিলা এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে তা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারত।”
সেমিনারে অর্থ উপদেষ্টা ড. সালাহউদ্দিন আহমেদ জানান, “আরামকোর মতো দক্ষিণ কোরিয়ার স্যামসাংও বাংলাদেশে বিনিয়োগে আগ্রহ দেখালেও তাদের তাড়িয়ে দিয়েছিল পূর্ববর্তী সরকার।”
পররাষ্ট্র উপদেষ্টা তৌহিদ হোসেন বিনিয়োগের পরিবেশের ঘাটতি স্বীকার করে বলেন, “বর্তমান পরিস্থিতিতে বিদেশি বিনিয়োগ আকৃষ্ট করতে আরও কার্যকর পদক্ষেপ প্রয়োজন।”
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, আরামকোর মতো প্রতিষ্ঠানের বিনিয়োগে বাংলাদেশে তেল খাতের উন্নয়ন এবং অর্থনৈতিক অগ্রগতিতে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আসতে পারত।