তিস্তা নদীর পানি বৃদ্ধিতে চরের ফসল তলিয়ে কৃষকদের কোটি টাকার ক্ষতি - দিগন্ত জার্নাল

তিস্তা নদীর পানি বৃদ্ধিতে চরের ফসল তলিয়ে কৃষকদের কোটি টাকার ক্ষতি

দিগন্ত জার্নাল ডেস্ক:

বুধবার , (২১ মে ২০২৫) বৃষ্টি ও উজানের ঢলে তিস্তা নদীর পানি বেড়ে কুড়িগ্রামের উলিপুর ও রাজারহাট উপজেলার বিভিন্ন চরের নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। এতে ধান, বাদাম, কাউন, শাকসবজি, মরিচ ও ভুট্টাসহ বিস্তীর্ণ এলাকার ফসল পানির নিচে তলিয়ে গিয়ে কৃষকদের কয়েক কোটি টাকার ক্ষতির মুখে ফেলেছে। কৃষি বিভাগের তথ্যমতে, শুধু বাদাম ফসলেই ক্ষতির পরিমাণ কোটি টাকার ওপরে।

রাজারহাট উপজেলার তৈয়বখা গ্রামের কৃষক আমিনুর ইসলাম জানান, ঋণ নিয়ে তিনি তিস্তার চরে ১০ বিঘা জমিতে বাদাম চাষ করেছিলেন। কিন্তু হঠাৎ পানি বেড়ে সবই তলিয়ে গেছে। উলিপুর উপজেলার চর গোড়াই পিয়ার গ্রামের কৃষক বাহার আলীর এক একর বাদাম ক্ষেতও পানির নিচে। কুড়িগ্রাম চর উন্নয়ন কমিটির আহ্বায়ক অধ্যাপক শফিকুল ইসলাম বেবু বলেন, তিস্তার চরে প্রতিবছর হাজার কোটি টাকার ফসল উৎপাদন হলেও নদী ভরাট এবং অনিয়ন্ত্রিত পানিপ্রবাহে বিপুল ক্ষতি হচ্ছে, অথচ কোনো স্থায়ী পদক্ষেপ নেই।

কুড়িগ্রাম খামারবাড়ির অতিরিক্ত উপপরিচালক আসাদুজ্জামান জানান, এ বছর ৯৫০ হেক্টর বাদাম চাষের লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে অর্জন হয়েছে ৯১২ হেক্টর। কিন্তু বন্যা ও বৃষ্টিতে অধিকাংশ ক্ষেত পানির নিচে চলে গেছে।

রংপুরেও গত ৪৮ ঘণ্টায় প্রায় ২৫০ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড হয়েছে। এতে রংপুর মহানগর ও আশপাশের নিম্নাঞ্চলে জলাবদ্ধতা তৈরি হয়েছে এবং রবিশস্য ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। পানি উন্নয়ন বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, ডালিয়া, গংগাচড়া ও কাউনিয়া পয়েন্টে তিস্তার পানি বিপদসীমা ছুঁই ছুঁই করছে।

এদিকে, সিলেটেও একাধিক উপজেলার নিচু এলাকা প্লাবিত হয়েছে। বিশেষ করে গোয়াইনঘাট, কানাইঘাট, জৈন্তাপুর ও কোম্পানীগঞ্জের অনেক জায়গায় বৃষ্টির পানি ঢুকে পড়েছে। আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, মাত্র ৯ ঘণ্টায় সিলেটে ১৮৪ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড হয়েছে। দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তর সিলেট ও ময়মনসিংহ বিভাগকে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা হিসেবে চিহ্নিত করে আগাম সতর্কতা দিয়েছে।

এছাড়া শেরপুর জেলার সীমান্তবর্তী ঝিনাইগাতী, শ্রীবরদী ও নালিতাবাড়ী উপজেলায়ও বন্যার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। শেরপুর পানি উন্নয়ন বোর্ড জানায়, চেল্লাখালি নদীর পানি বিপদসীমার ১২৮ সেন্টিমিটার ওপরে প্রবাহিত হচ্ছে। ঝিনাইগাতীর ইউএনও আশরাফুল আলম রাসেল জানান, পানি বাড়ছে ঠিকই, তবে এখন পর্যন্ত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।

an adbox will go here