পূর্ণ ক্ষমতা প্রয়োগে ব্যর্থ হলে পদত্যাগের ইঙ্গিত, আজ সিদ্ধান্তের মুখে প্রধান উপদেষ্টা - দিগন্ত জার্নাল

পূর্ণ ক্ষমতা প্রয়োগে ব্যর্থ হলে পদত্যাগের ইঙ্গিত, আজ সিদ্ধান্তের মুখে প্রধান উপদেষ্টা




নিজস্ব প্রতিবেদক:

শনিবার, (২৪ মে ২০২৫) সংবিধানে নির্ধারিত প্রধান উপদেষ্টার পূর্ণ ক্ষমতা প্রয়োগের নিশ্চয়তা না পেলে পদত্যাগ করবেন ড. মুহাম্মদ ইউনূস—এমনই ইঙ্গিত পাওয়া গেছে তাঁর দপ্তরের একটি দায়িত্বশীল সূত্র থেকে। আজ বৃহস্পতিবার জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি (একনেক) সভা শেষে উপদেষ্টাদের সঙ্গে অনির্ধারিত আলোচনায় এই বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

জানা গেছে, রাষ্ট্রের একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে দূরত্ব, রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং কিছু উপদেষ্টার অসহযোগিতামূলক আচরণে বেশ ক্ষুব্ধ হয়েছেন ড. ইউনূস। বৃহস্পতিবার উপদেষ্টা পরিষদের এক বৈঠকে তিনি পদত্যাগের ইচ্ছা প্রকাশ করেন। উপদেষ্টা পরিষদের কয়েকজন সদস্য তাঁকে সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার অনুরোধ করলেও, অনেকে জানান—ড. ইউনূস যুক্তিপূর্ণ ব্যাখ্যার মাধ্যমে নিজের অবস্থানে অনড় ছিলেন। এমনকি তিনি জাতির উদ্দেশে ভাষণ দেওয়ার জন্য স্ক্রিপ্ট লেখার নির্দেশও দেন, যদিও শেষ পর্যন্ত কয়েকজন উপদেষ্টার বিশেষ অনুরোধে ভাষণ রেকর্ড বন্ধ রাখা হয় এবং সিদ্ধান্ত স্থগিত হয়।

সূত্র জানায়, প্রশাসনের কিছু কর্মকর্তা ও একাধিক রাজনৈতিক দলের পক্ষ থেকে সাম্প্রতিক কিছু আচরণ প্রধান উপদেষ্টাকে ‘অপমানিত ও বিব্রত’ করেছে। এ প্রসঙ্গে ড. ইউনূসের মতামত—তিনি সংবিধানের ১০৬ অনুচ্ছেদ এবং সুপ্রিম কোর্টের ব্যাখ্যার ভিত্তিতে শপথ নিয়েছেন, যেখানে তাঁকে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে পূর্ণ ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে। সেই ক্ষমতায় হস্তক্ষেপকে তিনি সাংবিধানিক শৃঙ্খলা পরিপন্থী হিসেবে বিবেচনা করছেন।

তিনি মনে করেন, কোনো পরামর্শ বা আলোচনার সুযোগ থাকলেও, তাঁর অধীনস্থ কেউ তাঁকে নির্দেশ দিতে পারেন না। এই মনোভাব থেকেই তিনি সিদ্ধান্ত নিয়েছেন—যদি রাজনৈতিক দলগুলো উপদেষ্টা পরিষদের অবস্থানের সঙ্গে একমত না হয়, তাহলে জাতির উদ্দেশে ভাষণ দিয়ে তিনি পদত্যাগ করবেন। তবে যদি দলগুলো ঐকমত্যে পৌঁছায়, তাহলে তিনি দায়িত্বে থেকে নির্বাচনের রোডম্যাপ ঘোষণা করবেন।

এদিকে বিএনপির একটি প্রতিনিধিদল প্রধান উপদেষ্টার সাক্ষাৎ চেয়েও ৬ দিনেও কোনো সাড়া পায়নি বলে জানান বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ। বিষয়টির সত্যতা প্রধান উপদেষ্টার দপ্তরের একটি সূত্রও নিশ্চিত করেছে।

আজকের একনেক বৈঠকের পর পরিস্থিতি কোন দিকে মোড় নেয়, তা নির্ধারণ করবে ড. ইউনূসের ভবিষ্যৎ অবস্থান।

an adbox will go here