চলমান সংকটে রাজনৈতিক অঙ্গনে বিএনপি চায় দ্রুত রোডম্যাপ ঘোষণা
দিগন্ত জার্নাল ডেস্ক:
শনিবার, (২৪ মে ২০২৫) রাজনৈতিক অঙ্গনে অস্থিরতা ও অনিশ্চয়তার মধ্যে শনিবার সন্ধ্যায় বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে পৃথকভাবে বৈঠকে বসছেন প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস। এদিন সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় বিএনপি ও রাত ৮টায় জামায়াতের সঙ্গে বৈঠক অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। যদিও শুক্রবার রাতে বিএনপির স্থায়ী কমিটির একজন সদস্য জানান, বৈঠকে যোগদানের বিষয়ে দলটি এখনও সিদ্ধান্ত নেয়নি।
জানা গেছে, চলমান পরিস্থিতি নিয়ে বিএনপি ও জামায়াতের নেতাদের সঙ্গে আলাদা আলাদা যোগাযোগ করেছেন প্রধান উপদেষ্টা। জামায়াতের নায়েবে আমির সৈয়দ আবদুল্লাহ মুহাম্মদ তাহের জানিয়েছেন, প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে মৌখিকভাবে শনিবার রাতে বৈঠকের বিষয়ে জানানো হয়েছে। দলের পক্ষ থেকে জানানো হয়, বর্তমান রাজনৈতিক সংকট, নির্বাচন, বিচার ব্যবস্থা, সংস্কার, এবং জুলাই অভ্যুত্থানের সমর্থক দলগুলোর ঐক্য ফিরিয়ে আনার বিষয়ে আলোচনা হবে। জামায়াত স্পষ্ট করে জানিয়েছে, প্রধান উপদেষ্টার পদত্যাগ নয়, তার নেতৃত্বেই তারা জাতীয় নির্বাচন দেখতে চায়।
এদিকে বিএনপি মনে করছে, ড. ইউনূসের পদত্যাগের ভাবনা, রাখাইন ইস্যু, চট্টগ্রাম বন্দরের ব্যবস্থাপনা বিদেশি কোম্পানির হাতে তুলে দেওয়া এবং উপদেষ্টাদের পদত্যাগের দাবির মতো ইস্যুগুলোর কারণে রাজনৈতিক পরিস্থিতি ঘোলাটে হয়েছে। দলটির সিনিয়র নেতারা বলছেন, এই ঘোলাটে অবস্থা থেকে উত্তরণে একমাত্র পথ হচ্ছে একটি সুনির্দিষ্ট নির্বাচনের রোডম্যাপ ঘোষণা। সেই রোডম্যাপ যত দ্রুত ঘোষণা করা হবে, পরিস্থিতি ততটাই স্পষ্ট হবে বলে দাবি করেন তারা।
বিএনপি নেতারা জানিয়েছেন, চলমান পরিস্থিতি নিয়ে দুই দিন ধরে বিভিন্ন মিত্র দলের সঙ্গে পরামর্শ করছে দলটি। ইতোমধ্যে কিছু দলের সঙ্গে বৈঠকও হয়েছে। ১২ দলীয় জোটের মুখপাত্র শাহাদাত হোসেন সেলিম জানিয়েছেন, গণতান্ত্রিক আন্দোলনের সঙ্গী দলগুলো মিলে শিগগিরই একটি কনভেনশন আহ্বান করা হবে, যেখানে সম্মিলিতভাবে নির্বাচনের রোডম্যাপ দাবি জানানো হবে।
অন্যদিকে, বিএনপির অভিযোগ, নির্ধারিত সময় অনুযায়ী বুধবার প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে তাদের সাক্ষাৎ হওয়ার কথা থাকলেও তা হয়নি। পরে গুলশানে সংবাদ সম্মেলনে বিএনপি একটি সুনির্দিষ্ট রোডম্যাপ ঘোষণার দাবি তোলে। ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন জানান, ডিসেম্বরের মধ্যেই জাতীয় সংসদ নির্বাচন দিতে হবে, অন্যথায় অন্তর্র্বর্তী সরকারের প্রতি সহযোগিতা কঠিন হবে। মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরও দ্রুত রোডম্যাপ ঘোষণার আহ্বান জানান।
বিএনপি নেতারা আরও বলেন, জুলাই সনদ, গণভোট বা নতুন সংবিধান ইস্যুতে বিভক্তি সৃষ্টি করে মূলত মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস ধোঁয়াচ্ছন্ন করার চেষ্টা করা হচ্ছে, যা কখনোই মেনে নেবে না বিএনপি।
এদিকে রাজনৈতিক অঙ্গনে নাটকীয় পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিয়ে সেনাপ্রধানের সাম্প্রতিক বক্তব্য এবং ইশরাক হোসেনের মেয়র হিসেবে শপথ গ্রহণকে বিএনপি তাদের রাজনৈতিক বিজয় হিসেবে দেখছে। দলটির নেতারা মনে করছেন, গত কয়েক দিনের ধারাবাহিক আন্দোলনের মধ্য দিয়ে তারা সরকারের ওপর চাপ তৈরি করতে সক্ষম হয়েছে।
এ অবস্থায় ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশসহ ফ্যাসিবাদবিরোধী পাঁচটি দলের শীর্ষ নেতারা বৃহস্পতিবার রাতে ঢাকায় এক জরুরি বৈঠকে মিলিত হন। বৈঠকে দেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও স্থিতিশীলতা রক্ষায় ঐক্যবদ্ধ কৌশলের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়। নেতারা জানান, ড. ইউনূসের নেতৃত্বে প্রয়োজনীয় সংস্কার শেষে একটি গ্রহণযোগ্য জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠানেই তারা ঐকমত্যে পৌঁছেছেন।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, সংকট উত্তরণে এখন সবচেয়ে জরুরি হলো সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের অংশগ্রহণে নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের জন্য একটি সুস্পষ্ট কর্মপন্থা ঘোষণা। অন্যথায় এই অনিশ্চয়তা আরও দীর্ঘায়িত হতে পারে।