রাজনৈতিক দলগুলো সরকারের গলাটিপে ধরছে: জুলাই ঐক্য
দিগন্ত জার্নাল ডেস্ক:
শনিবার, (২৪ মে ২০২৫) জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের পর থেকে রাজনৈতিক দলগুলোর উচিত ছিল সরকারকে সহযোগিতা করে প্রয়োজনীয় সংস্কারের পথ সুগম করা এবং তারপরে জাতীয় নির্বাচনের দাবিতে এগিয়ে আসা। কিন্তু তারা সহযোগিতা না করে সরকারের গলাটিপে ধরেছে বলে অভিযোগ তুলেছে ‘জুলাই ঐক্য’। শুক্রবার রাত ১০টায় রাজধানীর শাহবাগে জাতীয় জাদুঘরের সামনে এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনটির নেতারা এসব মন্তব্য করেন।
লিখিত বক্তব্যে জুলাই ঐক্যের নেতা মুসাদ্দেক আলী ইবনে মুহাম্মদ বলেন, “জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের পর থেকে জাতিকে বিভক্ত করার ষড়যন্ত্র চলছে। ভারতীয় প্রক্সি স্বৈরাচার শেখ হাসিনা পালিয়ে গেলেও তার রেখে যাওয়া দোসররা এখনো দেশের গুরুত্বপূর্ণ স্থানগুলোতে বসে আছে।” তিনি জানান, বিরক্ত হয়ে পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন জুলাইয়ের রক্তের ওপর প্রতিষ্ঠিত অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস, যা পরিস্থিতির গভীরতা স্পষ্ট করে।
তিনি আরও বলেন, “৫ আগস্টের পর বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনকে ভেঙে দিয়ে যখন বিভিন্ন রাজনৈতিক দল এবং প্ল্যাটফর্ম গঠিত হলো, তখন থেকেই জুলাই শক্তির মধ্যে ফাটল ধরেছে। সেই ঐক্য ফিরিয়ে আনাই এখন সময়ের দাবি।” এ জন্য তিনি সরকারের উপদেষ্টা পরিষদে আমূল পরিবর্তনের দাবি জানান। “যেসব সদস্য ভারতীয় অ্যাজেন্ডা বাস্তবায়নে ব্যস্ত, তাদের চিহ্নিত করে ব্যবস্থা নিতে হবে,”—জানান মুসাদ্দেক।
সংগঠনটি হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে জানায়, ৩০ কর্মদিবসের মধ্যে যদি জুলাই ঘোষণাপত্র প্রকাশ না করা হয়, তাহলে পরবর্তী পরিস্থিতির জন্য উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য এবং তাদের সহযোগী রাজনৈতিক দল ও সংগঠনগুলো দায়ী থাকবে।
সংবাদ সম্মেলনে এবি জুবায়ের জুলাই ঐক্যের পক্ষ থেকে দুটি কর্মসূচি ঘোষণা করেন—
১. ২৫ মে রোববার বিকালে শাহবাগে ভারতীয় ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ সমাবেশ
২. ৩০ মে পর্যন্ত সারা দেশে অনলাইন-অফলাইনে জুলাই ঐক্য ক্যাম্পেইন
এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন জুলাই ঐক্যের সংগঠক প্লাবন তারিক, ইসরাফিল ফরাজী, আব্দুল্লাহ আল মিনহাজ প্রমুখ নেতৃবৃন্দ। নেতারা বলেন, এ আন্দোলন শুধুই ক্ষমতার জন্য নয়, এটি একটি ন্যায্য রাষ্ট্রগঠনের লড়াই—যেখানে জনগণের রক্তে লেখা জুলাই ঘোষণাপত্রই হবে ভবিষ্যতের পথনির্দেশক।