অধ্যাপক ইউনূস পদত্যাগ করলে আইনি কী হতে পারে—চলছে বিশ্লেষণ
দিগন্ত জার্নাল ডেস্ক:
শনিবার, (২৪ মে ২০২৫) অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস পদত্যাগ করতে পারেন—এমন ইঙ্গিত পাওয়ার পর থেকেই দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে সৃষ্টি হয়েছে চরম কৌতূহল। তার সম্ভাব্য পদত্যাগের পরবর্তী আইনগত পরিণতি নিয়ে চলছে ব্যাপক বিশ্লেষণ। অনেকেই প্রশ্ন তুলছেন, সরকার পুনর্গঠনের সুযোগ কি এখনো আছে? কিংবা আইনি কোনো সংকট কি তৈরি হতে পারে?
এই ইস্যুতে তুমুল আলোচনার সূত্রপাত ঘটেছে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামের বক্তব্য থেকে। তিনি জানান, প্রধান উপদেষ্টা ইউনূসের সঙ্গে তার দেখা হয়েছে এবং সেখানেই ইউনূস স্পষ্ট করেন যে, দেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে তিনি কাজ করতে পারছেন না।
আইনি দৃষ্টিকোণ থেকে কী বলা হচ্ছে?
আইনজীবীদের মতামত বিভক্ত। কেউ বলছেন, পঞ্চদশ সংশোধনীর আংশিক বাতিলের ফলে এখন তত্ত্বাবধায়ক সরকার গঠন সম্ভব। আবার কেউ কেউ মনে করছেন, এখন যেহেতু অধিকাংশ কাজই সংবিধানের বাইরে গিয়ে হচ্ছে, তাই আইনের ব্যাখ্যার কোনো মূল্য নেই।
সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ড. শাহদীন মালিক বলেছেন, “আইন অনুযায়ী কিছুই হচ্ছে না, এখন সব চলছে রাজনৈতিক বাস্তবতায়। তাই পদত্যাগের পর আইন অনুযায়ী না, বরং রাজনৈতিক সমঝোতায়ই পরবর্তী ব্যবস্থা নিতে হবে।”
তবে আইনজীবী মনজিল মোরসেদ মনে করেন, “অধ্যাপক ইউনূস পদত্যাগ করলে সাংবিধানিক সংকট হবে না, বরং তত্ত্বাবধায়ক সরকার গঠনের পথই পরিষ্কার হবে।” তিনি আরও বলেন, “এই সরকার নির্বাচনকালীন সরকার নয়; নির্বাচন করতে হলে তত্ত্বাবধায়ক সরকার গঠন করতেই হবে।”
সরকার গঠনের নিয়ম কী বলছে?
আলোচনায় উঠে এসেছে যে, অন্তর্বর্তী সরকার গঠনের সময় রাষ্ট্রপতি সুপ্রিম কোর্টের কাছে ১০৬ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী মতামত চেয়েছিলেন। আদালত সেই সময় উপদেষ্টাদের শপথ গ্রহণে সম্মতি দেয়। তবে শাহদীন মালিক মনে করেন, “এই প্রক্রিয়া অসাংবিধানিক ছিল” এবং এই যুক্তি সামনে এনে নতুন সরকার গঠনকে সাংবিধানিক বলা কঠিন।
উপদেষ্টা পরিষদের ভবিষ্যৎ কী?
মুহাম্মদ ইউনূস পদত্যাগ করলে উপদেষ্টা পরিষদও টিকবে না বলে মত দিয়েছেন মনজিল মোরসেদ। তার ভাষায়, “ওনাদেরকে প্রধান উপদেষ্টাই মনোনীত করেছেন, তাই তিনি না থাকলে অন্যদের থাকার সুযোগও থাকবে না।” তবে নতুন তত্ত্বাবধায়ক সরকার গঠন হলে রাষ্ট্রপতি চাইলে পুরনো কাউকে রেখেও নতুন উপদেষ্টা পরিষদ গঠন করতে পারেন।
রাজনৈতিক সংকট ঘনীভূত
প্রধান উপদেষ্টার পদত্যাগ নিয়ে সরকারের পক্ষ থেকে এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য আসেনি। তবে পরিবেশ উপদেষ্টা রিজওয়ানা হাসান শুক্রবার সকালে বলেন, “আমাদের তিনটি দায়িত্ব—সংস্কার, বিচার ও নির্বাচন। আমরা কেবল নির্বাচনের জন্য আসিনি।” তবে আন্দোলনের চাপ ও রাজনৈতিক দলগুলোর অরাজক অবস্থানের কারণে সরকারের কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
অধ্যাপক ইউনূস যদি সত্যিই পদত্যাগ করেন, তাহলে পরিস্থিতি আরও জটিল হতে পারে। যদিও আইনজীবীরা বলছেন, তাৎক্ষণিক কোনো সাংবিধানিক সংকট তৈরি হবে না, তবে রাজনৈতিক সমঝোতা ও নতুন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের কাঠামো তৈরি না হলে আগামী নির্বাচন আরও অনিশ্চয়তার মুখে পড়বে। এখন সবার নজর প্রধান উপদেষ্টার চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের দিকে।