চরাঞ্চলে দিঘীর পাড়ের পীর সাহেবের ইসলাহী সফর : পর্দা ও নামায নিয়ে দরদভরা আহ্বান
নিজস্ব প্রতিবেদক:
সোমবার ,( ২৬ মে ২০২৫) শরীয়তপুর জেলার প্রত্যন্ত চরাঞ্চল নওপাড়ায় এক ব্যতিক্রমধর্মী ইসলাহী সফর করেন দিঘীর পাড়ের পীর সাহেব, পীরে কামেল, শায়খ মুফতী হাফীজুদ্দীন সাহেব দা.বা.। যানবাহনের সীমাবদ্ধতা, ভাঙাচোরা রাস্তাঘাট, প্রচণ্ড গরম ও পথযাত্রার কষ্ট উপেক্ষা করে তাঁর এ সফর ছিল নিছক আনুষ্ঠানিকতা নয়, বরং দ্বীনের দাওয়াত, ইসলাহী দরদ ও আত্মিক ভালোবাসার বাস্তব বহিঃপ্রকাশ।
নওপাড়ায় আগত মুসল্লিদের উদ্দেশ্যে তিনি এক হৃদয়গ্রাহী নসিহতমূলক বক্তব্য পেশ করেন। তিনি সকলকে দৈনিক পাঁচ ওয়াক্ত নামাযের প্রতি যত্নবান হওয়ার তাগিদ দেন এবং বলেন, “নিয়মিত নামায আদায় করলেই চলবে না, বরং প্রতিদিন নামাযে যাওয়ার সময় আশপাশের দ্বীনি ভাইদের মসজিদের দিকে আহ্বান জানাতে হবে। এ দাওয়াতই নববী দাওয়াত, যা সমাজে বাস্তব পরিবর্তনের সূচনা করতে পারে।”
চরাঞ্চলের মা-বোনদের জন্য পীর সাহেব দা.বা. এক অনন্য ‘দাওয়াতি পত্র’ রচনা করেন, যেখানে পর্দা, শালীনতা ও নারীর সামাজিক নিরাপত্তার গুরুত্ব তুলে ধরা হয়। পত্রে তিনি বলেন, “এই দুনিয়ার ক্ষণস্থায়ী জীবনে আল্লাহর বিধান অনুযায়ী জীবন গঠন ও নবীজীর সুন্নতের অনুসরণ অপরিহার্য। বিশেষ করে নারীদের জন্য পর্দা, লজ্জাস্থানের হেফাজত ও ব্যক্তিগত গোপনীয়তার রক্ষা ঈমানের অঙ্গ।”
তিনি গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, “চরাঞ্চলের অনেক স্থানে মা-বোনেরা এখনো খোলা জায়গায় বা নদীতে গোসল করেন, যা ইসলামী পর্দানীতির মারাত্মক লঙ্ঘন। এ অবস্থার পরিবর্তনে সবাইকে সচেষ্ট হতে হবে।” তিনি দ্বীনপ্রিয় পুরুষদের প্রতি আহ্বান জানান, “আপনারা নারীদের এ ব্যাপারে পরামর্শ দিন এবং ঘরের পাশে পর্দাসম্মত গোসলের ব্যবস্থা গড়ে তুলুন—যেমন টিউবওয়েলের পাশে ছাউনি দিয়ে গোসলঘর তৈরি করুন।”
এই লক্ষ্যে “মাদানী মজলিস বাংলাদেশ” ব্যানারে একটি উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে—যেসব বাড়িতে পর্দার উপযোগী গোসলের ব্যবস্থা নেই, সেখানে সংগঠনের নিজস্ব তহবিলে সেই ব্যবস্থা করে দেওয়া হবে।
এ সফরে তিনি নওপাড়া ছাড়াও চরাত্রা খাসবাজার, বোরকাটি, জয় বাংলা বাজার, জিংকিং চর, কাচিকাটা, সুরেশ্বর, সখিপুর, হাসাইল ও মাথাভাঙ্গা চর অঞ্চলের মুরিদানদের দ্বীনের খেদমতে সক্রিয় হওয়ার আহ্বান জানান। সফরের সমাপ্তিতে দুআ অনুষ্ঠিত হয়, যাতে আল্লাহ তাআলা চরাঞ্চলের প্রতিটি ঘরে দ্বীনের আলো পৌঁছে দেন।
পীর সাহেব হুজুরের এই সফর প্রমাণ করে, চরবাসীর প্রতি তাঁর আন্তরিক ভালোবাসা ও খাঁটি ইসলামী দরদ কতটা গভীর। এটি শুধু একটি সফর নয়; বরং চরাঞ্চলে দ্বীনের জাগরণ, পর্দা ও নামাযের আহ্বানে এক ঐতিহাসিক অধ্যায়।