তারেকের দেশে ফেরা নিয়ে আলোচনার ঝড়, লন্ডনের বৈঠকের পর নতুন আগ্রহ - দিগন্ত জার্নাল

তারেকের দেশে ফেরা নিয়ে আলোচনার ঝড়, লন্ডনের বৈঠকের পর নতুন আগ্রহ

নিজস্ব প্রতিবেদক:

শুক্রবার, (২০ জুন ২০২৫) লন্ডনে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস ও বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সাম্প্রতিক বৈঠকের পর আবারও জোরালোভাবে আলোচনায় এসেছে— কবে দেশে ফিরবেন তারেক রহমান? ৫ আগস্ট সরকারের পতনের পর দশ মাস পেরিয়ে গেলেও তিনি দেশে ফিরলেন না কেন, এই প্রশ্নও ঘুরছে রাজনৈতিক মহলে। এদিকে ঢাকায় তাঁর অবস্থানের জন্য নির্ধারিত বাড়ির প্রস্তুতি নিয়েও গণমাধ্যমে খবর প্রকাশ পাচ্ছে, বাড়ানো হচ্ছে নিরাপত্তা।

গত বছরের ৫ আগস্ট রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের পর আদালতের রায়ে তারেক রহমান সব মামলায় খালাস পেয়েছেন। সরকারও জানিয়ে দিয়েছে, তাঁর দেশে ফিরতে আর কোনো আইনগত বা রাজনৈতিক বাধা নেই। তবু দীর্ঘ ১৭ বছর পর দেশে তাঁর প্রত্যাবর্তনের দিনক্ষণ আজও অনিশ্চিত।

নির্বাচনের আগেই ফেরার সম্ভাবনা

তারেক রহমানের উপদেষ্টা মাহদী আমিন জানিয়েছেন, আগামী নির্বাচন ফেব্রুয়ারির মধ্যে অনুষ্ঠিত হতে পারে এবং তার আগেই তিনি দেশে ফিরবেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। তিনি বলেন, “সুনির্দিষ্ট তারিখ এখনো চূড়ান্ত হয়নি। তবে নির্বাচনের আগে তিনি অবশ্যই ফিরে আসবেন ইনশাআল্লাহ।”

লন্ডনে অনুষ্ঠিত তারেক রহমান ও প্রধান উপদেষ্টার বৈঠকেও নির্বাচনের সম্ভাব্য সময় হিসেবে আগামী বছরের ফেব্রুয়ারি মাস উল্লেখ করে যৌথ ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন তারেক রহমানের আন্তর্জাতিক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির। তাঁর ভাষ্য, “প্রথমে নির্বাচনের তারিখ ঘোষণা হোক, তারপর ইনশাআল্লাহ ২০২৫ সালের মধ্যেই তিনি দেশে ফিরে আসবেন এবং দলকে নেতৃত্ব দেবেন।”

নিরাপত্তা ঝুঁকি এখন বড় ইস্যু

আইনি সব বাধা দূর হলেও তারেক রহমানের দেশে না ফেরার পেছনে সবচেয়ে বড় কারণ হিসেবে উঠে আসছে নিরাপত্তা ইস্যু। হুমায়ুন কবির বলেন, “ওনার মতো নেতার নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ থাকাটাই স্বাভাবিক। রাজনীতির বর্তমান প্রেক্ষাপটে একটি নিরাপদ পরিবেশ সৃষ্টি করাও জরুরি। সরকারও সেই দিকেই কাজ করছে।”

তিনি আরও বলেন, “পূর্ববর্তী সরকার যে অস্বাভাবিক রাজনৈতিক পরিস্থিতি রেখে গেছে, তা থেকে বের হয়ে একটি নিরাপদ রাজনৈতিক স্পেস তৈরি না হলে দেশে ফেরার সিদ্ধান্ত নেওয়া কঠিন।”

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের দৃষ্টিতে

রাজনৈতিক বিশ্লেষক মহিউদ্দিন আহমদ বলেন, “এক-এগারোর সময় তারেক রহমানকে জোর করে বিদেশে পাঠানো হয়েছিল। তখন রাষ্ট্রীয় সংস্থাগুলো তাঁকে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করে খালেদা জিয়ার ওপর চাপ সৃষ্টি করেছিল। যদিও সেই সেনা নেতৃত্ব এখন আর নেই, তবুও দেশের রাজনীতির প্রতিহিংসাপরায়ণ চরিত্র তাঁকে ফিরতে ভাবাচ্ছে।”

তিনি আরও যোগ করেন, “তারেক রহমানের ফেরাটা হতে পারে নির্বাচনি শোডাউনের অংশ। তাঁর দেশে ফেরা নিয়েই এক বিশাল গণসংযোগ পরিকল্পনা থাকতে পারে। শোনা যাচ্ছে, তিনি এলে লাখো জনতা তাঁকে স্বাগত জানাবে।”

সিদ্ধান্ত একান্তই তারেক রহমানের

বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতারা বলছেন, কবে, কখন, কীভাবে দেশে ফিরবেন— সে সিদ্ধান্ত একান্তই তারেক রহমানের নিজস্ব। স্থায়ী কমিটির সদস্য আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, “তারেক রহমানের প্রয়োজন শুধু দলের নয়, দেশেরও। তবে অনেক টেকনিক্যাল বিষয় আছে, সব বিবেচনা করেই সিদ্ধান্ত নিতে হচ্ছে।”

বাড়ছে প্রস্তুতি, বাড়ছে কৌতুহল

ইতোমধ্যেই ঢাকায় একটি নির্ধারিত বাসভবনের নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে বলে জানা গেছে। ওই বাড়ির চারপাশে পুলিশের টহল দেখা গেছে। এর ফলে তারেক রহমানের প্রত্যাবর্তনের সম্ভাবনা আরও জোরালো হয়ে উঠেছে।

বিএনপির পক্ষ থেকে বারবার বলা হচ্ছে, আগামী নির্বাচনে তারেক রহমান দলের নেতৃত্ব দেবেন এবং যদি দল ক্ষমতায় আসে, তবে তাঁর হাতেই উঠবে দেশের শাসনব্যবস্থার দায়িত্ব।

an adbox will go here