রাতের ভোট নিয়ে বিস্ফোরক তথ্য সিইসি নূরুল হুদার জবানবন্দিতে
নিজস্ব প্রতিনিধি:
বুধবার, (২ জুলাই ২০২৫) বিগত ২০১৮ সালের নির্বাচনে সরকার ও বিভিন্ন বাহিনীর চাপে প্রহসনের মতো ভোট হয়েছে বলে আদালতে দেওয়া জবানবন্দিতে দাবি করেছেন সাবেক প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কে এম নূরুল হুদা।
তিনি বলেন, “অনেক কেন্দ্র থেকে জানতে পারি, ৯০ থেকে ১০০ শতাংশ ভোট পড়ে গেছে—তখনই বুঝেছিলাম, দিনের ভোট রাতেই সম্পন্ন হয়েছে। ব্যালট বাক্স ভরে গেছে রাতের আঁধারে।”
মঙ্গলবার (১ জুলাই) ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জিয়াদুর রহমানের আদালতে স্বেচ্ছায় এ জবানবন্দি দেন নূরুল হুদা। তাকে আদালতে হাজির করে জবানবন্দি গ্রহণের আবেদন জানায় মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পিবিআই পরিদর্শক সৈয়দ সাজেদুর রহমান।
রাষ্ট্রদ্রোহ এবং জনগণের ভোটাধিকার হরণ করার অভিযোগে বিএনপির করা মামলায় সাবেক সিইসিকে গ্রেফতার করা হয়। দুই দফায় আট দিনের রিমান্ড শেষে তিনি এই জবানবন্দি দেন।
জবানবন্দিতে তিনি আরও বলেন, “তৎকালীন আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে তাদের কর্মীবাহিনী, পুলিশ, রিটার্নিং ও সহকারী রিটার্নিং অফিসারদের সহায়তায় ভোট কারচুপি সংঘটিত হয়েছে। এসব ঘটনায় আমি ও আমার লোকজন ছিলাম পুরোপুরি অন্ধকারে।”
ভোট কারচুপির পেছনে ইসি সচিবের ভূমিকাও তুলে ধরেন তিনি। বলেন, “২০১৮ সালের নির্বাচনের সময় ইসি সচিব হেলালুদ্দীন মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তাদের নিয়ন্ত্রণ করতেন এবং সরকারি প্রভাব কাজে লাগিয়ে পরিস্থিতিকে প্রভাবিত করেন। আমি একা কিছু করতে পারিনি।”
ভাগিনার প্রার্থিতা প্রসঙ্গে বলেন, “আমার ভাগিনা এসএম শাহজাদা সাজু আওয়ামী লীগের প্রার্থী ছিলেন। আমার কোনো প্রত্যক্ষ ভূমিকা ছিল না, তবে সম্পর্কের কারণে হয়তো কিছুটা সুবিধা পেয়েছে।”
তিনি আরও বলেন, “রিটার্নিং ও সহকারী রিটার্নিং অফিসাররা কমিশনের অগোচরে অনেক কিছু করেছেন। গোয়েন্দা সংস্থাগুলোও আগেভাগেই মাঠে নেমে পড়েছিল এবং রাতেই ভোট নেওয়ার পরিবেশ তৈরি করে।”
সূত্র জানিয়েছে, জবানবন্দি রেকর্ড শেষে সন্ধ্যায় তাকে কারাগারে পাঠানো হয়।
প্রসঙ্গত, ২২ জুন কে এম নূরুল হুদাকে গ্রেফতার করে পুলিশ। পরে তাকে দুই দফায় মোট ৮ দিনের রিমান্ডে নেওয়া হয়। এছাড়া ২৫ জুন মগবাজার এলাকা থেকে সাবেক আরেক সিইসি কাজী হাবিবুল আউয়ালকেও গ্রেফতার করা হয় এবং তার তিন দিনের রিমান্ড শেষে কারাগারে পাঠানো হয়।