আদালত অবমাননায় ফ্যাসিস্ট হাসিনার ৬ মাস কারাদণ্ড, ছাত্রলীগ নেতার ২ মাস
নিজস্ব প্রতিনিধি:
বুধবার, (২ জুলাই ২০২৫) আদালত অবমাননার মামলায় ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনাকে ৬ মাস এবং নিষিদ্ধ ঘোষিত সন্ত্রাসী সংগঠন ছাত্রলীগ নেতা শাকিল আকন্দ বুলবুলকে ২ মাসের কারাদণ্ড দিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল।
আজ বুধবার বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল এই রায় ঘোষণা করেন।
এর আগে, মামলার পূর্ণাঙ্গ শুনানির জন্য সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়র আইনজীবী এ ওয়াই মশিউজ্জামানকে অ্যামিকাস কিউরি (আদালতের বন্ধু) হিসেবে নিয়োগ দেন ট্রাইব্যুনাল। অভিযুক্তদের অনুপস্থিতিতে বিচারপ্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়।
আইনের বিধান অনুযায়ী, আদালত অবমাননার মামলায় সরকারি খরচে আইনজীবী নিয়োগের বাধ্যবাধকতা না থাকলেও ন্যায়বিচারের স্বার্থে শেখ হাসিনার পক্ষে একজন আইনজীবী নিয়োগ দেন আদালত।
প্রসিকিউটর গাজী এমএইচ তামিম জানান, অভিযুক্তরা পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি দেওয়ার পরও ট্রাইব্যুনালে হাজির হননি বা কোনো ব্যাখ্যাও দেননি। এই পরিস্থিতিতে ট্রাইব্যুনাল আইন অনুযায়ী বিচার সম্পন্ন করেছে এবং দণ্ডাদেশ দিয়েছে।
জুলাই গণঅভ্যুত্থান সংক্রান্ত একটি মামলার প্রসঙ্গে দেওয়া শেখ হাসিনার একটি অডিও ক্লিপ সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে, যেখানে তিনি বলেন, “আমার বিরুদ্ধে ২২৭টি মামলা হয়েছে, তাই ২২৭ জনকে হত্যার লাইসেন্স পেয়ে গেছি”। পরে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) ফরেনসিক পরীক্ষায় অডিওর সত্যতা নিশ্চিত করে।
এই বক্তব্যকে আদালত অবমাননার শামিল হিসেবে গণ্য করে চিফ প্রসিকিউটর গত ৩০ এপ্রিল মামলা দায়ের করেন। এরপর ১৫ মের মধ্যে ব্যাখ্যা দিতে বলা হলেও, কোনো জবাব না আসায় ২৫ মে ট্রাইব্যুনালে হাজির হওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়।
শেখ হাসিনা ও শাকিল বুলবুল কেউই আদালতে হাজির হননি। ট্রাইব্যুনাল আইন অনুযায়ী তাদের অনুপস্থিতিতেই রায় প্রদান করে।
প্রসঙ্গত, আদালতের পর্যবেক্ষণে বলা হয়, গণআন্দোলনের সময় আদালত নিয়ে এ ধরনের মন্তব্য শুধুমাত্র অবমাননাকরই নয়, তা বিচার ব্যবস্থার প্রতি জনগণের আস্থা নষ্ট করতে পারে।
প্রয়োজনে রায়ের পূর্ণ অনুলিপি প্রকাশের পর এ প্রতিবেদন হালনাগাদ করা হবে।