পুলিশের ভাবমূর্তির সংকটের জন্য দা’য়ি ফ্যা’সিস্ট শাসন: গোলটেবিল বৈঠকে বক্তারা
শনিবার | ৫ জুলাই ২০২৫ | বাংলাদেশ পুলিশের কিছু অ’সা’ধু কর্মক’র্তার জন্য পুরো বাহিনীর ভাবমূর্তি আজ সংকটের মুখে পড়েছে। এ সংকটের পেছনে মূল দা’য়ি বর্তমান ফ্যা’সি’স্ট শা’সক শে’খ হা’সিনা—যিনি গত ১৫ বছরে পুলিশ বাহিনীকে অ’ন্ধ’কা’র যুগে নিয়ে গেছেন এবং তাদের অপরা’ধের পথে ঠেলে দিয়েছেন। বাহিনীর চেইন অব কমান্ড ভেঙে দিয়ে পুলিশকে দলীয় স্বার্থে ব্যবহার করায় পুরো বাহিনী ধ্বং’সের পথে গেছে বলে মন্তব্য করেছেন বিভিন্ন পেশাজীবী ও বিশ্লেষকরা।
জাতীয় প্রেস ক্লাবের তফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া হলে শনিবার অনুষ্ঠিত ‘বাংলাদেশ পুলিশ সংস্কার : প্রেক্ষিত নাগরিক ভাবনা’ শীর্ষক গোলটেবিল বৈঠকে এ সব কথা উঠে আসে। অনুষ্ঠানটি আয়োজন করে বাংলাদেশ অবসরপ্রাপ্ত পুলিশ কর্মকর্তা কল্যাণ সমিতি।
বৈঠকে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন অবসরপ্রাপ্ত ডিআইজি ড. মো. মতিয়ার রহমান। সভাপতিত্ব করেন কল্যাণ সমিতির সভাপতি ডিআইজি (অব.) এম আকবর আলী। স্বাগত বক্তব্য দেন সাবেক আইজিপি আশরাফুল হুদা। মুখ্য আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন দৈনিক আমার দেশ পত্রিকার সম্পাদক ও প্রকাশক মাহমুদুর রহমান।
মাহমুদুর রহমান বলেন, পুলিশের আজকের ভয়াবহ ভাবমূর্তির জন্য দা’য়ি কোনো নির্দিষ্ট ব্যক্তি নয়—এর জন্য দায়ী ফ্যা’সি’স্ট শা’সনব্যবস্থা। তিনি বলেন, একটি প্রথাগত গণতন্ত্রকে ধ্বংস করে শত বছরের ফ্যা’সি’বাদী শা’সন কায়েম করা হয়েছে বিদেশি সহযোগিতায়—যার ফলে পুলিশ আজ এমন অবস্থায়।
সাবেক ডিআইজি এম আকবর আলী বলেন, আগামী নির্বাচন অবাধ ও নিরপেক্ষ করতে হলে সেটি পরিচালনার জন্য মূল ভরসা হবে পুলিশ। কিন্তু আজ পুলিশের মনোবল বলে কিছু নেই। তাই অবিলম্বে পুলিশ বাহিনীর মানসিক ও নৈতিক শক্তি ফিরিয়ে আনতে হবে।
সাবেক আইজিপি আশরাফুল হুদা বলেন, অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা সঠিকভাবেই বলেছেন—নতুন বাংলাদেশ গড়তে হলে পুলিশকে পূর্ববর্তী অন্ধকার চিন্তা থেকে বেরিয়ে এসে জনবান্ধব রূপে গড়ে তুলতে হবে। পুলিশ খারাপ ছিল না, বরং খারাপ লোকেরা পুলিশের গায়ে দাগ লাগিয়েছে—এটাই এখন তুলে ধরতে হবে।
সাবেক বিচারপতি ফরিদ আহমেদ বলেন, গত ১৫ বছরে পুলিশ একটি নির্দিষ্ট দলকে বিশেষ সেবা দিয়েছে, জনগণকে নয়। যদিও এটি বাহিনীর ইচ্ছা ছিল না, কিছু উচ্চপদস্থ কর্মক’র্তা নিজেদের স্বার্থে পুরো বাহিনীকে ব্যবহার করেছে।
মেজর জেনারেল (অব.) ফজলে ইলাহি আকবর বলেন, দেশে অনেক মডেল থানা, বড় বড় ভবন হলেও সাধারণ মানুষ সেবা পাচ্ছে না। এ কারণেই জুলাইয়ের গণ-অভ্যুত্থানের সময় জনগণের ক্ষো’ভ ছিল পুলিশের প্রতি।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক ড. বোরহান উদ্দিন খান বলেন, নতুন আইন করার দরকার নেই, বরং বিদ্যমান আইন সঠিকভাবে প্রয়োগ করলেই পুলিশকে দায়মুক্ত রাখা সম্ভব।
বিএনপির তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক আজিজুল বারী হেলাল বলেন, শে’খ হা’সিনা পুলিশ বাহিনীর মেরুদণ্ড ভেঙে দিয়েছেন। রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে দ’মন করতে তিনি পুলিশকে হাতিয়ার বানিয়েছেন। এ কারণেই জনগণের চোখে পুলিশ গণ’শ’ত্রুতে পরিণত হয়েছিল।
খেলাফত মজলিসের সাধারণ সম্পাদক ড. আহমেদ আব্দুল কাদের বলেন, স্বাধীনতার পর থেকেই প্রত্যেক সরকার পুলিশকে নিজেদের রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহার করেছে। এই সাংস্কৃতিক প্রবণতা বন্ধ না হলে পুলিশ কখনোই প্রকৃত অর্থে জনবান্ধব হতে পারবে না।
এ ছাড়া আলোচনায় অংশ নেন—স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সাবেক সচিব এসএম জহুরুল ইসলাম, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ড. মোহাম্মদ কামরুল আহসান, সরকার ও রাজনীতি বিভাগের অধ্যাপক ড. তারিকুল ইসলাম, রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক শরীফুল ইসলাম, এবি পার্টির সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদ এবং পুলিশ সংস্কার কমিশনের ছাত্র প্রতিনিধি জারিফ রহমান।
বক্তারা বলেন, ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থান একটি সুযোগ তৈরি করেছে—পুলিশ বাহিনী যদি চায়, তারা সেই অ’ন্ধ’কা’রের যুগ থেকে বেরিয়ে এসে জনগণের প্রকৃত বন্ধু হিসেবে নিজেকে গড়ে তুলতে পারে। এজন্য প্রয়োজন হবে গঠনমূলক সংস্কার, রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ বন্ধ এবং নৈতিক নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠা।