মাদরাসা ও সমাজ: পরিপূরক দ্বীনী সম্পর্কের পুনর্জাগরণ – শায়খ মুফতী হাফীজুদ্দীন - দিগন্ত জার্নাল

মাদরাসা ও সমাজ: পরিপূরক দ্বীনী সম্পর্কের পুনর্জাগরণ – শায়খ মুফতী হাফীজুদ্দীন

দিগন্ত জার্নাল ডেস্ক:

বৃহস্পতিবার, ২৪ জুলাই ২০২৫ | মাদরাসা হলো দ্বীন রক্ষার কেন্দ্র। এটি কেবল কিতাবি শিক্ষার প্রতিষ্ঠান নয়, বরং সমাজের আত্মিক পরিশুদ্ধি, নৈতিক উৎকর্ষ এবং ঈমানি রূহানিয়াত ফিরিয়ে আনার অন্যতম মাধ্যম। একটি সমাজ সত্যিকার অর্থে দ্বীনের আলোয় আলোকিত তখনই হতে পারে, যখন মাদরাসা ও এলাকার জনগণ পরস্পরের পরিপূরক হয়ে দাঁড়ায়।

শুধু মাদরাসা প্রতিষ্ঠা করা বা অর্থ দিয়ে চলমান রাখা এলাকাবাসীর দায়িত্বের শেষ নয়; বরং মাদরাসা তখনই একটি পূর্ণাঙ্গ দ্বীনি প্রতিষ্ঠান হয়ে ওঠে, যখন তা জনগণের আখলাক, দ্বীনি চেতনা, ও সামাজিক জ্ঞানে ইতিবাচক প্রভাব ফেলে।

লোকজন নিজের কষ্টার্জিত অর্থ দিয়ে মাদরাসা পরিচালনায় অংশ নেয় – এটি নিঃসন্দেহে বড় খিদমত। কিন্তু মাদরাসার পক্ষ থেকেও এলাকাবাসীর নৈতিক চরিত্র, ব্যবসায়িক লেনদেন, ইবাদত-বন্দেগি ও সামাজিক জীবন সংশোধনের দায়িত্ববোধ থাকা উচিত। এই সম্পর্ক একমুখী নয়, বরং দ্বিমুখী হওয়া প্রয়োজন।

মাদরাসার উস্তাদ ও ছাত্ররা যেন কেবল চার দেয়ালের মধ্যে সীমাবদ্ধ না থাকেন। বরং তারা এলাকার মানুষের মাঝে গিয়ে ঈমান, নামায, সুন্নাত, ইনসাফ, সততা ও দ্বীনদারির দাওয়াত পৌঁছে দেন। সপ্তাহে একদিন মাদরাসার মুহতামিম দায়িত্ব নিয়ে ছাত্রদের ছোট ছোট তাবলিগি জামাতে ভাগ করে এলাকার বিভিন্ন মসজিদে প্রেরণ করলে, একদিকে ছাত্রদের আত্মিক গঠন হবে, অন্যদিকে এলাকাবাসীও মাদরাসা থেকে আমলী ফায়দা লাভ করবে।

আজকের ছাত্ররা ঘর-সংসার, আরাম-আয়েশ, খেলাধুলা ত্যাগ করে মাদরাসার কঠিন মেহনতের পথে এসেছে। খেলনার বদলে হাতে কিতাব, ঘুমের বদলে তাহাজ্জুদের স্বপ্ন আর অবসরের বদলে আত্মত্যাগকে বেছে নিয়েছে। এদের শুধু পড়িয়ে দিলেই দায়িত্ব শেষ হয় না; বরং ভালোবাসা, স্নেহ ও মোহাব্বতের মাধ্যমে গড়ে তোলা ওস্তাদদের নৈতিক দায়িত্ব।

একজন ওস্তাদ যদি ছাত্রের হক আদায় করে, তবে সেই ছাত্রও ওস্তাদকে হৃদয়ের গভীর থেকে ভালোবাসবে এবং তার জন্য নিজেকে উৎসর্গ করতেও প্রস্তুত থাকবে।

দ্বীন কেবল কিতাবের পৃষ্ঠায় সীমাবদ্ধ নয় – তা মানুষের জীবনব্যবস্থার প্রতিটি পরতে বিস্তৃত। মাদরাসার উদ্দেশ্য হওয়া উচিত আত্মিক ও নৈতিক উন্নয়নের আলোকবর্তিকা হয়ে সমাজকে বদলে দেওয়া। যেখানে ছাত্র থাকবে ওস্তাদের ছায়ায়, ওস্তাদ থাকবে এলাকার সহযোগিতায় আর মাদরাসা থাকবে জাতির নৈতিক পুনর্গঠনের পথপ্রদর্শক হয়ে।

an adbox will go here